- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- যৌবনের গান [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
কল্যাণপুর এলাকায় দিনকে দিন চাঁদাবাজদের অত্যাচার বেড়েই চলেছে। চাঁদা না পেলে তারা বাসার জিনিসপত্র লুট করে। এমনকি মারধর করে, মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এলাকার কিছু প্রবীণ ব্যক্তি এই অত্যাচার মানতে চান না। তাঁরা এলাকাবাসীকে বোঝান, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কল্যাণপুরবাসী ঐক্যবন্ধভাবে চাঁদাবাজদের প্রতিহত করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রবীণদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার দিকটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
প্রবন্ধের সমাজ রক্ষার্থে নির্ভীক শক্তিকে আহ্বান করার দিকটি উদ্দীপকের প্রবীণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিককে একীভূত করেছে।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে কবি দুরন্ত ও দুর্দমনীয় যৌবনের প্রশংসা করেছেন। কেননা যৌবন হলো অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার। এ শক্তি মানুষকে সমাজ-প্রগতি ও নতুন স্বপ্নময় মুক্তজীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কাজী নজরুল ইসলামের মতে, এ শক্তির অধিকারী যেকোনো বয়সি ব্যক্তি হতে পারেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, দিন দিন চাঁদাবাজদের অত্যাচার বেড়েই চলেছে কল্যাণপুর এলাকায়। চাঁদা না পেলে তারা বাসাবাড়িতে ঢুকে বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে, মানুষকে মারধর করে এমনকি মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এলাকার কিছু প্রবীণ ব্যক্তি এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তাঁরা এলাকাবাসীকে বোঝান, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কল্যাণপুরবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে চাঁদাবাজদের প্রতিহত করতে সক্ষম হন।
প্রাবন্ধিকের মতে, যারা সমাজের সকল অসংগতি ও অন্যায়-অত্যাচার দূর করার জন্য নিজের জীবন বালি রাখতে পারে তারাই যৌবনের অধিকারী বা তরুণ। সে হিসেবে কল্যাণপুরের প্রবীণদের যৌবনের অধিকারী বলেই ধরে নেওয়া যায়। কারণ তাঁদের এলাকায় যখন চাঁদাবাজরা জিনিসপত্র লুট করে এবং মানুষকে মারধর করে তখন তাঁরা এ অত্যাচার সহ্য করতে চাননি। তাঁরা চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য প্রতিহত করতে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন। এলাকার সকল মানুষকে বুঝিয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালান। এককথায় 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে নজরুল যেন তাঁদেরই জয়গান গেয়েছেন এবং তাঁরাই যেন নজরুলের প্রত্যাশিত তরুণ।
উত্তরের সারবস্তুঃ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে উল্লিখিত যৌবন তথা তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের প্রবীণেরা ধারণ করেছেন'। অন্যায়-অত্যাচার প্রতিরোধে এমন ঐক্যবদ্য প্রতিরোধের কথাই এ প্রবন্ধে ব্যক্ত হয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'বায়স' শব্দের অর্থ কী?
'বায়স' শব্দের অর্থ কাক।
কবি কেন যৌবনের পূজারি?
সমস্ত জীর্ণ-পুরোনো সংস্কারকে ধ্বংস করে মনের মতো নতুন জগৎ রচনার সাধনায় অগ্রসর হয় যৌবন। তাই কবি যৌবনের পূজারি। রৌহনের অফুরন্ত প্রাণশক্তি পৃথিবীকে, মানুষের জীবনকে করে গতিশীল ও প্রত্যাশাময়।
দুর্বার উদ্দীপনা, ক্লান্তিহীন উদ্দাম, অপরিসীম ঔদার্য, অফুরন্ত প্রাণচঞ্চলতা ও অটল সাধনার প্রতীক যৌবন মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সংস্কারের বেড়াজাল ছিন্নভিন্ন করে সকল বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যায় সমাজ-প্রগতি ও নতুন স্বপ্নময় মুক্তজীবনের পথে। বিপন্ন মানবতার পাশে যুবকেরা উড়ায় সেবাব্রতী ভূমিকা নিয়ে। যৌবন তার স্বভাবানুসারে দেশ-জাতি-কাল ও ধর্মের বাঁধন মানে না।
সারবস্তুঃ সমস্ত জীর্ণ-পুরোনো সংস্কারকে ধ্বংস করে মনের মতো করে নতুন জগৎ সৃষ্টিতে অগ্রসর হয় যৌবন। এ কারণেই কবি যৌবনের পূজারি।
কল্যাণপুরের প্রবীণদের কোন বৈশিষ্ট্যটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ?
কল্যাণপুরের প্রবীণদের সাহসিকতার দিকটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধ অনুযায়ী বৃদ্ধরাও যৌবনের অধিকারী হতে পারে। লেখকের মতে, যৌবনকে বয়সের ফ্রেমে আটকানো যায় না। সমাজ পরিবর্তন তথা সমাজের সকল অসংগতি দূর করা এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়াই হলো তরুণদের বৈশিষ্ট্য। যারা এ কাজ করবে, তারাই তরুণ।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রবীণেরা তারুণ্যের বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করেছেন। এলাকায় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা তাদের বিরুদ্ধে তীর প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে ঐক্যবদ্ধ 'প্রতিরোধের মাধ্যমে চাঁদাবাজদের প্রতিহত করতেও তাঁরা সক্ষম হন। এই যে হার না মানা সাহসী পদক্ষেপ তাঁরা নিয়েছেন, তা অনেক সময় তরুণ বয়সিদের দ্বারাও সম্ভব হয় না। অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে এমন হার না মানা বৈশিষ্ট্যই যৌবনের বৈশিষ্ট্য বলে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেই কল্যাণপুরের প্রবীণদের বৈশিষ্ট্য সাদৃশ্যপূর্ণ।
উত্তরের সারবস্তু: 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে তরুণদের অন্যায়ের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তরুণদের এ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে উদ্দীপকে বর্ণিত কল্যাণপুরবাসী প্রবীণদের সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা, তাঁরাও সাহসী প্রতিরোধের মাধ্যমে চাঁদাবাজদের ত্বখে দিয়েছেন।

