• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জাহিন উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। সে তার পাঠ্যবিষয় হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বেছে নিয়েছে। এর প্রথমটি রাষ্ট্রে একজন নাগরিক হিসেবে ব্যক্তির কার্যাবলি ও অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করে, আর অন্যটি শিক্ষা দেয় কীভাবে একজন নাগরিক আয় ও ব্যয়ের সঠিক জ্ঞান লাভের মাধ্যমে জীবনকে সমৃদ্ধ করবে।

তুমি কীভাবে একজন স্থানীয় নাগরিক?

আমি স্থানীয়ভাবে রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করি এবং এর বিনিময়ে বিভিন্ন দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করি। এ সূত্রে আমি একজন স্থানীয় নাগরিক। স্থানীয়ভাবেই ব্যক্তির নাগরিক জীবন শুরু হয়। স্থানীয় এলাকায় বসবাস করতে গিয়ে নাগরিকের সাথে কতগুলো প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নাগরিক কতগুলো সেবা গ্রহণ করে এবং এই সেবার বিনিময়ে কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমরা নাগরিক সনদ, জন্মসনদসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করি। বিনিময়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের কর দেই।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

নাগরিকতা কী?

রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পায় তাকে নাগরিকতা বলে।

#

উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রথম বিষয়টি অধ্যয়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রথম বিষয়টি হচ্ছে পৌরনীতি ও সুশাসন। বর্তমান সময়ে এ বিষয়টি অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। পৌরনীতি ও সুশাসন হচ্ছে সেই শাস্ত্র যা নাগরিক অধিকার ও কর্তব্যের পাশাপাশি নাগরিক জীবনের সাথে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান ও আচরণ সম্পর্কে আলোচনা করে। সুনাগরিক হিসেবে সুসংহত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন লাভ করতে হলে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম বিষয়টি নাগরিক হিসেবে ব্যক্তির কার্যাবলি ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করে। বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে নিঃসন্দেহে বলা যায় এটি পৌরনীতি ও সুশাসন। এ বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকতার যাবতীয় দিক সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যায়। অতীতে নাগরিক জীবনের সূত্রপাত, নাগরিকতার স্বরূপ, বর্তমান যুগে নাগরিকতার ধরন, নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি এবং ভবিষ্যতে নাগরিকের সম্ভাব্য আচরণ ও কার্যাবলি ইত্যাদি বিষয় পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে জানা যায়। পৌরনীতি ও সুশাসন ব্যক্তিকে সুনাগরিকে পরিণত হওয়ার জন্য অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞানদান করে। একইসঙ্গে কর্তব্য পালনের মাধ্যমে অধিকার ভোগে সচেষ্ট হতে তাগিদ দেয়। এ সচেতনতার ফলে নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল হয়। আদর্শ নাগরিক হতে হলে ব্যক্তির বিচক্ষণতা থাকা প্রয়োজন। পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা এ গুণ অর্জন করতে সক্ষম হয়। উপরের আলোচনার ভিত্তিতে একথা জোর দিয়েই বলা যায়, উত্তম নাগরিক হয়ে আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ করা অত্যাবশ্যক।

#

'উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় দুটি পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত'-ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে উল্লিখিত পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি বিষয় দুটি গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। উভয়ই সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। পৌরনীতি ও সুশাসনকে বলা হয় নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। আর অর্থনীতিকে বলা হয় অর্থনীতি বিষয়ক বিজ্ঞান। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের অধিকার, দায়িত্ব, কর্তব্য, আচরণ, প্রত্যাশা প্রভৃতি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে। আর অর্থনীতি নাগরিকের কল্যাণে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। উভয়ের লক্ষ্য নাগরিকের কল্যাণ সাধন করা। প্রতিটি রাজনৈতিক সমস্যার যেমন অর্থনৈতিক দিক রয়েছে, তেমনি প্রতিটি অর্থনৈতিক সমস্যার রয়েছে রাজনৈতিক দিক। তাই রাজনীতিবিদদের অর্থনৈতিক জ্ঞান এবং অর্থনীতিবিদদের রাজনৈতিক জ্ঞান থাকা দরকার। সমাজসেবা, সমবায়, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, সম্পদের বণ্টন, উৎপাদন ইত্যাদি বিষয়গুলো পৌরনীতি ও অর্থনীতি উভয় শাস্ত্রেই গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়। পৌরনীতি ও সুশাসন মূলত নাগরিককে অধিকার ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন করে। অন্যদিকে অর্থনীতি মানুষের জীবনের অভাব ও চাহিদার মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করে সুন্দর ও সুখী জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এভাবে এ দুটি বিষয় নাগরিক জীবনকে পরিপূর্ণতা দেওয়ার জন্য কাজ করে। একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠনের স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধি সে দেশের অর্থনৈতিক সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আবার কোনো দেশের আর্থিক উন্নতি ও অবনতি সমানভাবে সে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান কল্যাণমূলক রাষ্ট্রগুলো নাগরিকের সার্বিক মঙ্গলের লক্ষ্যে কর্মসূচি গ্রহণ করে। সমবায় আন্দোলন, কর্মসংস্থান, মজুরি, খাজনা প্রভৃতি অর্থনৈতিক কাজগুলো রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এদিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি প্রকৃতই গভীরভাবে পরস্পর সম্পর্কিত দুটি বিষয়।