- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- যৌবনের গান [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'দুরন্ত পথিক চলিয়াছিল, সেই মুক্ত দেশের উদবোধন বাঁশির সুর ধরিয়া।... এইবার তাহার পণের বিভীষিকা জুলুম আরম্ভ করিল। পথিক দেখিল, ওই পথ বাহিয়া যাওয়ার এক-আধটি অস্ফুট পদচিহ্ন এখনও যেন জাগিয়া রহিয়াছে। পথের বিভীষিকা তাহাদেরই মাথার খুলি এই নূতন পথিকের সামনে ফেলিয়া দিয়া বলিল, এই দেখ এদের পরিণাম। সেই খুলি মাথায় করিয়া নূতন পথিক আর্তনাদ করিয়া উঠিল, আজ, এরাই তো আমায় ডাক দিয়েছে। আমি এমনি পরিণাম চাই। আমার মৃত্যুতেই তো আমার শেষ নয়, আমার পশ্চাতে ওই যে তরুণ যাত্রীর দল, ওদের মাঝেই আমি বেঁচে থাকব। বিভীষিকা বলিল, 'তুমি কে?' পথিক হাসিয়া বলিল, 'আমি চিরন্তন মুস্তিকামী।'
উদ্দীপকের যৌবন ভাবনা ও 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের যৌবন ভাবনার স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপক ও 'যৌবনের গান' প্রবন্ধ উভয় স্থানেই যৌবনের অকুতোভয় বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক উদাত্ত কণ্ঠে যৌবনের বন্দনা করেছেন। আবেগময় ভাষায় তিনি যৌবন ও বার্ধক্যের পার্থক্য নির্ণয় করেছেন যৌবনের পক্ষে তাঁর সমর্থন উপস্থাপন করেছেন। বয়স দিয়ে তিনি তারুণ্যের সংজ্ঞা নিরূপণ করতে রাজি নন। কারণ তিনি অনেক যুবকের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কালমূর্তি দেখেছেন। আবার এমন বৃদ্ধও দেখেছেন যাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে বিরাজ করে মেঘমুক্ত সূর্যের ন্যায় প্রদীপ্ত তারুণ্য। এ তারুণ্য যার মধ্যে বিদ্যমান সে-ই যুবক। আর যার মধ্যে তারুণ্য নেই- বয়সে নবীন হলেও সে বৃদ্ধ। উদ্দীপকে দূরন্ত পথিকের মধ্যে যৌবনশক্তি প্রকাশিত হয়েছে, যার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভীষিকা। পথের বিভীষিকা পথিককে নানাভাবে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করছে। কিন্তু পথিক সে বাধা কিছুতেই মানতে চাইছে না, কারণ সে যৌবনের ধর্মে দীক্ষিত। আলোচ্য প্রবন্ধেও অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার যৌবন। তাই সে মৃত্যুকে উপেক্ষা করে সমস্ত বাধা পেরিয়ে দুর্বার গতিতে প্রগতির পথে এগিয়ে চলে। এভাবেই প্রবন্ধ ও 'উদ্দীপকে প্রকৃত যৌবনের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের বক্তব্য মূলত একই। উভয় স্থানেই দুরন্ত তারুণ্য ও যৌবনের পথ রুদ্ধ করে বিভীষিকারূপী বার্ধক্য। যৌবন বা তারুণ্য তাতে পিছপা হয় না- মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে যায় দুর্বার গতিতে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
বিপন্ন মানবতার পাশে যৌবন কী ভূমিকা নিয়ে দাঁড়ায়?
বিপন্ন মানবতার পাশে যৌবন সেবাব্রতী ভূমিকা নিয়ে দাঁড়ায়।
লেখক কীভাবে যৌবনের মাতৃরূপ প্রত্যক্ষ করেছেন?
যৌবনশক্তির অধিকারী তরুণেরা যখন মায়ের মতো দুর্গতদের সেবাযত্ন করে, তখন প্রাবন্ধিক তাদের ভিতর যৌবনের মাতৃরূপ প্রত্যক্ষ করেন।
যৌবনের অধিকারী তরুণেরা যখন মায়ের মতো সেবার মাধ্যমে মানবতার কল্যাণ সাধন করে, তখন তাদের সে ভূমিকাকে যৌবনের মাতৃরূপ বলে অভিহিত করেন লেখক। শব বহন করে যৌবন যখন শাশানঘাটে, গোরস্তানে যায়, অনাহারে থেকে যখন সে অন্ন পরিবেশন করে দুর্ভিক্ষ-বন্যা-পীড়িতদের মুখে, বন্ধুহীন রোগীর শয্যাপার্শ্বে যখন সে রাত্রির পর রাত্রি জেগে পরিচর্যা করে, যখন দুর্দশাগ্রস্তদের জন্য পথে পথে গান গেয়ে অর্থ সংগ্রহ করে, যখন দুর্বলের পাশে বল হয়ে দাঁড়ায়- তখনই সে যৌবনের মাঝে মাতৃরূপ উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।
উত্তরের সারবস্তু: যৌবনের অধিকারী তরুণেরা যখন মায়ের মতো সেবার মাধ্যমে মানবতার কল্যাণ সাধন করে তখন প্রাবন্ধিক তার ভিতরে যৌবনের মাতৃরূপ প্রত্যক্ষ করেন।
"উদ্দীপকে বর্ণিত বিভীষিকা ও 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের বার্ধক্য একইসূত্রে বাঁধা।"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
স্বপ্নময় নতুন মন্ত্রজীবনের পথে বাধা দেওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের বিভীষিকা ও 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের বার্ধক্য একইসূত্রে গাঁথা।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে যৌবনের জয়গান করার পাশাপাশি বার্ধক্যের স্বরূপ অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণভাবে চিহ্নিত হয়েছে। যারা সূর্যোদয় দেখে নিদ্রাভঙ্গের ভয়ে দরজা বন্ধ করে পড়ে থাকে, আলোর প্রত্যাশীদের কোলাহলে যারা বিরক্তি প্রকাশ করে, জীর্ণ পুঁথি পড়ে যারা নিজেকে অতিজ্ঞানী ভাবে-বৃদ্ধ তারাই। উদ্দাম ও প্রাণচাঞ্চল্য এদের মাঝে নেই। মিথ্যা ও পুরাতন খ্যান-ধারণায় বিশ্বাসী বলে বার্ধক্য গতিহীন।
উদ্দীপকের বিভীষিকা ও দূরন্ত পথিক পরস্পর বিরোধী মনোভাবের অধিকারী। দুরন্ত পথিক অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আপসহীন। আর বিভীষিকা বাধাদানকারী শক্তি। সে দুরন্ত পথিককে মৃত্যুর ভয় দেখায়। দুরন্ত পথিকের বিশ্বাস, মৃত্যুর মাঝেই জীবনের সার্থকতা নিহিত। তাই এখানে বিভীষিকা পরাজিত, দূরন্ত পথিক বিজয়ী। যারা গতানুগতিক ভাবধারাকে, জরাজীর্ণ পুরাতনকে, কুসংস্কারকে ও মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরে দিনাতিপাত করে, যারা সূর্যোদয় দেখে নিদ্রাভঙ্গের ভয়ে দরজা বন্ধ করে পড়ে থাকে, আলোক প্রত্যাশী তরুণদের সংস্কার কাজে যারা বিরক্তি প্রকাশ করে, তারাই বৃদ্ধ।
উদ্দীপক ও প্রবন্ধের বক্তব্য অনুসারে যৌবন কখনো সম্ভাবনার দুয়ার থেকে ফিরে যায় না। বিভীষিকা তাকে মৃত্যুর ভয় দেখায়, কিন্তু পথিক একটুও ভয় না পেয়ে দুর্নিবার গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে চলে। কারণ সে জানে, মৃত্যুর মধ্যেই আছে নবজীবনের সূচনা। যৌবনের ধর্মকে আশ্রয় করেই দূরন্ত পথিক হয়েছে 'চিরন্তন মুক্তিকামী'।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে বিভীষিকা দুরন্ত পথিকের চলার পথকে রুদ্ধ করে তার অগ্রযাত্রায় বাধা দিতে চায়। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধেও বার্ধক্য যৌবনের পথে বাধা হয়ে তার অগ্রযাত্রাকে নস্যাৎ করতে চায়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্দীপকের বিভীষিকা ও আলোচ্য প্রবন্ধের বার্ধক্য একইসূত্রে আবদ্ধ।

