• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

রাফি একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু বিষয় বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে সে তার বাবার কাছে পরামর্শ চাইল। তিনি তার সন্তানকে সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন এবং নাগরিক অধিকার ভোগ ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালনের জন্য নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়কে পাঠ্য হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন। তখন রাফি তার বাবাকে বলল, এ বিষয়ে অনার্স পড়ার তো কোনো সুযোগ নেই। রাফির বাবা বললেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতর একটি বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ আছে।

উদ্দীপকের দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

'উদ্দীপকের দু'টি বিষয় তথা পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর'- বক্তব্যটি যথার্থ। 'পৌরনীতি ও সুশাসন' এবং 'রাষ্ট্রবিজ্ঞান' সামাজিক বিজ্ঞানের একই শাখার দু'টি অংশ। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য এবং নাগরিক জীবনের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা করে। অপরদিকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান নাগরিকের রাজনৈতিক সংগঠন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের গঠন ক্ষমতা ও কার্যাবলি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। আবার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্র, সরকার, সরকারের বিভিন্ন অজ্ঞা, নির্বাচকমণ্ডলী, রাজনৈতিক দল ইত্যাদি পৌরনীতি ও সুশাসনেও আলোচিত হয়। সুতরাং, উভয়ের আলোচ্য বিষয় কার্যত এক ও অভিন্ন। উদ্দীপকে দেখা যায়, একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাফির বাবা তাকে নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট একটি বিষয় পাঠ্য হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, তিনি বিষয়বস্তুগত দিক থেকে বিষয় দুটির মধ্যে সম্পর্কের কথা বলেছেন। পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুগত ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। উভয় শাস্ত্রেই সাধারণ কিছু বিষয় আলোচনা করা হয়। যেমন- সংবিধান, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকার, প্রশাসন, স্বাধীনতা, আইন, সাম্য, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। তবে পৌরনীতি ও সুশাসন অপেক্ষা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু ব্যাপক এবং তার পরিসর দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বস্তুত, পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকতা বিষয়ক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্র সম্পর্কিত বিজ্ঞান। আর নাগরিক ও রাষ্ট্র একটি অবিচ্ছেদ্য ধারণা। রাষ্ট্রের অন্যতম উপাদান নাগরিক। নাগরিক ছাড়া রাষ্ট্র হতে পারে না। আবার রাষ্ট্র ছাড়া নাগরিকের ধারণা অর্থহীন। এ হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। সতরাং উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

সুশাসন কী?

সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।

#

আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?

আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবার সমান হওয়া এবং সব কিছুর ওপরে আইনের প্রাধান্যের স্বীকৃতিকে বোঝায়। আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি এবং ছোট বড় নির্বিশেষে সবাই আইনের কাছে সমান। যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে- এটাই আইনের শাসনের বিধান। আইনের শাসন ব্যক্তির সাম্য ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।

#

উদ্দীপকে রাফির বাবা যে বিষয়টি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তার বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে রাফির বাবা তাকে পাঠ্য হিসেবে যে বিষয়টি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন সেটি হলো পৌরনীতি ও সুশাসন। মানুষ যেসব প্রতিষ্ঠান, অভ্যাস ও কার্যাবলি এবং চেতনার মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে পৌরনীতি ও সুশাসন সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া বিশ্বায়নের যুগে প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি নাগরিকদের সামনে সমস্যা ও জটিলতা বাড়ছে। তাই পৌরনীতির আলোচনার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। আগের মতো এর বিষয়বস্তু শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, বরং নাগরিকের কল্যাণসংশ্লিষ্ট সব দিকে বিস্তৃত হয়েছে। সুনাগরিকের গুণাবলি এবং নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য পৌরনীতি ও সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। উদ্দীপকের রাফি একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছে। বিষয় বেছে নেওয়ার জন্য সমস্যায় পড়লে সে তার বাবার কাছে পরামর্শ চায়। রাফির বাবা তাকে সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন এবং নাগরিক অধিকার ভোগ ও কর্তব্য পালনের জন্য নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়কে পাঠ্য হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দেন, যা পৌরনীতি ও সুশাসনকেই ইঙ্গিত করে। এছাড়া তিনি বলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতর একটি বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ আছে, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। রাফির বাবার আলোচ্য বিষয়গুলো অর্থাৎ নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। তাই কোনো নাগরিক যদি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে চায় তবে তার উচিত পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানা।