- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ঋতু বর্ণন [কবিতা]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সারা রাত ধরে ঝিরঝির বৃষ্টি। সকালেও তার বিরাম নেই। সজীব এই বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা নিয়ে স্কুলের পথে রওনা হয়। যাওয়ার পথে রাস্তার পাশের ডোবায় দেখে অসংখ্য ব্যাঙ ঘ্যাঙর ঘ্যান্ড শব্দে ডেকে চলেছে অবিরাম। সজীব মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ব্যাঙের ডাক শোনে।
উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষাকালে প্রকৃতির রূপ ও মানবমনে এর প্রভাবের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি আলাওল ষড়ঋতুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। কবিতাটিতে বর্ষাকালে প্রকৃতি ও জীবনের বর্ণনাও রয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে চারিদিকে পানি থইথই করে। এসময় আনন্দে ডেকে ওঠে ব্যান্ড ও ময়ূরী, অন্যান্য কীট-পতঙ্কাও বর্ষাকালে বিচিত্র রকমের আওয়াজ করে। আর প্রকৃতিতে প্রাণের এ কোলাহলে মানবমনেও উল্লাসের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে বর্ষাকালের বর্ণনা রয়েছে। ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় দিয়ে স্কুলে যাবার সময় সজীব রাস্তার পাশের ভোবায় অসংখ্য ব্যাঙ দেখতে পায়। তারা ক্রমাগত ডাকছিল, ব্যাঙের ডাক শুনে সজীব মুগ্ধ হয়ে যায়। তার মনে যেন এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে, ফলে সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ব্যাঙের ডাক শোনে। অর্থাৎ, ঐ উদ্দীপকের ঘটনাও বর্ষাকালের বৈশিষ্ট্য, এসময় প্রাণীদের আওয়াজ এবং মানুষের হৃদয়ে এর অদ্ভুত প্রভাবের দিকটিকে নির্দেশ করে। উভয়ক্ষেত্রেই প্রকৃতি ও জীবনে বর্ষার চিরায়ত রূপটির প্রতিফলন দেখা যায়।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষা ঋতুর সৌন্দর্য, প্রাণীদের হর্ষধ্বনি এবং এর ফলে মানবমনে সৃষ্ট পুলকের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'শিখিনী' শব্দের অর্থ কী?
'শিখিনী' শব্দের অর্থ 'ময়ূরী'।
'দাদুরী শিখীনি রব অতি মন ভাত্র'- ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা বর্ষাকালে ব্যাঙ ও ময়ূরীর ডাক এবং এর মাধ্যমে মানবমনে সৃষ্ট পুলকের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য কবিতায় কবি আলাওল বর্ষায় প্রকৃতি চিত্রিত করতে মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরীর প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। বর্ষাকালে প্রায়শই এদের ডাক শোনা যায়। প্রকৃতিতে ব্যাঙ ও ময়ূরীর এই কলধ্বনি মানুষের চিত্তকেও আন্দোলিত করে। প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন যেন মানবমনেও ভাবের সঞ্চার ঘটায়।
উত্তরের সারবস্তু: বর্ষায় মানবমনে সৃষ্ট পুলকিত অনুভূতির কথা বলা হয়েছে প্রশ্নোক্ত উক্তিতে।
উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে কি? তোমার মতামত দাও।
উদ্দীপকে, 'ঋতু বর্ণন' কবিতার মূলভাবের আংশিক প্রতিফলন ঘটলেও সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বাংলার ষড়ঋতুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা হয়েছে। ছয়টি খাতুর ভিন্ন ভিন্ন রূপবৈচিত্র্যের চিত্রায়ণ দেখা যায় কবিতায়। আবহাওয়া ও ষড়ঋতুর প্রভাবেই মূলত প্রকৃতির বিচিত্র রূপ অভিব্যক্ত হয়। এছাড়া কবিতাটিতে মানবমনে ষড়ঋতুর প্রভাব সম্পর্কেও বর্ণনা করা হয়েছে'।
উদ্দীপকে বর্ষাকালের প্রকৃতি ও জীবনের প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। এখানে বর্ষার অবিরাম জলধারা এবং এ সময়ের পরিবেশের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে সজীবের মনে বর্ষার প্রভাবও পরিলক্ষিত হয়। সে ডোবার ধারে ব্যাঙের ডাক শুনে আনন্দিত হয়। উদ্দীপকটি বর্ষার রূপ, ব্যাঙের ডাক এবং মানব হৃদয়ে বর্ষার কারণে সৃষ্ট অনুভূতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। একইভাবে 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও বর্ষাঋতুর এহেন বর্ণনা ফুটে উঠেছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতার মতো উদ্দীপকে বৃহৎ পরিসরে ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য ফুটে ওঠেনি। তবে বর্ষাকালের বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতি, ভোবায় ব্যাঙের ডাক এবং মানুষের মনে এর ফলে সৃষ্ট ভাবের দিকটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তাই উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন লক্ষণীয়। কিন্তু এটি আলোচ্য কবিতার সমগ্র মূলভাবের প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম নয় বলে আমি মনে করি।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার ষড়ঋতুর মধ্যে কেবল একটি ঋতুর বর্ণনা থাকায় উদ্দীপকে কবিতার মূলভাবের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি, বরং আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।

