- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
কুয়াকাটা যেমনি একটি স্বাস্থ্যকর স্থান তেমনি একটি বাণিজ্যিক প্রসিদ্ধ স্থান। সে কারণেই রাজধানী ঢাকা থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় উপলক্ষ্যে কুয়াকাটায় আগমন করে। মেসার্স ফারুখ অ্যান্ড কোং ব্যতীত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায় সুবিধা করতে না পেরে ঢাকায় ফিরে যায়। মেসার্স ফারুখ অ্যান্ড কোং-এর সাফল্যের কারণ ছিল বাণিজ্য কৌশল, মূলধন, জনবল ও কোম্পানির পেশিশক্তি প্রভৃতি।
উদ্দীপকের মেসার্স ফারুখ অ্যান্ড কোং-এর সাফল্যের কারণ পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকে দেখা যায় কুয়াকাটায় আগত কোম্পানিগুলোর মধ্যে একমাত্র মেসার্স ফারুখ অ্যান্ড কোং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকে। এর কারণ উক্ত কোম্পানির কৌশল, মূলধন, জনবল, পেশিশক্তি ইত্যাদি। পাঠ্যবইয়েও ইউরোপীয় জাতিগুলোর মধ্যে একমাত্র ইংরেজরাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকে। ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির সাফল্যের পেছনে উদ্দীপকে মেসার্স ফারুখ অ্যান্ড কোং-এর সাফল্যের ন্যায় কতিপয় কারণ বিদ্যমান রয়েছে। এ সকল কারণের মধ্যে (১) ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় সম্পদও সংগঠনে শ্রেষ্ঠ ছিল। (২) নদীবিধৌত ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবসার উন্নতি করতে হলে নৌ-শক্তি আবশ্যক, অন্যদের তুলনায় ইংরেজরা নৌ-শক্তিতে শ্রেষ্ঠ ছিল। (৩) ইংরেজ কোম্পানি ছিল একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, অন্য কোম্পানিগুলো ছিল রাষ্ট্রীয় সাহায্য সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল। (৪) ইংরেজ কোম্পানি আর্থিকভাবে স্বয়ং সম্পূর্ণ ছিল। পলাশীর যুদ্ধের জয়ের ফলে তারা আরও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যে অর্থ তাদের বিপদে আপদে রক্ষা করেছে। (৫) ইংরেজ কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উন্নত কৌশল। বিশেষ করে কোম্পানির প্রতিনিধি লর্ড ক্লাইভের বুদ্ধিমত্তা ও রণকৌশল সাফল্যের অন্যতম কারণ। (৬) ইংরেজ কোম্পানি ভারতীয় রাজনীতিতে অংশ নিলেও বাণিজ্যিক আদর্শ থেকে তারা বিচ্যুত হয়নি যা সাফল্যের উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত। (৭) সর্বোপরি ইংরেজদের বোম্বাই, মাদ্রাজ ও কলকাতা সমৃদ্ধশালী বাণিজ্য কেন্দ্র তাদের সাফল্যের উৎস হিসেবে কাজ করছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
"ভারতবর্ষের ন্যায় পৃথিবীর কোথাও এত প্রচুর এবং সস্তা খাদ্যদ্রব্য দেখা যায়নি"- উক্তিটি কোন পর্যাটকের?
উক্ত উক্তিটি করেছেন মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষে আসার জলপথ কীভাবে আবিষ্কার হয়?
অতি প্রাচীনকাল থেকে ভারতবর্ষ ছিল সম্পদের লীলাভূমি। ভারতবর্ষের সম্পদ আহরণে অন্যান্যদের ন্যায় ইউরোপীয়রাও প্রলুব্ধ হয়। কিন্তু ভারতবর্ষে আসার কোনো জলপথ তাদের জানা ছিল না, তবে চেষ্টা অব্যাহত থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা-গামা উত্তমাশা অন্তরীপ পরিভ্রমণ করে ভারতীয় উপমহাদেশের পশ্চিম উপকূলস্থ কালিকট বন্দরে উপস্থিত হন। ভাস্কো-দা-গামার আবিষ্কৃত পথ ধরেই ইউরোপীয় সামুদ্রিক জাতিগুলো ভারতবর্ষে আগমন ঘটে।
উদ্দীপকের ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ের ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমনকে নির্দেশ করে।
কুয়াকাটা একটি প্রসিদ্ধ স্থান হওয়ায় রাজধানী ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় উপলক্ষ্যে কুয়াকাটায় আগমন করে। ঠিক তেমনি ভারতবর্ষের অফুরন্ত সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে ইউরোপীয় মহাদেশ থেকে কয়েকটি জাতি ব্যবসায় উপলক্ষ্যে ভারতবর্ষে আগমন করে। এসকল বণিক জাতির মধ্যে সর্বপ্রথম আগমন করে পর্তুগিজরা। এরপর পর্যায়ক্রমে ওলন্দাজ, দিনেমার, ইংরেজ ও ফরাসিদের আগমন ঘটে। ১৫০৫ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগিজরা ফ্রান্সিসকো ডি আলমিডার নেতৃত্বে ভারতবর্ষে আগমন করে। প্রায় এক শতাব্দী পর্যন্ত তারা ভারতীয় উপমহাদেশে একচেটিয়া বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণ করে। এর পর ওলন্দাজ, দিনেমার, ইংরেজ ও ফরাসিদের আগমন ঘটলে ব্যাপক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়। প্রতিযোগিতায় একমাত্র ইংরেজ কোম্পানি ব্যতীত অন্য বণিক জাতিগুলো হেরে যায়। যার কারণে তারা স্বদেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকে যেমনটি ব্যাপক প্রতিযোগিতায় একমাত্র মেসার্স ফারুখ অ্যান্ড কোং টিকে ছিল, তেমনি ইউরোপীয়দের মধ্যে একমাত্র ইংরেজরা প্রতিযোগিতায় টিকে ছিল। যারা কালক্রমে বণিকের মানদণ্ড শাসকের রাজদণ্ডে পরিণত করেছিল।

