- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাব
সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাব পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবনে খুবই মারাত্মক, যা আবার বহু সমস্যার জন্ম দেয়। হাইওয়ে পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় পতিত ব্যক্তিদের ২৪% লোকের বয়স ১৫ বছরের নিচে এবং ৩৯% লোকের বয়স ১৬-৫০ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা ফলাফলে দেখা যায় যে, বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান শিকার হচ্ছে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনায় আহত কিংবা নিহত হওয়ার কারণে এসব পরিবারের সদস্যদের দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হয় এবং আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ পরিবারের শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হয়।
অনেক সময় দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তি শারীরিকভাবে পঙ্গু হলে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, যা তার ব্যক্তি জীবনকে ভারসাম্যহীন করে তোলে। মানসিক ভারসাম্যহীনতা ব্যক্তি জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। এ সমস্যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আত্মহত্যায় রূপ নেয়। আবার দেখা যায় পঙ্গু ব্যক্তিটিকে ভিক্ষাবৃত্তির মতো পেশা গ্রহণ করতে। কেউ কেউ জীবন নির্বাহের জন্য অপরাধ জগতে প্রবেশ করে। চরম হতাশা লাঘবে অনেকে আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। সুতরাং, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু ব্যক্তির পারিবারিক জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, আর্থ-সামাজিক ও মানসিক জীবনকেও দুর্বিষহ করে তোলে।
সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাপক ভাংচুর, সড়ক অবরোধসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অনেক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্র ক্ষতির সম্মুখীন হয়। চাকরিজীবীর কর্মঘণ্টা অপচয় হয়। পরিবহনের অভাবে কাঁচামাল নষ্ট হয়। গন্তব্যে মালপত্র পরিবহন বিলম্বিত হলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঘটে। চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজন বাধাগ্রস্ত হয়। এ বিষয়ে আমরা প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকায় চোখ রাখলে আরও ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করতে পারব।
বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

