- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অর্ধাঙ্গী [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রেণু ও রাজু একই পিতা-মাতার সন্তান। কিন্তু তাদের পিতা-মাতা রাজুকে রেণু অপেক্ষা বেশি আদর-যত্ন করে। দুই ভাইবোন খেতে বসলে বড়ো ভাগটা রাজু পায়। রাজু কোনো অপরাধ করলে তাঁদের পিতা-মাতা বেটা ছেলে বলে আমলে নেয় না। রাজুর জন্য গৃহশিক্ষক থাকলেও রেণুর জন্য তা রাখা হয়নি। রেণু যতই বয়ঃপ্রাপ্ত হচ্ছে পিতা-মাতা তার বিয়ে দেওয়ার জন্য ততই ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। এতে রেণু আপত্তি করলে তার মা বলেন, মেয়েদের এত লেখাপড়া শিখে কাজ নেই, বরং ঘর-দোর সাজানো গোছানো, সুয়েটার বুনন এবং রান্না করাটা শিখে নিলে তা কাজে আসবে।
'অনুচ্ছেদে রেণুর মায়ের মনোভাব সমকালীন প্রতিক্রিয়াশীল সমাজের মনোভাবেরই সমান্তরাল।' মন্তব্যটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে আমাদের সমাজে নারীর প্রতি অবহেলার চিত্র প্রকাশিত হয়েছে যা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আমাদের সমাজে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন। পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে অসমর্থ। পরিবারের সদস্যরাও তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে। এমনকি পরিবারের একজন নারী সদস্যও অন্য নারীর অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সচেতন হয় না।
উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে একটি পরিবারের গল্প। গল্পটিতে রেণু-রাজু দু ভাইবোনের প্রতি তাদের বাবা-মার আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। রেণু ও রাজু ভাইবোন হলেও তাদের মা রেণুর চেয়ে রাজুকে বেশি ভালোবাসেন। খাবারের ক্ষেত্রেও তিনি রাজুকেই প্রাধান্য দেন। কোনো অপরাধ করলে ছেলে বলে তার কোনো বিচার হয় না। এমনকি রাজুর লেখাপড়ার জন্য গৃহশিক্ষক রাখা হলেও রেণুর জন্য তা রাখা হয় না।
উদ্দীপকে অপরিণত বয়সে রেণুর আপত্তি সত্ত্বেও তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠার মধ্য দিয়ে তার মা সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দেন। গতানুগতিক সবার মতো তিনিও মনে করেন মেয়েদের বেশি লেখাপড়া শেখার দরকার নেই। বরং ঘর-গৃহস্থালির কাজকর্ম শিখলে তা তার ভবিষ্যতে কাজে আসবে। মূলত রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে নারীদের প্রতি সমাজের প্রচলিত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। উদ্দীপকে রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে নারীর প্রতি পরিবারের অবহেলার চিত্রটি প্রকাশিত হয়েছে, যা আলোচ্য প্রবন্ধেরই প্রতিরূপ।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের রেণুর প্রতি তার মায়ের মনোভাবের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে নারীদের প্রতি সমাজ ও পরিবারের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও দেখা যায় যে, নারীরা সমাজে অবহেলিত- তাদের প্রাপ্য সম্মান তারা পায় না। উদ্দীপকের রেণুও তার মায়ের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির শিকার হয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'শমস-উল-ওলামা' অর্থ কী?
'শমস-উল-ওলামা' অর্থ জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য।
'স্বামীর' স্থলে 'অর্ধাজা' শব্দটি প্রচলিত হওয়ার যৌক্তিকতা বর্ণনা করো।
'স্বামী'র স্থলে 'অর্থাভঙ্গ' শব্দটি প্রচলিত হলে নারীরা নিজেদের দাসী না ভেবে প্রকৃত অর্থেই স্বামীর অর্ধাঙ্গী ভাবতে পারবে এবং মানসিক দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হবে। সুস্থভাবে জীবনযাপন করার জন্য শরীরের প্রতিটি অজ্ঞাই যেমন মূল্যবান, সমাজে নারী-পুরুষও ঠিক তেমনই। পুরুষ যদি নারীর প্রভু হয় তাহলে উন্নয়নের গতি স্থবির হয়ে পড়ে। এ কারণে 'স্বামী' বা 'প্রভু' শব্দের পরিবর্তে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি প্রচলিত হওয়া উচিত। তাহলে নারীরা নিজেদের পুরুষের সহযোগী ভাবতে পারবে।
উত্তরের সারবস্তু: 'স্বামী' শব্দের অর্থ প্রভু আর 'অর্ধাঙ্গ' অর্থ অর্ধেক অঙ্গ। তাই 'স্বামী'র স্থলে 'অর্ধাজ্ঞা' শব্দটি প্রচলিত হলে নারীরা নিজেদের দাসী না ভেবে অর্ধাঙ্গী ভাবতে পারবে এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হবে।
অনুচ্ছেদে রেণুর পরিবারে নারীর যে অবস্থাটি ফুটে উঠেছে তা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পরিবারে মেয়েদের অবহেলিত হওয়ার বাস্তবানুগ চিত্র এঁকেছেন যা উদ্দীপকে বর্ণিত পরিবারের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া নারীর সামাজিক অবস্থানের চিত্র তুলে ধরেছেন। পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষতান্ত্রিক চেতনা থেকে পুরুষদের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। অন্যদিকে নারীর মৌলিক চাহিদাগুলোও অপূর্ণ থাকে। শুধু নারী বলেই তাদেরকে স্নেহ-ভালোবাসা ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বিয়ে ছাড়া তাদের কোনো গতি থাকে না।
উদ্দীপকে রেণু ও রাজু একই বাবা-মায়ের সন্তান হলেও মেয়ে বলে রেণুকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়। স্নেহ থেকে শুরু করে পড়াশোনা পর্যন্ত সবখানেই তাকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার বাবা-মা ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তাঁদের মতে, মেয়েদের এত লেখাপড়া শেখার দরকার নেই বরং তাদের গৃহস্থালির কাজ শেখা উচিত। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও দেখানো হয়েছে যে, আমাদের সমাজে নারীর অবস্থান পুরুষের চেয়ে অনেকাংশে কম। পুরুষেরা পার্থিব-অপার্থিব সকল সুযোগ-সুবিধা অধিক মাত্রায় ভোগ করতে পারলেও নারীরা তা পারে না।
উত্তরের সারবস্তু: এদেশের পরিবারে নারীর বঞ্চনা ও অবহেলার যে চিত্র বেগম রোকেয়া 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে এঁকেছেন, উদ্দীপকের রেণুর পরিবারে সে চিত্রই সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। এ থেকে আমাদের সমাজে নারীর বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়।

