- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
সারসংক্ষেপ
আরব উপদ্বীপ: আরব ভূখন্ডের তিনদিক বিশাল জলরাশি এবং একদিক মূল দ্বারা পরিবেষ্টিত। এজন্য আরব দেশকে আরবি ভাষায় 'জাজিরাতুল আরব' বা আরব উপদ্বীপ বলা হয়।
আরব জাতি: পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন উপদ্বীপ আরবের আদিম অধিবাসীরা সেমিটিক জাতি নামে পরিচিত। স্বকীয়তা এবং স্বাতন্ত্র্যবোধে উদ্দীপিত, আরব জাতি প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। যথা: ১. আরব বায়িদা (Arab Baidah), ২. আরব আরিবা বা বনু কাহতান (Banu Quhtan), ৩. আরব মুস্তারিবা (Arab Mustariba) I
যাযাবর: আরব উপদ্বীপে ৮০% লোক যাযাবর অর্থাৎ মরুভূমির বাসিন্দা ছিল। এরা আহল-উল-বাদিয়া বা বেদুইন নামে পরিচিত। যারা তাঁবুতে বা অস্থায়ীভাবে বাস করে তারাই বেদুইন বা যাযাবর নামে পরিচিত।
মরুভূমির জাহাজ: মরুময় আরব দেশের একমাত্র বাহন উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় (The ship of the desert)
আইয়্যামে জাহেলিয়া: আরবি ভাষায় আইয়াম শব্দের অর্থ সময় বা যুগ এবং জাহেলিয়া শব্দের অর্থ অজ্ঞতা, কুসংস্কার বা বর্বরতা বুঝায়। অর্থাৎ হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জন্মের পূর্বে ১০০ বছরকে (৪৭০-৫৭০ খ্রি.) আইয়্যামে জাহেলিয়ার যুগ বলে।
অতিথিপরায়ণ: আরব সমাজে মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বিশৃঙ্খলা থাকলেও সমাজে অতিথিদের ব্যাপারে লোকেরা একনিষ্ঠ ও আন্তরিক ছিলেন। তাদের আশ্রয় দান, আপ্যায়ন ও সেবা-যত্নের ক্ষেত্রে তারা সচেষ্ট থাকতেন।
উকায মেলা: ইসলাম-পূর্ব আরবে একটি বিখ্যাত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উকায মেলা। মাসব্যাপী এ মেলায় কবিতা পাঠের আসর, গান-বাজনা, জুয়া-খেলা ও মদ্যপানের আসর বসত। হিট্টি উকাষ মেলাকে আরবের 'Academic Franchise' বলে অভিহিত করেন।
সাব-আ-মুয়াল্লাকাত ও গাঁথা গ্রন্থ: মাসব্যাপী উকাযের বাৎসরিক মেলায় কবিতা পাঠের প্রতিযোগিতা ইসলাম-পূর্ব আরবের একটি বিখ্যাত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই মেলায় পুরস্কার প্রাপ্ত সাতটি কবিতা সোনালি অক্ষরে লিপিবদ্ধ করে 'কাবা' ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো বলে কবিতাগুলোকে 'সাব-আ-মুয়াল্লাকাত' (seven suspended poems) বলা হয়।
ইমরুল কায়েস: প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের বিখ্যাত কবি ছিলেন ইমরুল কায়েস। উকায় মেলায় কবিতার আসর বসত। পুরস্কার প্রাপ্ত কবিতাগুলো সোনালি অক্ষরে লিপিবদ্ধ করে কাবাঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো যা সাবা-মুয়াল্লাকাত বলে অভিহিত। এ কবিতার লেখক-কবিদের মধ্যে ইমরুল কায়েস অন্যতম।
প্রাচীন সভ্যতা: বর্তমান যুগের ন্যায় প্রাচীনকালেও মানুষ তার জীবনযাত্রায় মন-মানসিকতা, চিন্তা-চেতনা, শিক্ষা-সংস্কৃতি, জীবনবোধ ও দৈনন্দিন জীবন উন্নত ব্যবস্থায় পরিচালিত করেছেন যার নিদর্শন প্রাচীন সভ্যতায় বিদ্যমান।
প্রাগৈতিহাসিক যুগ: ঐতিহাসিকগণ মানব সভ্যতা বিকাশের ধারাকে প্রাগৈতিহাসিক যুগ ও ঐতিহাসিক যুগ এ দুভাগে বিভক্ত করেছেন। মানুষ সৃষ্টির পর থেকে কৃষি আবিষ্কারের পূর্ব যুগ প্রাগৈতিহাসিক যুগ নামে পরিচিত। এ যুগের মানব সভ্যতা পুরোপণীয় ও নবোপলীয় এ দুভাগে বিভক্ত ছিল।
দেশ ও সমাজ: সভ্যতার অবদান হলো দেশ ও সমাজ। প্রাচীন যুগে মানুষ বনে-জঙ্গলে বসবাস করত। কালের বিবর্তনে মানুষ একত্রিত হয়ে বসবাস করার প্রয়োজনে সমাজের সৃষ্টি করেন। আর সমাজের সর্বোচ্চ স্তর হলো দেশ।
গ্রিক সভ্যতা: ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীভুক্তরা গ্রিকদের আদি পুরুষ। দানিউব নদীর তীরে অবস্থিত আর্যগোষ্ঠী ১১৫০-১০০০ খ্রিষ্টপূর্ব সময়ে ডোরীয়দের সংমিশ্রণে একটি শক্তিশালী জাতির অভ্যুদয় ঘটে। এদের যারা যে সভ্যতা গড়ে ওঠে তাই গ্রিক সভ্যতা।
সুমেরীয় সভ্যতা: মেসোপটেমীয় সভ্যতার সর্বপ্রাচীন সভ্যতা হলো সুমেরীয় সভ্যতা। অসেমেটিক বা সুমের জাতির নামানুসারে সুমেরীয় সভ্যতার নামকরণ করা হয়েছে।
আইন: মানব সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বন-জঙ্গল হতে বের হয়ে সমাজ ও দেশ গড়ে তোলেন বসবাসের প্রয়োজনে। মানুষ তার মৌলিক চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনে আইন তৈরি করেন। রোমানগণ ৪৫০ খ্রিষ্টপূর্বে বা তার পূর্বে সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আইন তৈরি করেন।
দেব-দেবী: ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে মানুষ পৌত্তলিক পূজারি ছিল। তারা পূজার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের ও আকৃতির দেব-দেবী তৈরি করে পূজা করত। কাবাঘরে তাদের তৈরি এ দেব-দেবী স্থান পায়।
পুরোহিত: ধর্মীয় গুরু। ইহুদি, খ্রিষ্টান মূর্তি পূজারিরা পুরোহিত বা ধর্মীয় প্রধানে বিশ্বাসী ছিল। তাই ইসলাম-পূর্ব আরব দেশে পুরোহিতদের গুরুত্ব অনেক বেশি ছিল।
স্থাপত্য ও ভাস্কর্য: স্থাপত্য হচ্ছে ভবনাদির নির্মাণকার্য বা নির্মাণশিল্প। অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের ভবন যেমন বহুতলবিশিষ্ট বিল্ডিং, বাড়ি, মসজিদ, মন্দির, স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। আর ভাষ্কর্য হচ্ছে পাথর, ধাতু, কাঠ প্রভৃতি খোদাই করে নির্মিত শিল্পকর্ম। যেমন বিভিন্ন ধরনের টেরাকোটা, পাথর বা মাটির মূর্তি ইত্যাদি।
ধর্ম বিশ্বাস: ধর্ম বিশ্বাস বলতে ধর্ম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিশ্বাসকে বোঝায়। যেমন ইসলাম একটি ধর্ম এবং এ ধর্মের ধর্মবিশ্বাস হলো আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এভাবে সুমেরীয় সভ্যতার মানুষ নানা দেব-দেবীতে বিশ্বাসী ছিলেন। তারা প্রাকৃতিক শক্তিকে দেবতা জ্ঞানে পূজা করত। এরা পরকালে বিশ্বাস করত না। দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে মানুষ ও পশু বলি দিত।
প্রাক ইসলামি আরব - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

