- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ঋতু বর্ণন [কবিতা]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আজ এই সব শীতের রাতে আমার হৃদয়ে মৃত্যু আসে;
বাইরে হয়তো শিশির ঝরছে, কিংবা পাতা,
কিংবা প্যাঁচার গান; সেও শিশিরের মতো, হলুদ পাতার মতো।
'অতি দীর্ঘ সুখ নিশি পলকে পোহাএ'- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
শীতকালের রাত দীর্ঘ হলেও সুখানুভূতির কারণে তা দ্রুত শেষ হয় বোঝাতে কবি আলোচ্য উক্তিটি করেন।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সাথে মানবমনের গভীর সম্পর্কের দিকটি বর্ণনা করেন। প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের পালাক্রমে মানবমনের অনুভবের জগতেও পরিবর্তন ঘটে। প্রকৃতিতে শীতকাল এলে মানবমনে নতুন সুখানুভূতি তৈরি হয়। শীতে দিন ছোটো হয় এবং রাত দীর্ঘ হয়। তবে এই দীর্ঘ রাতও কবির মতে সুখানুভূতি তৈরি করে। ফলে খুব দ্রুতই যেন এই রাত শেষ হয়ে যায়। কবি মূলত শীতের আনন্দ ও ঋতু পরিবর্তনের পালাক্রমে মানব মনের পরিবর্তনকে বুঝিয়েছেন।
উত্তরের সারবস্তু: সুখে থাকার কারণে শীতের দীর্ঘ রাত দ্রুত শেষ হয় বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
কীটকুলের রন কোন ঋতুতে বারবার ধ্বনিত হয়?
কীটকুলের রব বর্ষা ঋতুতে বারবার ধ্বনিত হয়।
উদ্দীপকের সাথে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার শীত ঋতুর বৈসাদৃশ্য তুলে ধরো।
উদ্দীপকের সাথে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার শীতের আনন্দের বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় দেখা যায়, কবি শীতের আগমনকে সুখকর বলে প্রকাশ করেছেন। শীতের ভয়ে তীব্র সূর্যও যেন দ্রুত 'অন্তে চলে যায়। প্রকৃতিতে পুষ্পশোভার পরিবর্তে এক বিচিত্র পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময় বিভিন্ন সুগন্ধী, আলতা ব্যবহারের মাধ্যমে দম্পতির ভাবনায় সুখানুভূতি জাগ্রত হয়। এভাবে শীতের সাথে মানবপ্রেমের সম্পর্ককে জাগ্রত করেছেন কবি।
উদ্দীপকের কবিতাংশে দেখা যায়, শীতের রাতে কবির হৃদয়ে মৃত্যু আসে। যদিও বাইরের প্রকৃতি মনোমুগ্ধকর থাকে। বাইরে যদিও শিশির পড়তে থাকে, প্যাঁচার গান শুনতে পাওয়া যায়। শীতের এই মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যও কবির মনে অনুভবের জগত তৈরি করতে পারেনি। অন্য ঋতুতে কবির হৃদয়ে আনন্দের জোয়ার বইলেও শীত এলে কবির হৃদয়ে মৃত্যু আসে। কিন্তু 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি শীতকালে সুখী দম্পতির দারুণ অনুভূতির কথা বলেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় শীতকালে যে মানবমনে প্রেমের সৃষ্টি করে তার বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
উত্তরের সারবস্তু: শীতকালের সুখকর অনুভূতির দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
"উদ্দীপকের কবিতাংশটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার খণ্ডাংশ মাত্র।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকের কবিতাংশে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার শীতকালের প্রকৃতির অংশটি প্রকাশিত হওয়ায় উদ্দীপকটি কবিতার খন্ডাংশ মাত্র।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। কবি বসন্তে পুষ্পের সৌন্দর্য, গ্রীষ্মের প্রখর তাপ, বর্ষার অবিরল বৃষ্টির ধারা, শরতের নির্মল আকাশ, শীতের রাতে দম্পতির সুখানুভব চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন। কবি প্রত্যেকটি ঋতুকে শৈল্পিক রূপদান করেছেন। শীতের প্রকৃতিতে মুগ্ধ হয়ে দম্পতিরা যে সুখ অনুভব করেন কবি তার সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। ঋতু পরিবর্তন যে মানবমনে কতটুকু প্রভাব ফেলে কবি তার সুনিপুণ বর্ণনা দেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে শীতের ঋতুবৈচিত্র্যের বর্ণনা করা হয়েছে কিন্তু তা কবির হৃদয়ে অনুভবের জগৎ তৈরি করতে পারেনি। শীত এলে কবির হৃদয়ে মৃত্যু আসে যদিও বাইরে মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য থাকে। শীতের শিশির বিন্দু, প্যাঁচার গান, তরু-লতার সতেজতা দেখা যায়। প্রকৃতির পরিবর্তনের ফলে যে মানবমনের পরিবর্তন ঘটে তা কবিমনে আসেনি, কবির এসেছে মৃত্যু। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও শীত ঋতুর একইরকম বর্ণনা লক্ষ করা যায়। 'ঋতু বর্ণন' কবিতা ঋতু পরিবর্তনের পালাক্রম ও মানবমনে সুখের উল্লাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। শীতও যে মানবমনে আনন্দ দিতে পারে কবি তার বর্ণনা করেছেন। উদ্দীপকের কবিতায় কেবল প্রকৃতিতে শীতের রূপটি ফুটে উঠেছে কিন্তু মানবমনে যে প্রেমের জগৎ তৈরি হয় তা প্রকাশিত হয়নি, অন্যান্য ঋতুরও উল্লেখ করা হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার খণ্ডাংশ মাত্র।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সব দিক ফুটে না ওঠায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ হয়ে উঠেছে।

