• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • যৌবনের গান [গদ্য]
যৌবনের গান [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

চারদিকে যুদ্ধের ডামাডোল। কবীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। বাড়িতে একদিন একটি চিঠি এলো। চিঠিতে লেখা ছিল, 'দেশের বঞ্চিত মানুষের জন্য মুক্তির লড়াই শুরু হয়েছে, এ লড়াইয়ের আরেক নাম মৃত্যুঞ্জয়ী লড়াই। সে লড়াইয়ে যোগ দিতে যাচ্ছি। আমি বিজয় আর মুক্তি নিয়েই ফিরে আসব।'

'আমি বিজয় আর মুক্তি নিয়েই ফিরে আসব।'- 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

'যৌবনের গান' প্রবন্ধের সেবাপরায়ণ প্রশস্তিময় দুরন্ত-দুর্বার যৌবনই প্রশ্নোত্ত উক্তিটির প্রাণশক্তি।

'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, তরুণরাই নতুনকে বরণ করে নিতে পারে, তারাই পারে মানুষের সুখ-শান্তি ও মুক্তি নিশ্চিত করতে। তাদের মধ্যেই একটি দেশের প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যায়। তারুণ্যের শপথ হলো, পৃথিবীকে তারা তাদের মনের মতো করে গড়ে নিবে। যৌবনে উদ্দীপ্ত তরুণেরা কখনো পিছু ফিরে তাকায় না, সামনে যাওয়াই তাদের কাজ।

উদ্দীপকের কবীরের প্রশ্নোন্ত উক্তিতে তার বিপুল প্রাণশক্তির দিকটি লক্ষ করা যায়। কবীর তারুণ্যের দুর্বার ব্যক্তিত্ব বলেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি চিঠিতে লিখতে পেরেছে। নির্ভীক চিত্তের অধিকারী কবীর অপ্রতিরোধ্য তারুণ্যের ধারক ও বাহক।
উদ্দীপকের কবীরের উক্তিটি যেন আলোচ্য প্রবন্ধের তারুণ্যের জয়গান গায়। প্রাবন্ধিক কবীরের মতোই প্রাণশক্তি ও ব্যক্তিত্বের জয়গান গেয়েছেন। কবীরদের মতো তরুণদের দলেই কবি থাকতে চেয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে তারুণ্যের নির্ভীক ও সেবাপরায়ণ চেতনা প্রস্ফুটিত হয়েছে যা, 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের লেখকের চেতনাকে ধারণ করে।

উত্তরের সারবস্তু: 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের বক্তব্য অনুসারে উদ্দীপকের ক্ষবীর যৌবনশক্তির অধিকারী। কারণ সে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে যুদ্ধে গিয়েছে। মৃত্যু অনিবার্য জেনেও সে পিছিয়ে আসেনি- মুক্তি ছিনিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর সে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কোন আফগান সেনানায়ক অতর্কিত আক্রমণে নদীয়া দখল করেন?

আফগান সেনানায়ক বখতিয়ার খিলজি অতর্কিত আক্রমণে নদীয়া দখল করেন।

#

'কবিদের বাণী বহে ক্ষীণ ভীরু ঝরনাধারার মতো।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

কবির বক্তৃতাশক্তি সহজাত নয়, তাঁদের কণ্ঠে বাণী ক্ষীণ ঝরনাধারার মতো বয়ে চলে।

কাজী নজরুল ইসলামের মতে, মুসলিম তরুণদের আশা- কবি দিগবিজয়ী বাগ্মীর মতো অনর্গল বক্তৃতা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে দেবেন। কিন্তু মঞ্চে দাঁড়িয়ে কবি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান যে, তিনি পেশাদার বক্তা নন। যাঁরা খ্যাতনামা বস্তা, রাজনীতিক- তাঁদের মুখে ছোটে কথার ফুলঝুরি। তাঁদের সেই অসাধারণ বাগ্মিতায় কবি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়েন। তাঁদের মতো বক্তব্য তিনি দিতে পারেন না। কারণ কবিদের বক্তৃতাশক্তি সহজাত নয়, তাঁদের কন্ঠে মৃদু ভাষা ধ্বনিত হয়।

উত্তরের সারবস্তু: যাঁরা খ্যাতনামা বস্তা, রাজনীতিক- তাঁদের মুখে কথার ফুলঝুরি ছোটে। কিন্তু কবির বক্তৃতাশক্তি সহজাত নয়; তাঁদের কণ্ঠে বাণী ক্ষীণ ঝরনাধারার মতো বয়ে চলে।

#

উদ্দীপকে বর্ণিত যৌবনের প্রকৃতির সঙ্গে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

'যৌবনের গান' প্রবন্ধের অদম্য ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার সাথে উদ্দীপকের যৌবনের প্রকৃতি সাদৃশ্যপূর্ণ।

প্রাবন্ধিক তাঁর 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বলেছেন, মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় রেখে জাতীয় কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আশাহীন, বলহীন জাতিকে তারা আশার বাণী শোনায়। প্রাণচঞ্চল সৃজনশীল সেই শক্তিকে প্রাবন্ধিক যৌবন বলে আখ্যায়িত করেন এবং তার জয়গান করেন। কামাল, মুসোলিনি, লেনিনের শক্তিই হলো তারুণ্যের শক্তি।
উদ্দীপকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কবীরের মধ্যে ছিল তারুণ্যের শক্তি। তাই সে দেশের নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করে। সে জানে যুদ্ধে মৃত্যু অনিবার্য, তবু ভয় পায় না। যৌবনশক্তির প্রকৃত ধারক হয়ে সে দেশের বঞ্চিত মানুষদের মুক্তি ছিনিয়ে আনতে নিভীক চিত্তে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। আলোচ্য প্রবন্ধ মতেও দুরন্ত ইচ্ছাশক্তি, নিভীকতা, দুর্বার আকাঙ্ক্ষা ও সেবায় আত্মোৎসর্গই যৌবনের ধর্ম। তাই উদ্দীপকের যৌবনের প্রকৃতির সঙ্গে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

উত্তরের সারবস্তু: 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের বক্তব্য অনুসারে উদ্দীপকের কবীর যৌবনশক্তির অধিকারী। কেননা, আলোচ্য প্রবন্ধে যৌবনের যে প্রকৃতির কথা বলা হয়েছে তার সঙ্গে কবীরের মনোভাবের সাদৃশ্য রয়েছে।