শনিবার, অক্টোবর ১, ২০২২
- বিজ্ঞাপন -

ব্র্যাক ব্যাংক ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স একাউন্ট

আসসালামু আলাইকুম, উড্ডয়নে আপনাকে স্বাগতম!
কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন।

আজ আমরা কথা বলবো ব্র্যাক ব্যাংকের ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স একাউন্ট সম্পর্কে।

গত বছর (২০২১ সালের শেষের দিকে) ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড “ফ্রিল্যান্সারদের” জন্য তাদের নতুন একটি প্রোডাক্ট “ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স একাউন্ট” সার্ভিস চালু করেছে। ফলে এখন থেকে সকল ভ্যালিড ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার করতে পারবে। সাথে আমাদের দেশের সম্ভাবনাময় এই (ফ্রিল্যান্সিং) খাতের পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ আরো বেশী প্রসারিত হবে।
ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স একাউন্ট-টি মূলত একটি ইআরকিউ (এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা) একাউন্ট সলিউশন।

প্রথমে আমরা ইআরকিউ একাউন্টের বিষয়ে জেনে নেইঃ যারা আন্তর্জাতিক ভাবে বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য সামগ্রী আমদানি বা রপ্তানির সাথে জড়িত এই ইআরকিউ একাউন্ট মূলত তাদের জন্য আবার যারা ফ্রিল্যান্সিং / আউটসোর্সিং-এর আয় রপ্তানি (এক্সপোর্ট) আয় হিসেবে আয়কর ফাইলে নথিভূক্ত করতে ইচ্ছুক বা তার আয়ের একাংশ অন্য কোন দেশে ব্যবসা / বাক্তিগত প্রয়োজনে বিনিয়োগ বা খরচ করতে চায়, তাদের জন্যই এই ইআরকিউ (এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা) একাউন্ট। আপনি যদি বৈধভাবে কোন ডলার অন্য কোন দেশে প্রেরণ করতে বা খরচ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি বা ছাড়পত্র নিতে হবে; কিন্তু আপনার যদি একটি ইআরকিউ (এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা) একাউন্ট থাকে তাহলে আপনার একাউন্টে থাকা ডলার / অর্থ খরচ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোন ধরনের অনুমতি বা ছাড়পত্র নেয়ার প্রয়োজন হয় না।

এই বিশেষ একাউন্ট (ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স একাউন্ট) চালুর উদ্যোগটি দেশের প্রায় ৬.৫০ লাখেরও বেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। এর ফলে তারা এখন ঝামেলা বিহীন ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা পাবেন। ‘ব্র্যাক ব্যাংক ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স একাউন্ট’ -এর সাথে একটি ইন্টারন্যাশনাল ভিসা ডেবিট কার্ড পাবেন, আপনি আপনার ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স একাউন্ট -এর মাধ্যমে মার্কিন ডলারে বৈদেশিক আয় গ্রহণ করতে পারবেন। আপনি চাইলে এর সাথে লিংকড সেভিংস / ট্রানজেকশনাল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই অর্থ সহজে বাংলাদেশি টাকায়ও কনভার্ট করতে পারবেন।

এই একাউন্ট ‘ব্র্যাক ব্যাংক ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স একাউন্ট’- চালুর ফলে ফ্রিল্যান্সার পেশাজীবীদের বৈদেশিক মুদ্রায় আয়, গ্রহণ ও দৈনন্দিন লেনদেন সম্পন্ন করা আরও সহজ হবে। সহজ ব্যাংকিং সলিউশনের ফলে উদীয়মান ফ্রিল্যান্সিং খাত লাভবান হবে এবং এটি এই (ফ্রিলান্সিং) খাতের উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তাই বলা যায়, যারা আউটসোর্সিং / ফ্রিলান্সিং থেকে প্রাপ্ত আয় রপ্তানি (এক্সপোর্ট) আয় হিসাবে না দেখিয়ে সেই আয়কে সরাসরি রেমিটেন্স হিসাবে গ্রহণ করে সেই অর্থ অন্য কোন দেশে (বিদেশে) বাক্তিগত বা ব্যবসায়ের প্রয়োজনে বিনিয়োগ / খরচ করে তাদের জন্য এই একাউন্ট খুব উপকারী।

যে কোন আউটসোর্সিং / ফ্রিলান্সিং পেশাজীবী বাক্তি এই (ইআরকিউ) একাউন্ট করতে পারবে; আর যাদের অনলাইনে সংশ্লিষ্ট কাজের প্রয়োজনে (যেমনঃ অনলাইন মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে অ্যাডভারটাইজিং এ অনেক বড় পরিমানে ইনভেস্ট বা ব্যয় করতে হয় / এমন আরও অনেক কাজ আছে) বেশি পরিমাণে টাকা বিদেশে পাঠাতে হয় বা সার্ভিস কেনা লাগে, তাদের জন্য মূলত এই অ্যাকাউনন্টের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।

এতক্ষন আমরা ইআরকিউ একাউন্ট এর ব্যাপারে জানলাম এবার দেখি ব্র্যাক ব্যাংকের “ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স একাউন্ট” সার্ভিস এর কিছু বৈশিষ্ট্যঃ

  • এই একাউন্ট করতে কোন টাকা লাগে না মানে কোন টাকা ডিপোজিট না করেই ইআরকিউ একাউন্ট খোলা যায়।
  • ব্যাংক এর ব্রাঞ্চ / ইন্টারনেট ব্যাংকিং / কল সেন্টার / এসএমএস ও ই-স্টেটমেন্ট থেকে খরচ এর বিবরণ জানতে পারবেন।
  • ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট কার্ড এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের যে কোন ভিসা ব্রান্ডের এটিএম বুথ ব্যবহার করে নগদ টাকা তুলতে পারবেন, অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারবেন এবং ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে বাংলাদেশী টাকা তুলতে পারবেন।
  • একটি ডলার কারেন্সির ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট কার্ড পাবেন।
  • ইআরকিউ একাউন্টের সাথে যেই ম্যাট্রিক্স কার্ড পাবেন তাতে সবসময় ইউএস ডলার থাকবে, যা আপনি যে কোন দেশে ব্যবহার করতে পারবেন। (এই কার্ড এনডোর্স করতে হবে না)।
  • আপনি যদি বাহির (অন্য দেশ) থেকে ডলার গ্রহন করেন সেই ডলার এর ৩০-৬৫% ভাগ আপনার ইআরকিউ একাউন্টে ডলার হিসেবে জমা হবে আর বাকি ৬৫-৩০% আপনার সেভিংস একাউন্টে বাংলাদেশী টাকায় জমা হবে, যদি ব্র্যাক ব্যাংকে আপনার আগের কোন সেভিংস একাউন্ট না থাকে তাহলে এই ইআরকিউ একাউন্ট খোলার সময় ব্যাংক আপনাকে একটি ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স সেভিংস একাউন্ট খুলে দিবে। এই একাউন্টের সাথে একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড পাবেন যা আপনার পাসপোর্টে এনডোর্স করার মাধ্যমে সারা বিশ্বে ব্যাবহার করতে পারবেন।
  • ধরুন আপনি কোন মার্কেটপ্লেস থেকে ১০০ ডলার আপনার ইআরকিউ একাউন্টে গ্রহন করলেন, এই ১০০ ডলার থেকে আপনার ইআরকিউ একাউন্টে থাকবে ৬৫% এর ৬৫ ডলার আর বাকি ৩৫% বাংলাদেশী টাকায় কনভার্ট হয়ে আপনার সেভিংস বা ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স সেভিংস একাউন্ট-এ জমা হবে। তবে ১০ ডলারের নীচে কোন ডলার আসলে তা অটো বাংলা টাকায় কনভার্ট হয়ে ইআরকিউ থেকে সরাসরি সেভিংস একাউন্টে জমা হবে।

এখন বলতে পারেন আমি উপরে ৬৫-৩০% বলেছি কেনো!!
এইটার উত্তর হচ্ছে ইআরকিউ একাউন্টে ফরেন পার্টে কত পার্সেন্ট থাকবে তা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করে দেয় তাই এই পার্সেন্টেজ উঠানামা করে, আর বর্তমান পার্সেন্টেজ হচ্ছে ৩৫%, মানে এখন যদি আপনি আপনার ইআরকিউ একাউন্টে ১০০ ডলার আনেন তাহলে ৩৫% এর ৩৫ ডলার থাকবে ইআরকিউ একাউন্টে আর বাকি ৬৫% লোকাল টাকায় কনভার্ট হয়ে সেভিংস একাউন্টে চলে যাবে।

এবার দেখি ইআরকিউ একাউন্টের সুবিধা কি কিঃ

  • এই একাউন্টের সাথে ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট কার্ড পাবেন, যাতে পাসপোর্ট এনডোর্স এর প্রয়োজন নেই।
  • এই ডেবিট কার্ড দিয়ে সিঙ্গেল ট্রানজেকশন এ ১,০০০ ডলার এর কেনাকাটা / বিদেশে খরচ করতে পারবেন।
  • এই কার্ড দিয়ে দিনে সর্বচ্চ ১০,০০০ হাজার ডলার খরচ করতে পারবেন (১,০০০ ডলার করে ১০ বারে)।
  • একাউন্ট ম্যান্টেইনেন্স খরচ নাই (মানে ০.০০ ডলার)।
  • প্রথম বছর ফ্রি ইউএসডি কারেন্সির ডেবিট কার্ড পাবেন।
  • ইউএসডি ও বিডিটি উভয় কারেন্সি গ্রহন করতে পারবেন।
  • ইউএসডি থেকে বিডিটি কনভার্ট করলে মোটামুটি ভালো রেট পাবেন।
  • ইউএসডি কার্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক লেনদেন -এ অতিরিক্ত কোন চার্জ নাই।
  • ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা অ্যাপ দিয়ে সহজে লেনদেন করতে পারবেন।
  • আপনি চাইলে ইউএসডি থেকে বাংলাদেশী টাকায় কনভার্ট করতে পারবেন।
  • প্রতিদিন এটিএম বুথ থেকে ১,০০,০০০/- টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। (ডলার থেকে অটোমেটিক টাকায় কনভার্ট হোয়ে যাবে)
  • ওয়্যার ট্রান্সফার / সুইফট ট্রান্সফার এর মাধ্যমে একাউন্টে ডলার অ্যাড করতে পারবেন।

ইআরকিউ একাউন্টের কিছু চার্জঃ

  • একাউন্ট ম্যান্টেইনেন্স খরচ – ০.০০ ডলার।
  • ডেবিট কার্ডের বাৎসরিক চার্জ – ১০ ডলার।
  • অন্য দেশের (বাহিরের দেশ) এটিএম থেকে টাকা তুলতে চার্জ – প্রতিবার ৩ ডলার।
  • কার্ড হারিয়ে গেলে / নষ্ট হলে রিপ্লেস চার্জ – ১০ ডলার।
  • পিন ভুলে গেলে রি-ইসু করতে চার্জ – ২ ডলার।

এবার দেখি ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স সেভিংস একাউন্টের সার্ভিস এর কিছু বৈশিষ্ট্যঃ

  • এই একাউন্ট খুলতে মাত্র ৫০০/- টাকা ডিপোজিট করা লাগে।
  • এই একাউন্টে রাখা টাকার উপর প্রতি মাসে অন্য সব সেভিংস একাউন্ট থেকে মোটামুটি বেশি (ভালো) ইন্টারেস্ট পাবেন।
  • ব্যাংক এর ব্রাঞ্চ / ইন্টারনেট ব্যাংকিং / কল সেন্টার / এসএমএস ও ই-স্টেটমেন্ট থেকে খরচ এর বিবরণ জানতে পারবেন।
  • এই একাউন্টের সাথে থাকা ডেবিট কার্ড দিয়ে লেনদেন করলে রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাবেন।
  • প্রতিদিন এটিএম বুথ থেকে ৩,০০,০০০/- টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

এবার দেখি ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স সেভিংস একাউন্টের সুবিধা কি কিঃ

  • নির্দিষ্ট পরিমান লেনদেন করলে / মেইন্টেনেন্স ব্যাল্যান্স থাকলে বাৎসরিক একাউন্ট মেইন্টেনেন্স চার্জ ও ডেবিট কার্ড চার্জ ফ্রি।
  • একাউন্ট ০.০০ করা যায়, মানে কোন মিনিমাম মেইন্টেনেন্স ব্যাল্যান্স রাখা লাগে না।
  • কাউন্টার নেলনেদ এ কোন চার্জ নেই।
  • আপনি চাইলে এই একাউন্টের সাথে চেকবই নিতে পারবেন।
  • আপনার জমা করা টাকার ইন্টারেস্ট প্রতি মাসেই একাউন্টে পেয়ে যাবেন।

এবার দেখে নেই কিভাবে “ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স একাউন্ট” খুলবেনঃ

  • প্রথমেই বলে রাখি “ফ্রিল্যান্সার ম্যাট্রিক্স একাউন্ট” শুধুমাত্র ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান ব্রাঞ্চ থেকে খুলতে হয়, তাই লোকাল ব্রাঞ্চে না গিয়ে সরাসরি গুলশান ব্রাঞ্চে গেলে দ্রুত সার্ভিস পাবেন।
  • একটি ইআরকিউ, আরেকটি রেগুলার একাউন্ট ফরম – ব্যাংক থেকে দিবে।
  • ফাটকা ফরম – ব্যাংক থেকে দিবে।
  • কেওয়াইসি ফরম – ব্যাংক থেকে দিবে।
  • আপনার, নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট এর কপি।
  • আপনার ১২ ডিজিট (ই) টিন।
  • আপনার ২ কপি ও আপনার আপনার নমিনির ১ কপি ছবি। (দুই একাউন্টের জন্য ডাবল ছবি লাগবে, যদি ব্র্যাক ব্যাংকে আগের একাউন্ট থাকে তাহলে আর রেগুলার একাউন্ট খোলা লাগবে না)।
  • ঠিকানা যাচাই এর জন্য পানি/গ্যাস/বিদ্যুৎ/টেলিফোন/পোস্টপেইড মোবাইল এর বিল কপি।
  • আপনি যে ফ্রিলান্সিং করেন তার প্রমানপত্র (কাজের স্কিন সর্ট প্রিন্ট দিয়ে নিয়ে যেতে হবে)।
  • বাংলাদেশ সরকারের দেয়া ফ্রিলান্সিং আইডি কার্ড এর কপি ও মূল আইডি কার্ড।
  • গত এক বছরের (অর্থবছরঃ জুলাই ০১ – জুন ৩১) রেমিট্যান্স সার্টিফিকেট ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • এছাড়াও ব্যাংক আপনার থেকে অন্য যে কোন তথ্য / ডকুমেন্ট চাইতে পাবে।

বিস্তারিত জানতে ব্র্যাক ব্যাংকের হেল্পলাইনঃ ১৬২২১ / +৮৮০৯৬১১২২৩৩৪৪ / ০৮০০০০১৬২২১ (টোল ফ্রি) নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।

আজকের মত এই পর্যন্তই সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, এই দোয়া রইলো…
আল্লাহ্‌ হাফেজ।

- বিজ্ঞাপন -
সম্পর্কিত পোস্টগুলো
- বিজ্ঞাপন -

জনপ্রিয় পোস্টগুলো

- বিজ্ঞাপন -