• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

আশিক ও আনিস দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। আশিক ভবিষ্যতে শল্যচিকিৎসাবিদ হওয়ার জন্য মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক। আনিস রসায়নবিদ হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়। আর একজন ছাত্রী গণিত শাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে আগ্রহী।

গণিতশাস্ত্রে মুসলমানদের অবদান লেখ।

গণিতশাস্ত্রে মুসলমানদের অবদান অবিস্মরণীয়।

গণিতশাস্ত্রে মুসলমানরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— মুসা আল খাওয়ারেজমি, ওমর খৈয়াম, আল- বিরুনী, আল-বাত্তানি ও নাসির উদ্দীন তুমি। মুসা আল-খাওয়ারেজমিকে বীজগণিতের জনক বলা হয়। ওমর খৈয়াম ঘনসমীকরণ ও অন্যান্য উন্নততর সমীকরণের সাহায্যে বীজগণিতের উন্নতি সাধন করেন। আর আল-খাওয়ারেজমির পরে দ্বিতীয় সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম গণিতবিদ হলেন বিরুনি। গণিতে তার শ্রেষ্ঠতম অবদান 'আল কানুন আল মাসউদি'। এটিকে গণিতশাস্ত্রের বিশ্বকোষ বলা হয়। আবার, ত্রিকোণমিতির অনুপাত প্রকাশ আল-বাতানির প্রধান কীর্তি। গণিতে গণিতবিদ নাসির উদ্দীন তুসির ভূমিকাও অপরিসীম।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কিতাবুল মানাযির গ্রন্থের লেখক কে?

কিতাবুল মানাযির গ্রন্থের লেখক হাসান ইবনে হায়সাম।

#

কাকে অনুসরণ করলে আনিসের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে? ব্যাখ্যা করো।

মুসলিম মনীষী ও রসায়নশাস্ত্রের জনক জাবির ইবনে হাইয়ানকে অনুসরণ করলে আনিসের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

মুসলিম মনীষী জাবির ইবনে হাইয়ান হলেন রসায়নশাস্ত্রের জনক। তার বড় কৃতিত্ব হলো তিনি রাসায়নিক সূত্র ও পদ্ধতির ব্যাবহারিক রূপ দেন। তিনি ধাতুর মানগত উন্নতি সাধন করেন। স্টিল ও লোহা তৈরি, মারকাসাইট থেকে স্থায়ী লেখার কালি, চামড়া ও কাপড় রং করা, লোহা সংরক্ষণের জন্য বার্নিস ব্যবহার করার পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড থেকে কাচ তৈরি করা, এসিডের ঘনত্বের জন্য অম্লরস এবং চোলাই করার পদ্ধতির সফল প্রয়োগ করেন। সাইট্রিক এসিড, সিলভার নাইট্রেড, কিউরিক ক্লোরাইড, এন্টিমনি, আর্সেনিক প্রভৃতি ব্যবহারের বিষয়েও তার বিশেষ জ্ঞান ছিল। তিনি লবণ তৈরির একটি সফল ব্যাবহারিক পদ্ধতিরও উদ্ভাবন করেন ।

উদ্দীপকে দেখা যায়, আর্মিস রসায়নবিদ হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়। এক্ষেত্রে আনিসের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে হলে তাকে রসায়ন শাস্ত্রের জনক জাবির ইবনে হাইয়ানকে অনুসরণ করাই যুক্তিযুক্ত। কারণ উক্ত রসায়নশাস্ত্রের জনকের সফল গবেষণা ও কীর্তি আনিসকে অপ্রতুল অনুপ্রেরণা যোগাবে, যা তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার ক্ষেত্রে অপরিসীম ভূমিকা পালন করবে। সুতরাং রসায়নশাস্ত্রের জনক জাবির ইবনে হাইয়ানকে অনুসরণ করলে আনিসের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

#

আশিকের মেডিকেলে ভর্তির উদ্দেশ্য ইসলামের দৃষ্টিতে কীরূপ হয়েছে? বিশ্লেষণ করো।

শাকিলের মেডিকেলে ভর্তির উদ্দেশ্য ইসলামের দৃষ্টিতে যথার্থ বলে আমি মনে করি ।

কেননা মানব সেবার যে ব্রত নিয়ে সে মেডিকেলে ভর্তির ইচ্ছা পোষণ করেছে তা প্রশংসার দাবিদার। চিকিৎসাশাস্ত্রের গোড়াপত্তন হয়েছিল মুসলমানদের হাত ধরে। আবু বকর আল-রাযি, ইবনে সিনা, হাসান ইবনে হায়সাম প্রমুখ বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী এ শাস্ত্রকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়েছিলেন। ইবনে সিনার কানুন ফিতি', আবু বকর আল রাযির ‘আল-হাবী' গ্রন্থগুলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের অমর সৃষ্টি। মূলত এ গ্রন্থগুলো গবেষণা, অধ্যয়ন করে অমুসলিমরা চিকিৎসাশাস্ত্রে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করেছে। অথচ আজ মুসলিমরা তাদের অতীত গৌরব হারিয়ে সমগ্র বিশ্বে পিছিয়ে পড়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্র যে তাদের হাত ধরেই জন্ম নিয়েছে এ কথা তারা ভুলে আজ পাশ্চাত্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। নিজেদের মেধাকে তারা গবেষণার কাজে ব্যবহার করছে না। রাসুল (স) বলেন, 'রাতে একঘণ্টা জ্ঞানচর্চা করা সারা রাতের ইবাদতের চেয়েও উত্তম'। (দারিমি) রাসুল (স) শুধু একজন নবি ও রাসুল ছিলেন না বরং একজন চিকিৎসকও ছিলেন। পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন গাছপালা, শাকসবজির কথা রয়েছে, যেগুলো ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে মানবসেবা, মুসলমানদের অতীত গৌরব ধরে রাখা এবং জ্ঞানচর্চার জন্য শাকিলের মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্তটি যথার্থ।