- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
নিলয় একটি দেশের সরকার, নাগরিক, স্বাধীনতা, আইন, রাষ্ট্রীয় নীতি ইত্যাদি সম্পর্কে জানার জন্য একটি বিষয় পাঠ করেছে। তার বন্ধু নিবিড় সমাজনীতি, রাষ্ট্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, জ্ঞাতি সম্পর্ক ইত্যাদি জানার জন্য আরেকটি বিষয় পাঠ করেছে।
পৌরনীতি ও সুশাসন কোন ধরনের বিজ্ঞান?
পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
জেন্ডার স্টাডিজ বলতে কী বোঝায়?
জেন্ডার স্টাডিজ বলতে এমন বিষয়কে বোঝায়, যা লৈঙ্গিক বিষয়গুলো বা নারী-পুরুষের মধ্যে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিদ্যমান বৈষম্য সম্পর্কে আলোচনা করে। জেন্ডার স্টাডিজের উদ্দেশ্য হলো নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষের জন্য বিশেষ করে সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করা। কীভাবে নারী-পুরুষের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, কীভাবে মানবাধিকার লজ্জিত হচ্ছে সেসব বিষয় নিয়েও জেন্ডার স্টাডিজ আলোচনা করে। জেন্ডার স্টাডিজের বক্তব্য হচ্ছে, রাষ্ট্র কোনোভাবে শুধু নারী বলে একজন মানুষকে অবজ্ঞা, অবহেলা এবং ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। এ বিষয় অধ্যয়নের লক্ষ্য হচ্ছে নারী-পুরুষের বৈষম্য বিলোপ করে সত্যিকার মানবাধিকারভিত্তিক একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
উদ্দীপকে নিলয় ও নিবিড়ের পাঠ্য বিষয়বস্তু কি অভিন্ন? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের নিলয় ও তার বন্ধু নিবিড় যে বিষয় দুটি পাঠ করেছে তা হলো পৌরনীতি ও সুশাসন এবং সমাজবিজ্ঞান। পৌরনীতি এবং সমাজবিজ্ঞানের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সুশাসন সমাজবদ্ধ মানুষের সামগ্রিক ক্রিয়াকলাপ ও সামাজিক জীবনের আলোচনা, বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করে থাকে সমাজবিজ্ঞান। অপরদিকে, সমাজবদ্ধ মানুষের অর্থাৎ নাগরিকের সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আচরণ ও কার্যাবলি সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করে পৌরনীতি ও সুশাসন। এ কারণেই পৌরনীতি ও সুশাসন এবং সমাজবিজ্ঞান গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। পৌরনীতি ও সুশাসন এবং সমাজবিজ্ঞান উভয়েই একে অপরের পরিপূরক। পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্র ও নাগরিকতা সম্পর্কিত বিভিন্ন সংগঠন সম্পর্কে আলোচনা করে সমাজবিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। অপরদিকে, সমাজবিজ্ঞান সমাজের উৎপত্তি, বিকাশ, মূল্যবোধ, সামাজিক পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করে পৌরনীতি ও সুশাসনের অধ্যয়নকে সমৃদ্ধ করে। পৌরনীতি ও সুশাসন হলো নাগরিকতা সম্পর্কিত বিজ্ঞান। নাগরিকতার ধারণা এবং ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক পৌরনীতি ও সুশাসন এবং সমাজবিজ্ঞান উভয়েরই আলোচ্য বিষয়। তবে সমাজবিজ্ঞানের পরিধি পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি অপেক্ষা বৃহত্তর। অনেক পৌর ও নাগরিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সমাজতাত্ত্বিক শিক্ষা ও গবেষণার বিষয়বস্তু। পৌরনীতি ও সুশাসনকে সমাজবিজ্ঞানের অংশরূপে বর্ণনা করা গেলেও উভয় বিজ্ঞানই পরস্পর নির্ভরশীল। সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্র এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানাদির উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে পৌরনীতি ও সুশাসনকে তথ্য সরবরাহ করে।অনুরূপভাবে পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজবিজ্ঞানের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করে উপরের আলোচনার শেষে বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন এবং সমাজবিজ্ঞানের মধো গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।
উদ্দীপকে নিলয় এর পঠিত বিষয়টি কী? এটি ছাড়া একটি দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়- বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে নিলয়ের পঠিত বিষয়টি হলো পৌরনীতি ও সুশাসন, যা ছাড়া একটি দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, নিলয় একটি দেশের সরকার, নাগরিক, স্বাধীনতা, আইন, রাষ্ট্রীয় নীতি ইত্যাদি সম্পর্কে জানার জন্য একটি বিষয় পাঠ করেছে। সে মূলত পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি পাঠ করেছে। কারণ এগুলো পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়। আর একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ বিষয়টির ভূমিকা অপরিহার্য। বর্তমানকালে পৌরনীতি পাঠের প্রয়োজনীয়তা অধিক। নাগরিক জীবনকে স্পর্শ করে এমন সব কিছু এবং নাগরিক অধিকার ও কর্তব্যের প্রায় সব দিক নিয়েই পৌরনীতি পর্যালোচনা করে। কোনো রাষ্ট্রের জনগণ পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকতা বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করে, রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে জানতে পারে। যা তাদেরকে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলে। পৌরনীতি পাঠের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার মানসিকতা গড়ে ওঠে। আবার পৌরনীতি ও সুশাসন জাতীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে আলোচনা করে এবং তা থেকে মুক্তির পথ নির্দেশ করে। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে, যা রাষ্ট্রের উন্নয়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে শাসকগণ শাসন ব্যবস্থার খুঁটিনাটি দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। এর ফলে সুষ্ঠুভাবে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তারা সুশাসন কায়েম করতে পারেন। আর রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে আর কোনো বাধা থাকে না। তাছাড়া নাগরিকদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে পৌরনীতির ভূমিকা অনন্য। এর ফলে একজন নাগরিক দেশের মঙ্গলের জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও ভয় পায় না। আর এ কারণেই বলা হয় পৌরনীতির জ্ঞান ছাড়' একটি দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

