• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ
বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

বাংলাদেশের পানি ও খাদ্য নিরাপত্তায় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও জনসম্পৃক্ততা

বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এত মানুষের খাদ্য, পানি ও অন্যান্য নিরাপত্তা বিধান করা বেশ কঠিন। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা খুবই কঠিন হয়ে উঠেছে। দিন দিন এদেশে ভূমি, পানি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনাসহ নানা সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, খাদ্যোৎপাদন তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য দেশে তেমন খাদ্য সংকট নেই। কিন্তু পানিদূষণ ও দুষ্প্রাপ্যতা যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে খাদ্যোৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে। সেজন্যে দেশে পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তার স্থায়ী সমাধানে সকলকে কাজ করতে হবে। পানি ব্যবস্থাপনার জন্য যে উদ্যোগগুলো নিতে হবে তা হলো-

১. পরিবেশ সংরক্ষণ: নদ-নদী, পুকুর, খাল, বিল, হাওড়, বাওড়, বন ও ভূমির পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। পরিবেশ রক্ষার কাজকে একটা সামাজিক আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নাগরিক সমাজ এবং প্রাশাসন মিলে একত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

২. পানির সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা: শুষ্ক ও শীত মৌসুমে দেশের সর্বত্র পানির অপব্যবহার দূর করার নীতি ও কৌশল বাস্তবায়ন করতে হবে।

৩. নদ-নদীর নাব্যতা সংকট দূর করা দেশের নদ-নদীগুলো পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্রায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পানি দূষিত হয়। এটি থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা, যেমন-বন্যা নিয়ন্ত্রণ এর দিকে নজর দিতে হবে। অনেক নদী শুকিয়ে গেছে। এসব নদ-নদীতে খনন সম্পাদন করলে পানির প্রবাহ এবং সংরক্ষণ সম্ভব হবে। তাতে কৃষি ও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাবে।

৪. সংযোগ খাল ও রিজার্ভার খনন করা: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি রিজার্ভার খনন করা গেলে শুষ্ক মৌসুমে খাদ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। মাছ চাষ ও প্রজনন স্বাভাবিক থাকবে।

৫. নদী দখল ও দূষণ রোধ: বাংলাদেশে নদ-নদীতে পানি প্রবাহ বিঘ্নিত হওয়ার একটি বড় কারণ অসৎ ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা নদী বক্ষ বা খালবিল অবৈধভাবে দখল করে ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ করে নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে। ধীরে ধীরে ঐ নদী, খাল বা জলাশয় বিলীন হয়ে যায়। স্থনীয় নেতৃত্ব, গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের মাধ্যমে নদ-নদী, জলাশয়ের বিরুদ্ধে এসকল নেতিবাচক কাজ বন্ধ করতে হবে।

৬. স্থনীয় জনগোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করণ: শিক্ষার্থীরা সমাজের প্রধান সক্রিয় শক্তি। তাই স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীরা পানি দূষণ রোধ, পানি ব্যবস্থাপনা তথা পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করায় ভূমিকা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকবৃন্দ জনসম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পানি ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা পালন করতে পারে।

৭. লবণাক্ততা দূর করা: দক্ষিণাঞ্চলের বেশকিছু এলাকায় সমুদ্রের পানির কারণে মাটি লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। মাটির উপর পাতলা আবরণ পড়ে ফসল উৎপাদন নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে মিঠা পানির অভাবে মাছ চাষ, কৃষিকাজ, গাছপালা ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব এলাকায় মিঠা পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য উজান থেকে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া অভিন্ন নদীগুলোর ব্যবস্থাপনায় প্রতিবেশি দেশের সাথে পানি কূটনীতির আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী বাংলাদেশের হিস্যা আদায়ে অভিন্ন নদী কমিশনকে কার্যকর করতে হবে। তাহলে পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে।

৮. নদীভাঙন রোধ করা বর্ষাকালে কোনো কোনো অঞ্চলে নদী ভাঙনের ফলে নদীতে চর জাগে, নদী ভরাট হওয়ার উপক্রম হয়। দ্রুত সেসব ভাঙন রোধ ও নদীতে ড্রেজিং সম্পন্ন করে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে।

৯. পরিমিত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা আমাদের দেশে দীর্ঘদিন থেকে কৃষিকাজে অপরিমিতভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পানিদূষণে মাছ ও কৃষি উৎপাদনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অপ্রয়োজনে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা না হলে পানি ও ভূমির গুণাগুণ অক্ষত থাকবে।

১০. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার দেশের পানি সম্পদকে মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বৈজ্ঞানিক ধ্যান-ধারণা ও শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারে যত্নবান হতে হবে। দেশের পানিসম্পদ সারা বছরের সকল চাহিদা পূরণ করতে পারলে দেশে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাবে। সে কারণে প্রথমে পানির নিরাপত্তা বিধান করতে হবে, তাহলে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এর জন্য দেশে জাতীয় পানি নীতিমালা যথাযথভাবে কার্যকর করার প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে।

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ