- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
তানভীর ও রাশেদ দুই বন্ধু। তারা দু'জনে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়ছে। রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, নাগরিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সব বিষয়ের প্রতি তানভীরের অগ্রহ বেশি। অন্যদিকে, রাশেদ সব সময় মুদ্রাব্যবস্থা, আয়-ব্যয়, বাজেট তৈরি, সম্পদের সুষম বণ্টন ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। তাই কলেজে তারা পছন্দমত বিষয় নির্বাচন করে। তানভীর ও রাশেদ পাঠ্যবিষয় নিয়ে আলোচনা করে লক্ষ করল বিষয় দু'টি ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য এক।
তানভীর ও রাশেদের মত তুমিও কি মনে কর বিষয় দুইটি ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য অভিন্ন? তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।
হ্যাঁ, তানভীর ও রাশেদের মত আমিও মনে করি বিষয় দুইটি ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য অভিন্ন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি বিষয় দুটি গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। উভয়ই সমাজবিজ্ঞানের পুরুত্বপূর্ণ শাখা। পৌরনীতি ও সুশাসনকে বলা হয় নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান, আর অর্থনীতিকে বলা হয় অর্থনীতি বিষয়ক বিজ্ঞান। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের অধিকার, দায়িত্ব, কর্তব্য, আচরণ, প্রত্যাশা প্রভৃতি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে। আর অর্থনীতি নাগরিকের সুবিধার্থে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। উভয়ের লক্ষ্য নাগরিকের কল্যাণ সাধন করা।
প্রতিটি রাজনৈতিক সমস্যার যেমন অর্থনৈতিক দিক রয়েছে, তেমনি প্রতিটি অর্থনৈতিক সমস্যার রয়েছে রাজনৈতিক দিক। তাই রাজনীতিবিদদের অর্থনৈতিক জ্ঞান এবং অর্থনীতিবিদদের রাজনৈতিক জ্ঞান থাকা দরকার। সমাজসেবা, সমবায়, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, সম্পদের বণ্টন, উৎপাদন ইত্যাদি পৌরনীতি ও অর্থনীতি উভয় শাস্ত্রেই গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়। পৌরনীতি ও সুশাসন মূলত নাগরিককে অধিকার ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন করে। অন্যদিকে, অর্থনীতি মানুষের জীবনে অভাব ও চাহিদার মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করে সুন্দর ও সুখী জীবনযাপনে সহায়তা করে থাকে। এভাবে এ দুটি বিষয় নাগরিক জীবনকে পরিপূর্ণতা দেওয়ার জন্য কাজ করে। একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠনের স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধি সে দেশের অর্থনৈতিক সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আবার কোনো দেশের আর্থিক উন্নতি ও অবনতি সমানভাবে সে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান কল্যাণমূলক রাষ্ট্রগুলো নাগরিকের সার্বিক মজঙ্গলের লক্ষ্যে কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসংস্থান, মজুরি, সমবায় আন্দোলন, কর-খাজনা ইত্যাদি অর্থনৈতিক কাজগুলো রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। এদিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি প্রকৃতপক্ষে গভীরভাবে পরস্পর সম্পর্কিত দুটি বিষয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
তানভীর ও রাশেদ কোন দু'টি বিষয়ের প্রতি আগ্রহী? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে নির্ণয় কর।
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী, তানভীর পৌরনীতি ও সুশাসনের প্রতি, আর রাশেদ অর্থনীতি বিষয়ের প্রতি আগ্রহী।
পৌরনীতি ও সুশাসন হচ্ছে সামাজিক বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে সরকারের সংগঠন ও পদ্ধতি, সংবিধান এবং নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এটি নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে। অন্যদিকে, অর্থনীতি বা অর্থশাস্ত্র সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা, যা পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, বিনিময়, বিতরণ, ভোগ ও ভোক্তার আচরণ এবং মানুষের অভাব ও বিকল্প ব্যবহারযোগ্য সীমিত সম্পদ সম্পর্কে আলোচনা করে।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, দুই বন্ধু তানভীর ও রাশেদ একই কলেজে দুটি ভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়ছে। রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, নাগরিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা এগুলোর প্রতি তানভীরের আগ্রহ থাকায় সে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি নিয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে মানুষ যেসব কাজ করে তার সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। আবার পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি বা বিষয়বস্তু কেবল সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নাগরিকতার সাথে সম্পর্কিত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে, মুদ্রা ব্যবস্থা, আয়-ব্যয়, বাজেট তৈরি, সম্পদের সুষম বণ্টন ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি রাশেদ বেশি আগ্রহী। এটি অর্থনীতি বিষয়টিকেই নির্দেশ করে। কেননা, অর্থনীতি নাগরিকদের অর্থ উপার্জন, অর্থ ব্যয় এবং সীমিত অর্থে কীভাবে বহুবিধ চাহিদা পূরণ করতে হয় সে সম্পর্কে জ্ঞান দান করে।
রাষ্ট্র কী?
রাষ্ট্র এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠন যার নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সংগঠিত সরকার, সার্বভৌমত্ব এবং কম অথবা বিপুল জনসমষ্টি রয়েছে।
শব্দগত অর্থে পৌরনীতি বলতে কী বোঝায়?
শব্দগত অর্থে পৌরনীতি হলো নগররাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিকদের আচরণ ও কার্যাবলি সংক্রান্ত বিজ্ঞান। পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে দুটি ল্যাটিন শব্দ- Civis ও Civitas থেকে। Civis অর্থ 'নাগরিক', আর Civitas অর্থ 'নগররাষ্ট্র'। সুতরাং উৎপত্তিগত অর্থে নগররাষ্ট্র ও নগরবাসী সম্পর্কিত রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে জ্ঞানের যে শাখা গড়ে উঠেছে তাই পৌরনীতি। সংস্কৃত ভাষায় নগরকে 'পুর' বা 'পুরী' এবং নগরের অধিবাসীদের 'পুরবাসী' বলা হয়। আর পৌর হচ্ছে 'পুর' এর বিশেষণ যার অর্থ পুর বা নগর সংক্রান্ত বিষয়। প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স, স্পার্টা ইত্যাদি ছিল এক একটি নগররাষ্ট্র। তবে বিশ্বের বর্তমান রাষ্ট্রগুলো প্রাচীন গ্রিসের 'নগররাষ্ট্রের' (City-State) মতো ছোট ও সরল নয়।

