- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ইংরেজ শাসন আমলে বাংলায় প্রতিরোধ, নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন নারীশিক্ষার একজন প্রবর্তক, সমাজসেবক ও লেখক। তিনি কুমিল্লার হোমনাবাদ পরগনার (বর্তমান লাকসাম) পশ্চিমগাঁও-এ ১৮৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার। পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তিনি শিক্ষা লাভ করেন। ফয়জুন্নেছা বাংলা ভাষা ছাড়াও আরবি, ফারসি ও উর্দু ভাষায় বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন।
ফয়জুন্নেছা একজন বিচক্ষণ, কর্মদক্ষ ও বুদ্ধিমতি নারী ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি পশ্চিমগাঁও-এর জমিদারি লাভ করেন। মা আরাফান্নেছার মৃত্যুর পর মাতুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে তিনি বিশাল জমিদারির অধিকারী হন। তিনি সফলভাবে এই জমিদারি পরিচালনা করে বিশেষ খ্যাতি লাভ করে। ফয়জুন্নেছা একজন প্রজাবৎসল জমিদার ছিলেন। তিনি নারীশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ১৮৭৩ সালে কুমিল্লায় একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এটি ভারত উপমহাদেশে বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম। কালক্রমে এটি একটি কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং এর নামকরণ করা হয় নবাব 'ফয়জুন্নেছা কলেজ'। দরিদ্র নারীদের চিকিৎসার জন্য তিনি নিজ গ্রামে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। তিনি 'ফয়জুন্নেছা জেনানা হাসপাতাল' নামে একটি চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। এছাড়াও তিনি নিজ জমিদারি এলাকার বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও মাদ্রাসা ইত্যাদি নির্মাণেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ, দিঘি-পুষ্করিণী খনন প্রভৃতি জনহিতকর কাজে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
ফয়জুন্নেছার সৃজনশীল প্রতিভার দিকটি নিহিত আছে তাঁর সাহিত্যকর্মে। তিনি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস রূপজালাল ছাড়াও তত্ত্ব ও জাতীয় সংগীত, সংগীত সার ও সংগীত লহরী নামক গ্রন্থ রচনা করেন। ফয়জুন্নেছা সমকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাময়িকীর পৃষ্ঠপোষকতা করেন। বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃতি পত্র-পত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
নারীশিক্ষার প্রসার ও জনহিতৈষী কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে ফয়জুন্নেছাকে 'নবাব' উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই ভারতবর্ষের প্রথম নারী যিনি এই সম্মানজনক উপাধি লাভ করেন। ১৯০৩ সালে নিজ গ্রামে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীকে 'একুশে পদক' (মরণোত্তর) প্রদান করে সম্মান জানায়।
ইংরেজ শাসন আমলে বাংলায় প্রতিরোধ, নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

