- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অর্ধাঙ্গী [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
শেক্সপিয়রের বিস্ময়কর প্রতিভাধর বোনের নাম ডুডিথ। মা-বাবার উৎসাহে শেক্সপিয়র গ্রামের স্কুলে পড়েছিলেন। অনেক মহৎ সাহিত্য, যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণের প্রাথমিক পাঠ শিখেছিলেন। বাল্যকালে দুরন্ত শেক্সপিয়র খরগোশ, হরিণ শিকার করতেন। জীবনের এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে। পরবর্তী জীবনে সাফল্য এনে দেয়। ডুডিথ ভাইয়ের মতোই সাহসী, কল্পনাপ্রবণ এবং বিশ্বজয়ে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু মেয়ে বলে মা তাঁকে স্কুলে পাঠালেন না। লুকিয়ে ভাইয়ের বই পড়তে দেখলে মা বকা দিয়ে রান্না করতে পাঠিয়ে দিতেন। কৈশোরের পূর্বেই তাঁর বাগদান হয়ে গেল।
'অবলা জাতি' অর্থ কী?
'অবলা জাতি' অর্থ- বলহীনা।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'অবরোধ প্রথা' বলতে কী বোঝো?
'অবরোধ প্রথা' বলতে মেয়েদের লোকচক্ষুর আড়ালে অন্তঃপুরে আটকে রাখার নিয়মকে বোঝায়।
সমাজের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারীরা সংসারের গণ্ডিতেই বাঁধা পড়ে থাকে। নারীর স্থান শুধু গৃহে এবং গৃহকর্মই তার জীবনের উদ্দেশ্য, এমন যুক্তি দেখিয়ে সংকীর্ণমনারা নারীকে গৃহে বন্দি থাকতে বাধ্য করে। সুশিক্ষার অভাবে মানসিক দাসত্বের হাত থেকেও তারা মুক্তি পায় না। নারীকে শুধু অন্তঃপুরের শোভা বিবেচনা করে তাদের গৃহকোণে বন্দি করেছে রূপমণ্ডুকেরা। পুরুষশাসিত সমাজে নারীর এ বন্দিদশাই 'অবরোধ প্রথা' বলে পরিচিত।
উত্তরের সারবস্তু: 'অবরোধ প্রথা' বলতে মেয়েদের লোকচক্ষুর আড়ালে অন্তঃপুরে আটকে রাখার নিয়মকে বোঝায়।
ডুডিথের মায়ের মানসিকতাকে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের 'মানসিক দাসত্বের' সঙ্গে কীভাবে তুলনা করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ডুডিথকে মুক্তবুদ্ধি চর্চার সুযোগ না দিয়ে তাঁকে ব্যক্তিত্বহীন করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার কারণে ভুডিথের মায়ের মানসিকতাকে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের 'মানসিক দাসত্বের' সঙ্গে তুলনা করা যায়।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীর ব্যক্তিত্বহীনতা, পুরুষের অধীনে থেকে অন্ধভাবে তাদের অনুসরণ এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চার অক্ষমতাকে 'মানসিক দাসত্ব' বলে অভিহিত করেছেন। নারী-পুরুষের বৈষম্যের কারণে আমাদের সমাজে নারীরা আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার সুযোগ পায় না। নিজের ইচ্ছার কোনো মূল্য না পেয়ে তাদের হৃদয়ের উচ্চবৃত্তিগুলো অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। মানসিকভাবে তারা পুরুষ ও সমাজের দাসত্বকেই বরণ করে নিতে বাধ্য হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত শেক্সপিয়র এবং ভুডিথের মা-ও সমাজের অন্যান্য নারীদের মতোই মানসিক দাসত্বের শিকার। একজন নারী হয়েও কন্যার জীবনকে তিনি আলোয় উদ্ভাসিত হতে দিতে চাননি। ভুডিথ তাঁর ভাই শেক্সপিয়রের মতোই সাহসী ও কল্পনাপ্রবণ ছিলেন। বাল্যকালেই তাঁর মধে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু তাঁর মা তাকে স্কুলে যেতে দেননি। এমনকি লুকিয়ে কোনো বইয়ে চোখ বুলাতে গেলে মায়ের ধমক খেয়ে ডুডিথকে রান্না ঘরে চলে যেতে হতো। উচ্ছল কিশোরী বয়সেই তাঁকে বিয়ের আংটি পরতে হয়। এসব কিছুর জন্যই দায়ী হলেন ডুডিথের অসচেতন মা। তাঁর মস্তিষ্ক ও হৃদয় পুরুষশাসিত সমাজের দাসে পরিণত ছিল বলে মেয়েকেও তিনি সে পথেই চালিত করেন। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার অন্ধ অনুসরণকেই 'মানসিক দাসত্ব' বলা হয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: ভুডিথকে মুক্তবুদ্ধি চর্চার সুযোগ না দিয়ে তাঁকে ব্যক্তিত্বহীন করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার কারণে ভুডিথের মায়ের মানসিকতাকে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের 'মানসিক দাসত্বের' সঙ্গে তুলনা করা যায়।
"ডুডিথের প্রতিভা বিকাশের অন্তরায়সমূহ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে।"- তোমার মতামত দাও।
ডুডিথের প্রতিভা বিকাশের প্রধান অন্তরায়সমূহ হচ্ছে, পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থা এবং নারীদের মানসিক দাসত্ব- যা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও আলোচিত হয়েছে।
নারীদের অন্তর্গত শক্তি ও প্রতিভা বিকাশের জন্য উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। সেই সঙ্গে নিজেদের যোগ্যতা ও মর্যাদা সম্পর্কে নারীদের সচেতন হতে হবে। প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় এ দুটি দিকেই অভাব রয়েছে বলে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে উল্লেখ আছে। মানসিক দাসত্বের কারণে-একজন মা নারী হয়েও তার কন্যাসন্তানের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ডুডিথ ছিলেন বিস্ময়কর প্রতিভাধর এবং স্বপ্নবাজ এক উচ্ছল কিশোরী। তাঁর-ভাই শেক্সপিয়র বিশ্বব্যাপী পরিচিত হলেও ডুডিথের প্রতিভা বিকশিত হওয়ারই সুযোগ পায়নি। মেয়ে বলে সে স্কুলে যেতে পারে না। বই পড়ার বদলে তাকে রান্না শিখতে হতো। তাঁর প্রতিভার বিকাশে মূল বাধা ছিল মানসিক দাসত্বে গড়া তাঁর মায়ের অসচেতন মানসিকতা। এরই ফলশ্রুতিতে মেয়ের প্রতি তিনি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে দ্বিধা করতেন না।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে মূলত নারীর ব্যক্তিত্বহীনতা, মুক্তবুদ্ধিচর্চার অক্ষমতা এবং সামাজিক অনুদারতাকেই নারী প্রতিভা বিকাশের অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে তা থেকে উত্তরণের কথা আলোচিত হয়েছে। নারীসমাজের পশ্চাৎপদতাকে বিবেচনায় নিয়ে, নারীদের প্রতিভা বিকাশের অন্তরায়সমূহ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারীর মানসিক দাসত্বই তাদেরকে বিকশিত হতে দেয় না- প্রবন্ধে আলোচিত এ বক্তব্যই উদ্দীপকের ভূডিথের প্রতিভা বিকাশের অন্তরায় হিসেবে কাজ করেছে। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোচ্য বক্তব্যও তেমন চিন্তা-চেতনাই প্রকাশ করে।
উত্তরের সারবস্তু: ডুডিথের প্রতিভা বিকাশের প্রধান অন্তরায়সমূহ হলো, পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থা এবং নারীদের মানসিক দাসত্ব- যা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও আলোচিত হয়েছে।

