- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- যৌবনের গান [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
যুবকেরা পাগল, বাবুদের মতো সহজেই তাদের মনে প্রতিবাদী চেতনার সৃষ্টি হয়। কারাগারে ফাঁসিতে কিছুতেই তাদের দর্পিত প্রাণ কাবু হয় না। এদের স্থিরতা, বীরত্ব, গাম্ভীর্য, ধর্মভয়, বিনয় জজ্ঞান বলতে কিছু নেই। ওরা সত্যিই পাগল, বাষ্পীয় ইঞ্জিনে আবন্দ শক্তি বলা যায়।
কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন কেন?
কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন কারণ তারা সকল ধর্মের, সকল দেশের, সকল জাতির ও সর্বকালের হয়ে মানবকল্যাণে কাজ করে থাকে। ঘুণেধরা সমাজকে বসবাসের উপযোগী করে সুখ-সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তরুণেরা কুসংস্কার, অনাচার ও বার্ধক্যের মূলোৎপাটন করে। জাতিকে স্বপ্নময় নতুন সমাজ উপহার দিতে তারা জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। এভাবে অন্ধকারকে দূর করে জগৎকে আলোকিত করে বলেই তাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন।
উত্তরের সারবস্তু: তরুণেরা জীর্ণতা, বার্ধক্য, কুসংস্কার ও মিথ্যাকে চূর্ণ করে জগৎকে আলোকিত করে। মরণপণ করে হলেও তারা নতুন সমাজ গড়ে তোলে। এজন্যে কবি তরুণদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে তাদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'বনের পাখির মতো গান করা স্বভাব'- কার?
বনের পাখির মতো গান করা কবির স্বভাব।
অনুচ্ছেদে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যুবকের কোন রূপটি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের যৌবনের অপ্রতিরোধ্য রূপটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে ফুটে উঠেছে। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে তারুণ্যের অপ্রতিরোধ্য, উদ্দাম রূপ। প্রাবন্ধিকের মতে, তরুণ তারাই যাদের শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝরার মতো, তেল সূর্যের মতো। বিপুল যার আশা, ক্লান্তিহীন যার উৎসাহ, বিরাট যার ঔদার্য, অফুরন্ত যার প্রাণ, অটল যার সাধনা, মৃত্যু যার মুঠিতলে সে-ই তরুণ। তরুণদের মাঝে থাকে এক দুরন্ত-দুর্বার শক্তি। আলোচ্য উদ্দীপকে যুবকদের উদ্দামের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তারা ফাঁসির রজ্জু দেখে মৃত্যুভয়ে কম্পিত হয় না, তাদের গতিবেগ অপ্রতিরোধা। স্থিরতা, বীরত্ব, গাম্ভীর্য, ধর্মভয় বা বিনয়জ্ঞান তাদের নেই। সবকিছু ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তারা পাগলের মতো, বাবুদের মতো, বাষ্পীয় ইঞ্জিনে আবন্ধ শক্তির মতো ছুটে চলে। আলোচ্য প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের ধারক অর্থাৎ যুবকের মধ্যেও এসব বৈশিষ্টা বিদ্যমান। এ প্রবন্ধের বক্তব্য অনুযায়ী যারা সব বাধা অতিক্রম করে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে হাসিমুখে সামনে এগিয়ে যায় তারাই যুবক- জয়মুকুট তাদেরই প্রাপ্য। উদ্দীপকটিতে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের যুবকের মধ্যে বিরাজমান উদ্দাম, অপ্রতিরোধ্য যৌবনধর্মই প্রকাশ পেয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের যৌবনের' অপ্রতিরোধ্য উদ্দামের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। তরুণরা মৃত্যুকে হাতে নিয়ে দুরন্ত-দুর্বার গতিতে সকল বাধাকে তুচ্ছ করে এগিয়ে যায় সামনে।
"অনুচ্ছেদে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের আংশিক বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে।" মন্তব্যটির যৌক্তিক মূল্যায়ন করো।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক যৌবনের দুর্বার রূপ ছাড়াও মাতৃময়ী রূপের কথা বলেছেন, যা উদ্দীপকে সম্পূর্ণরূপে ফুটে ওঠেনি। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে তারুণ্য বা যৌবনের প্রকৃতি, রূপভেদ ও যুবকদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যৌবনের দুটি রূপ-একটি উদ্দামের রূপ, অপরটি মাতৃরূপ। যৌবনের উদ্দামের দিকটি অপ্রতিরোধ্য বিপ্লবী ভূমিকা পালন করে। আর যৌবনের মাতৃরূপ মানবকল্যাণে ব্রতী হয়ে সেবাপরায়ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের তরুণেরা উদ্দাম, দুরন্ত। তারা প্রাণের উভাপে পাগল। মৃত্যুকে তারা পদাবনত করে রাখে। ফাঁসি-কারাদণ্ড কিছুই তারা তোয়াক্কা করে না। বাষ্পীয় ইঞ্জিনে আবদ্ধ শক্তির মতো সবকিছু ছিন্নভিন্ন করে নব সৃষ্টির উল্লাসে মাতোয়ারা তারা।
উদ্দীপকে বর্ণিত তারুণ্যের দুর্বার রূপ খুঁজে পাওয়া যায় আলোচ্য প্রবন্ধে বর্ণিত কালাপাহাড়ের অসিতে, কামাল-করিম-মুসোলিনি-লেনিনের শক্তিতে। এসব যৌবনদীপ্ত তরুণরা নতুনকে উন্মোচিত করার নেশায় মাতোয়ারা। অপরদিকে, যৌবনের মাতৃরূপ দেখা যায় যখন তারা দুর্দশাগ্রস্তের, দুর্বলের ও হতাশের পাশে বল হয়ে দাঁড়িয়ে তাদের সাহস জোগায়। কিন্তু উদ্দীপকে যৌবনের এমন বহুমুখী বর্ণনা নেই যা 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের সমগ্রতাকে ধারণ করে। ফলে আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি, উদ্দীপকে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের আংশিক বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: আলোচ্য উদ্দীপকটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধটিকে আংশিক উপস্থাপন করেছে। যৌবনের উদ্দামতা, চঞ্চলতার রূপটি এখানে ফুটে উঠলেও তার মাতৃরূপ বা সেবাপরায়ণ ভূমিকা সম্পর্কে কোনো আলোকপাত অনুচ্ছেদে করা হয়নি। প্রশ্নোল্লিখিত উক্তিটি তাই যথার্থ।

