• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি

বাংলাদেশ পলি গঠিত একটি আর্দ্র অঞ্চল। উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বের সামান্য পাহাড়ি অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাংশের সীমিত উঁচুভূমি ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি বড়ো নদী গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার অববাহিকায় বাংলাদেশ অবস্থিত। এ দেশের ভূপ্রকৃতি নিচু ও সমতল।

ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা

এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫) অতিক্রম করেছে। পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত। বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি. বা ৫৬, ৯৭৭ বর্গমাইল।

চিত্র ৪.১: বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ

ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের শ্রেণিবিভাগ ও গঠন

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ। বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে গেছে অসংখ্য নদ-নদী। এগুলোর মধ্যে পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যা, কর্ণফুলী ইত্যাদি প্রধান। বাংলাদেশের ভূখন্ড উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে অবস্থিত। ফলে এসব নদ-নদী, উপনদী ও শাখা নদীগুলো উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অভিমুখে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাংশের পাহাড়িয়া অংশ ব্যতীত প্রায় সমগ্র দেশটিই এসব নদ-নদীর পলি দ্বারা গঠিত সমভূমি। বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।

বাংলাদেশের সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে। ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ ও সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ: বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত। আজ থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন বছরেরও আগে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা-দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম তাজিওডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার। এটি বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হচ্ছে কিওক্রাডং, যার উচ্চতা ১,২৩০ মিটার। এ ছাড়া এ অঞ্চলের আরও দুটি উচ্চতর পাহাড়চূড়া হচ্ছে- মোদকমুয়াল (১,০০০ মিটার) ও পিরামিড (৯১৫ মিটার)। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাথর, কর্দম ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। এ পাহাড়গুলোর উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়। উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর মধ্যে চিকনাগুল, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া প্রধান।

প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি: বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। এই সময়ের আন্তঃবরফ গলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়। নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে মধুপুর ও ভাওয়ালের সোপানভূমি গঠিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ৩০ মিটার। মাটির রং লালচে ও ভারত C ধূসর। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন ৩৪ বর্গকিলোমিটার। এই পাহাড়ের গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে এবং মাটি নুড়ি, বালি ও কংকর মিশ্রিত।

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি: বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদীবিধৌত এক বিস্তৃীর্ণ সমভূমি। সমতল ভূমির উপর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হওয়ার কারণে এখানে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর এভাবে বন্যার পানির সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূমি খুবই উর্বর। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন- দেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থান, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের অংশবিশেষ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার অধিকাংশ এলাকা চিত্র ৪.৩: ভূপ্রকৃতির বিস্তৃতির পরিমাণ এবং কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার পূর্বদিকের সামান্য অংশ নিয়ে এ সমভূমি গঠিত। এছাড়াও চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অধিকাংশ এবং লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার কিছু অংশ জুড়েও এ সমভূমি বিস্তৃত। হিমালয় পর্বত থেকে আনীত পলল দ্বারা এ অঞ্চল গঠিত। ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি গঠিত। নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল হলো উপকূলীয় সমভূমি। খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি গঠিত। বাংলাদেশের এ অঞ্চলগুলোর মাটি খুব উর্বর বলে কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির গঠন, জনসংখ্যা ও জনবসতি

জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে বাংলাদেশের স্থান অষ্টম ভূখণ্ডের তুলনায় এদেশের জনসংখ্যার ঘনত্বও খুব বেশি। তাছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও বেশি। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৪.৯৭কোটি, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭% এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১০১৫ জন। জনশুমারি-২০২২ অনুসারে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬.৯৮ কোটি, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২% এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১১১৯ জন। ভূপ্রকৃতির গঠনের বিভিন্নতার কারণে এদেশে অঞ্চলভেদে জনসংখ্যার ঘনত্বের পার্থক্য দেখা যায়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিতে তেমন কোনো পার্থক্য না থাকাতে মোটামুটি সব জায়গায় জনবসতি রয়েছে। তবে পার্বত্য এলাকা এবং সুন্দরবন অঞ্চলে জীবিকা সংস্থান কষ্টসাধ্য হওয়ায় এ দুটি অঞ্চলে জনবসতির ঘনত্ব খুবই কম। এসব অঞ্চলে ভালো রাস্তা-ঘাট বা রেল সংযোগ উপযুক্ত পরিমাণে না থাকায় জীবিকার সংস্থানও কষ্টকর। অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, বনভূমি ও ভূপ্রকৃতিগত কারণে এ সকল স্থান জনবিরল।

সমতল নদী অববাহিকা অঞ্চল উর্বর পলিমাটি দ্বারা সৃষ্ট। এ অঞ্চলে কৃষি আবাদ অনেকটা সহজসাধ্য। ফলে এসব অঞ্চলে ঘন জনবসতি গড়ে উঠতে দেখা যায়। এসব অঞ্চলের নদীগুলো নাব্য, সড়কপথ ও রেলপথে যোগাযোগের সুযোগ সুবিধা জনজীবনকে আকৃষ্ট করে। তাছাড়া জলবায়ুর প্রভাবের কারণেও জনবসতির বণ্টন নিয়ন্ত্রিত হয়। চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর চেয়ে সমভাবাপন্ন জলবায়ুতে মানুষ বসবাস করতে বেশি পছন্দ করে। বাংলাদেশে সব জায়গায় আবহাওয়া প্রায় একই রকম। তবে এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আবহাওয়ায় শীত-গ্রীষ্মের তারতম্য কিছু বেশি উপলব্ধি হয়। কৃষির অনুকূল জলবায়ু চাষাবাদ এবং শস্য উৎপাদনের সহায়ক বলে সমভূমি মানুষের বসবাসকে আকৃষ্ট করে।

বাংলাদেশে যেসব অঞ্চলে খনিজ সম্পদ পাওয়া গেছে সে সব অঞ্চলে জীবিকার সন্ধানে বহু শ্রমিক ও কর্মচারী জড়ো হয়ে এলাকাটিকে ঘনবসতিপূর্ণ করে তুলেছে। খনিজসম্পদ, কৃষিজসম্পদ ও বনজসম্পদ এবং প্রাণিজসম্পদকে কেন্দ্র করে জনবসতি গড়ে উঠেছে। এসব স্থানে প্রধান শিল্পের সঙ্গে ক্রমেই বহু প্রকার আনুষঙ্গিক শিল্প স্থাপিত হয়েছে। শিল্প বাণিজ্যের অগ্রগতি বৃদ্ধি পাওয়াতে প্রধান শিল্পকে ভিত্তি করে এ সমস্ত অঞ্চল জনবহুল স্থানে পরিণত হয়েছে। তেজগাঁও, টঙ্গী, নরসিংদী, খুলনা, চট্টগ্রাম প্রভৃতি স্থানে শিল্প শহর গড়ে ওঠায় এ স্থানগুলোতে জনবসতি ঘন। সড়ক রেলপথ অথবা নদীপথে উন্নত চলাচলের সুযোগ থাকলে বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা সহজ হয়। ফলে স্থানটি জনবহুল অঞ্চলে পরিণত হয়।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি আজকের যুগের মানুষকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। যেসব অঞ্চলে শিক্ষা-দীক্ষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি প্রভৃতির অনুশীলন ও চর্চার সুযোগ বেশি, সেসব স্থানে জনবসতি স্বাভাবিক কারণেই বেশি হয়।

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারে জনবসতি বিস্তারের প্রভাব

বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এদেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জনবসতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদেশে প্রয়োজনের তুলনায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ অনেক কম। অধিক বসতি বিস্তারের ফলে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ আরও কমে গিয়ে ভূমির উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। আমাদের দেশে এ জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষিজমির ওপর অব্যাহত চাপ পড়ছে। চাপ পড়ছে বাড়িঘর নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জমির ওপর। বস্তুত বাংলাদেশে ইতোমধ্যে গ্রাম এবং শহরে বাসস্থান সমস্যা দেখা দিয়েছে। পক্ষান্তরে কৃষি জমিগুলো উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হতে হতে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাচ্ছে। আর এ খণ্ডিত জমিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেও চাষাবাদ হয় না। জনবসতি বৃদ্ধির জন্য বহু আবাদি জমিতে ঘরবাড়ি বানানো হচ্ছে। ৩০ বছর আগে যে পরিবারের জমির পরিমাণ ছিল ১০০ বিঘা তার পরিমাণ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১০ বিঘা বা তার চেয়েও কম। ১৯৭৪ সালে মাথাপিছু জমির পরিমাণ ছিল ০.২৮ একর এবং বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ০.২৫ একর। ভবিষ্যতে এর পরিমাণ আরও হ্রাস পাবে। জনসংখ্যার আধিক্য এবং জনবসতি বিস্তারের প্রয়োজনীয়তায় মানুষ এখন ভূমির স্বাভাবিক প্রকৃতি ও ব্যবহারকে বদলে দিয়েছে। খাল-বিল ভরাট করে, বনজঙ্গল কেটে মানুষ এখন বসতি গড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে।

পূর্ববর্তী

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু - অনন্যা প্রশ্ন

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিবাংলাদেশের জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগবাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোন জেলায় অবস্থিত?বাংলাদেশের জলবায়ু কেমন?বাংলাদেশের জলবায়ুর ওপর কোন বায়ুর প্রভাব খুব বেশি?বাংলাদেশ কত ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত?বাংলাদেশ কত ডিগ্রি দ্রাঘিমায় অবস্থিত?বাংলাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি কেমন?বাংলাদেশের মোট আয়তন কত বর্গমাইল?বাংলাদেশের ভূ-খন্ড কোন দিক হতে কোন দিকে ক্রমশ ঢালু?হিমালয় পর্বত কখন উত্থিত হয়?বাংলাদেশের মোট ভূমির কত ভাগ টারশিয়ারি যুগের?টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের গড় উচ্চতা কত?কোনটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম?বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বিজয়ের উচ্চতা কত?বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোন জেলায় অবস্থিত?বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?কোনটি সর্বনিম্ন পাহাড় চূড়া?উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে কী নামে পরিচিত?বরেন্দ্রভূমি কোন সময়ে গঠিত হয়?বরেন্দ্রভূমির আয়তন কত?মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়ের আয়তন কত?লালমাই পাহাড়ের আয়তন কত বর্গ কি. মি.?লালমাই পাহাড়ের গড় উচ্চতা কত?বাংলাদেশের ভূমির কত ভাগ প্লাবন সমভূমি?বাংলাদেশের প্লাবন সমভূমির আয়তন কত?১৯৭৪ সালে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কত ছিল? বাংলাদেশে ঋতু ভিন্নতার কারণ কী?জানুয়ারি মাসে 'বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?বাংলাদেশের কোন ঋতুতে কালবৈশাখী হয়?'North Westerlies'-এর অর্থ কী?বাংলাদেশে বর্ষাকাল শুরু হয় কখন?বর্ষাকালের গড় উষ্ণতা কত?বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাতের শতকরা কতভাগ বর্ষাকালে হয়?বাংলাদেশের কোন জেলায় তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টিপাত হয়?কোন মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়?যখন বাংলাদেশে শীতকাল তখন সূর্য কোন গোলার্ধে থাকে?শীতকালে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে?শীতকালে সূর্য রশ্মি বাংলাদেশের উপর কীভাবে পড়ে?ঢাকায় জানুয়ারি মাসের গড় তাপমাত্রা কত?বাংলাদেশের উষ্ণতম ঋতু কোনটি?গ্রীষ্মকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত?বর্ষাকালে ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কয়টি শাখায় -বিভক্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করে?বর্ষাকালে ভারতে মোট বৃষ্টিপাতের কত ভাগ সংঘটিত হয়? পশ্চিমবঙ্গে আশ্বিনা ঝড় হয় কখন?আশ্বিনা ঝড় কোন দেশে দেখা যায়?মিয়ানমারের জলবায়ু কেমন?মে মাসে কলকাতা শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সে. পর্যন্ত উঠে?মিয়ানমারের জলবায়ুতে কয়টি ঋতুর চিত্র স্পষ্ট?মিয়ানমারে কোন ঋতুতে দেশের অধিকাংশ স্থান অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে? মান্দালয়ের গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা কত?গ্রীষ্মকালে মিয়ানমারের গড় তাপমাত্রা কত?মিয়ানমারে সর্ব উত্তরের পাহাড়িয়া অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কত? মিয়ানমারের প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণ কী?নেপালের জলবায়ুতে কয়টি ঋতুর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়?জুলাই মাসে কাঠমান্ডুর তাপমাত্রা কত থাকে?নেপালের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কত সে.মি.?বাংলাদেশের প্রায় কত ভাগ ভূমি নদীবিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি?গত ৪০০০ বছরে ভূমিকম্পে পৃথিবীর কত লোক মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়?ইন্দোনেশিয়াতে সুনামি আঘাত হেনেছিল কত তারিখে? সুনামির মূল কারণ কী?ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে ভূপৃষ্ঠে কিসের সৃষ্টি হয়?ভূমিকম্পের ফলে ভূ-পৃষ্ঠ কুঁচকে ভাঁজের সৃষ্টি হয় কেন?সাধারণত কত বছর পর একটা বড় ভূমিকম্প হয়? বাংলাদেশে ভূমিকম্প হওয়ার মূল কারণ কোনটি? বাংলাদেশে ভূমিকম্প সংবলিত মানচিত্র তৈরি করা হয় কত সালে?বাংলাদেশের ভূমিকম্প সংবলিত মানচিত্র তৈরি করেন কে?'সিসমিক রিস্ক জোন কী?কোন দুর্যোগটি অল্পসময়ে অধিক ক্ষতি সাধন করতে পারে?ভবন নির্মাণের সময় কী মেনে চলা বাধ্যতামূলক? ভূমিকম্প প্রতিরোধে ইটের তৈরি ঘর কয় তলার বেশি করা যাবে না?বাংলাদেশ কত ডিগ্রি অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমা রেখায় অবস্থিত?বাংলাদেশের উত্তরের পাহাড়গুলোকে টিলা বলা হয় কেন?'আশ্বিনা ঝড়' বলতে কী বোঝায়?বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি কেমন?বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান লেখ।বাংলাদেশের আয়তন কত?বাংলাদেশের নদীগুলো বঙ্গোপসাগর অভিমুখে প্রবাহিত কেন?ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত কয় শ্রেণিতে ভাগ যায়?উপকেন্দ্র কী?'সিসমিক রিস্ক জোন' কী?টারশিয়ারি যুগের পাহাড় সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ।দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের উচ্চতা কেমন?উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলোর অবস্থান দেখ।বাংলাদেশের উত্তরের পাহাড়গুলোকে 'টিলা' বলা হয় কেন?ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু বলতে কী বোঝায়?'প্লাবন সমভূমি' বলতে কী বোঝায়?প্লাইস্টোসিন কাল কাকে বলে?প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?বরেন্দ্রভূমি সম্পর্কে কী জান? সংক্ষেপে লেখ।লালমাই পাহাড়ের অবস্থান লেখ।সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি কীভাবে গঠিত হয়েছে?ব-দ্বীপ সমভূমি কী?পার্বত্য এলাকায় জনবসতির ঘনত্ব কম কেন?সমতলভূমিতে ঘন জনবসতি গড়ে ওঠে কেন?জনবসতি সৃষ্টিতে শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রভাব কীরূপ?কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে কেন?জলবায়ু বলতে কী বোঝ?বাংলাদেশের জলবায়ু কেমন?মৌসুমি জলবায়ু বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রধান ঋতু কয়টি এবং কী কী?শীতকাল সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ?গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের তাপমাত্রা কেমন থাকে?বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় কেন হয়?বর্ষাকালে বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কত?বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত কেন হয়?বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বেশি ঘূর্ণিঝড় হয় কেন?বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।ভারতের গ্রীষ্মকালের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।আশ্বিনা ঝড় বলতে কী বোঝ?ভারতের জলবায়ু বিভিন্ন প্রকার হয় কেন?ভারত শীতের কবল থেকে রক্ষা পায় কীভাবে?মিয়ানমারের ঋতুগুলো উল্লেখ কর।মিয়ানমারের গ্রীষ্মকালের বর্ণনা দাও।পলিমাটি কীভাবে কৃষিক্ষেত্রে উর্বরতা বাড়ায়?ভূমিকম্প কী? সংক্ষেপে লেখ।ভূমিকম্পের তিনটি কারণ লিখ।টেকটনিক প্লেট কী? সংক্ষেপে লেখ।সুনামি বলতে কী বোঝ?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ