- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আনিকা পাঠ্যবিষয় হিসেবে পৌরনীতির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি বিষয় নিয়েছে। সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে মানুষের অসীম অভাব দূর করা যায় বিষয়টি সেই শিক্ষা দিয়ে থাকে। সম্পদ, উৎপাদন, বণ্টন ব্যবস্থা, বাজেট প্রভৃতি নিয়ে বিষয়টি আলোচনা করে। বস্তুত এ বিষয়ের জ্ঞান ছাড়া নাগরিকদের কল্যাণ সাধন করা কঠিন।
আনিকার পক্ষে কি সুনাগরিক হওয়া সম্ভব? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের আনিকার পক্ষে সুনাগরিক হওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি। রাষ্ট্রের সব নাগরিক সুনাগরিক নয়। যে বুদ্ধিমান, বিবেকবান ও আত্মসংযমী কেবল তাকেই সুনাগরিক বলা যায়। এসব গুণের অধিকারী ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকে, আইন মান্য করে, যথাসময়ে কর দেয়, নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয়, নিজের স্বার্থের আগে রাষ্ট্রের মঙ্গল ও উন্নয়নের কথা চিন্তা করে। উদ্দীপকের আনিকা পাঠ্যবিষয় হিসেবে পৌরনীতির সাথে অর্থনীতি নিয়েছে। এ দুটি বিষয়ের জ্ঞানই তাকে সুনাগরিক হতে সাহায্য করবে। উভয় বিষয়ের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করলে আমরা এ ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা পাব।
প্রথমত: পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিক হিসেবে মানুষের দায়িত্ব, কর্তব্য ও আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে, সীমিত সম্পদ দিয়ে কীভাবে মানুষ ও রাষ্ট্রের সর্বাধিক কল্যাণ সাধন করা যায়, অর্থনীতি তা নিয়ে আলোচনা করে। মূলত নাগরিকই উভয় শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়।
দ্বিতীয়ত: দেশের শাসনকার্যে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গকে শুধু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক, যেমন- উৎপাদন, বণ্টন, বিনিময়, বাজেট প্রণয়ন ইত্যাদির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতে হয়। তারা যদি জাতীয় চরিত্র ও নাগরিক আচরণের প্রতি লক্ষ না রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন, তবে তা ফলপ্রসূ হবে না। তাই পৌরনীতি ও অর্থনীতি উভয় শাস্ত্রের শিক্ষা সুনাগরিক ও সফল নেতৃত্ব গঠনে সমান্তরালভাবে ভূমিকা রাখে।
তৃতীয়ত: সীমিত সম্পদ দিয়ে সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাজনীতিবিদদের অর্থনীতির জ্ঞান প্রয়োজন। আবার সফলভাবে প্রশাসন পরিচালনা ও নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করতে অর্থনীতিবিদদের পৌরনীতির জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
ওপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, আনিকা পৌরনীতির পাশাপাশি অর্থনীতির পাঠ নিয়ে উল্লিখিত গুণগুলো আয়ত্ত ও বাস্তবজীবনে প্রয়োগ করলে অবশ্যই সনাগরিক হতে পারবে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
পৌরনীতি কী?
পৌরনীতি হলো সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা, যা নাগরিকতার সাথে সম্পর্কিত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
পৌরনীতির সাথে ইতিহাসের দুটি সম্পর্ক লেখো।
পৌরনীতি ও সুশাসন হচ্ছে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান, আর ইতিহাস হলো মানবজাতির সামগ্রিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি। তাই এ দুই বিষয়ের সম্পর্ক নিবিড়। পৌরনীতি ও সুশাসন এবং ইতিহাসের দুটি সম্পর্ক নিচে দেওয়া হলো-
১. পৌরনীতি ও সুশাসনে আলোচিত বিষয়সমূহ যেমন পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র প্রভৃতি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ অতীতে কেমন ছিল, কীভাবে তা বিবর্তিত হয়ে বর্তমান রূপ পরিগ্রহ করেছে ইতিহাস পাঠ করলে তা জানা যায়।
২. ঐতিহাসিক তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকে। তেমনি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচিত না হলে ইতিহাসের আলোচনাও খণ্ডিত ও অনেকাংশে নিরর্থক।
আনিকা পাঠ্যবিষয় হিসেবে পৌরনীতির সাথে যে বিষয়টি নিয়েছে তার উপযোগিতা ব্যাখ্যা করো।
আলোচ্য উদ্দীপকে আনিকা পাঠ্যবিষয় হিসেবে পৌরনীতির সাথে গভীর সম্পর্কিত অর্থনীতি বিষয়টি গ্রহণ করেছে। কেননা অর্থনীতি সম্পদ, উৎপাদন, বণ্টনব্যবস্থা, বাজেট এবং সর্বোপরি সীমিত সম্পদ কাজে লাগিয়ে মানবকল্যাণের তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করে। প্রকৃত বাস্তবতায় অর্থনৈতিক কল্যাণ ব্যতীত কোনো ধরনের নাগরিক কল্যাণ সম্ভব নয়। দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে বহুমুখী অভাবের সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু এসব অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। সীমিত সম্পদ দিয়ে কীভাবে অসীম অভাবের মধ্যে প্রয়োজনীয় অভাবগুলোকে পূরণ করা যায় তা অর্থনীতি পাঠের মাধ্যমে জানা যায়। আবার যেহেতু মানুষের অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদ সীমিত, তাই এই সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার আবশ্যক। অর্থনীতি সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের শিক্ষা প্রদান করে। তাছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একজন রাজনীতিবিদের অর্থনীতির জ্ঞান থাকাও আবশ্যক। আর অর্থনীতি পাঠে মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ ও সুনাগরিকের গুণাবলি বিকশিত হয়। উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসনের পাশাপাশি অর্থনীতি পাঠ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর।

