• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • যৌবনের গান [গদ্য]
যৌবনের গান [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

বৈশাখের এক ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে হিমেলের কলেজের পার্শ্ববর্তী মধুপুর এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের নানাভাবে সাহায্য করার জন্য তিন দিন কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। হিমেলের নেতৃত্বে ছাত্রদের একটি দল অসহায় মানুষদের সহায়তা। দেওয়ার জন্য দুর্গত এলাকায় পৌছায়। তারা নিরলসভাবে সেখানে কাজ করে চলে। অপরদিকে তিন দিনের ছুটি পেয়ে মজিদ, মোবাশ্বের, রতনসহ আরও অনেকে বাড়ি চলে যায়। আবার কেউ কেউ আড্ডা জমিয়ে ছুটির দিনগুলো কাটিয়ে দেয়।

যৌবনকে লেখকের অন্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের কারণ ব্যাখ্যা করো।

'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক যৌবনকে অত্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, কারণ যৌবন প্রগতির ধারক ও বাহক।

অপরিমেয় শক্তি, অফুরন্ত উৎসাহ ও অটল সাধনায় ব্রতী হয়ে যৌবনশক্তি সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। সমাজের কল্যাণে, জীবনে। প্রয়োজনে যৌবন দুর্বার ও দুর্দমনীয়। প্রবন্ধে যৌবনের সেই প্রাণধর্মেরই প্রতিফলন ঘটেছে। শুধু তাই নয়, প্রাবন্ধিক নিজেও তরুণদ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে গর্বিত ও আনন্দিত।

উত্তরের সারবস্তু: অপরিমাণ শক্তি, অফুরন্ত উৎসাহ ও অটল সাধনায় ব্রতী হয়ে যৌবন সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে অদম্য ভূমিকা পালন করে। তাই লেখক যৌবনশক্তিকে অন্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

নজরুল কার অসিতে তারুণ্য দেখেছেন?

নজরুল কালাপাহাড়ের অসিতে তারুণ্য দেখেছেন।

#

'উদ্দীপকের মজিদরা বার্ধক্যের প্রতীক।'- 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

প্রবন্ধানুসারে এগিয়ে চলাই যৌবনের ধর্ম কিন্তু উদ্দীপকের মজিদরা এর সম্পূর্ণ বিপরীত হওয়ায় তারাই আলোচ্য প্রবস্থানুসারে বার্ধক্যের প্রতীক।

'যৌবনের গান' প্রবন্ধে মানুষের জীবনের একটা নির্দিষ্ট সময় যৌবন বা তারুণ্য এবং একইভাবে একটি নির্দিষ্ট সময় বার্ধক্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। কিন্তু প্রাবন্ধিক তারুণ্য বা বার্ধক্যকে বয়সের মাপকাঠিতে পরিমাপ করতে চান না। স্বাভাবিক প্রাণময়তার অভাব থাকলে এবং প্রকৃত যৌবনশক্তির ঘাটতি থাকলে একজন যুবকও বৃদ্ধের সমতুল্য হতে পারে। আবার প্রগতিশীল, যুগোপযোগী ও আধুনিক চেতনাকে ধারণ করে একজন বৃদ্ধও প্রাণচাঞ্চল্যে তারুণ্যের প্রতীক হতে পারে।

উদ্দীপকের মজিদ, মোবাশ্বের, রতনসহ অনেকেই তরুণ যুবক। কিন্তু এরা সবাই বার্ধক্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য। কারণ তারুণ্যের ধর্ম হচ্ছে অজানাকে জানা, বিপদ মুহূর্তে নিজের জীবন বাজি রেখে বিপদ থেকে সবাইকে মুক্ত করা, দুর্গত মানুষকে সেবা ও সাহায্য করা। মজিদদের কলেজ ছুটি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য, কিন্তু তারা তা না করে ছুটি কাটানোর জন্য বাড়ি চলে যায়, কেউ কেউ আবার আড্ডায় মগ্ন হয়। মজিদদের মধ্যে যৌবনের কোনো ধর্মই নেই, আছে শুধু বার্ধক্যের জড়তা। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে তাদের মতো মানুষদেরই বৃদ্ধ বলা হয়েছে। তাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কালমূর্তি। তাই তাদেরকে বার্ধক্যের প্রতীক বলা হয়েছে।

উত্তরের সারবস্তুঃ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধ অনুযায়ী যৌবনের ধর্মই হলো সকল বাধা পেরিয়ে, সামনের দিকে এগিয়ে চলা। কিন্তু উদ্দীপকের মজিদেরা দুর্যোগের মুহূর্তে দুর্গত মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে নিজেদের সুবিধা দেখেছে। তাই তারা বার্ধক্যের প্রতীক।

#

যৌবন ও বার্ধক্যের যে দিকটি উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের আলোকে তা বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপক ও 'যৌবনের গান' প্রবন্ধ উভয়স্থানেই যৌবনের উদ্দীপনা ও অপরিসীম ঔদার্য এবং বার্ধক্যের অসাড়তা প্রকাশিত হয়েছে।

'যৌবনের গান' প্রবন্ধে যৌবনকে গতিশীল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যৌবন ও তারুণ্যের কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ নেই। যৌবন তার লক্ষ্যে অটল, অবিচল থাকে। মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে যৌবন লক্ষ্যে এগিয়ে যায়। নতুনের নেশায় সবসময় যৌবন বার্ধক্যকে এড়িয়ে চলে। অপরদিকে, বার্ধক্য হলো আধুনিকতার প্রতি প্রবল অবিশ্বাস ও সন্দেহ। বার্ধক্য যাদের জড়িয়ে ধরে তারা শতাব্দীর নবযাত্রায় পা মেলাতে পারে না। বার্ধক্যের কাছে সুন্দর কিছু আশা করা যায় না।

উদ্দীপকের হিমেল যৌবনের গতিতে গতিশীল। তাই মানুষের দুঃখকষ্ট দেখে সে নিজেকে স্থির রাখতে পারেনি। বৈশাখের ঘূর্ণিঝড়ে যখন মধুপুর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন হিমেলের নেতৃত্বে ছাত্রদের একটি দল অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে। সেখানে তাদের সেবাপরায়ণতা ও কঠোর পরিশ্রম লক্ষণীয়।

উদ্দীপকের হিমেলের প্রবণতা দেখে আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে, তার ভিতর রয়েছে উদ্দীপ্ত যৌবন। যৌবনের ধর্ম অনুযায়ী সে দুর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে মজিদ, মোবাশ্বের, রতনসহ আরও অনেকে মানুষের বিপদে তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে বাড়ি চলে গেছে। আবার তাদেরই কেউ কেউ শুধু আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করেছে। এদের ভিতর যৌবনের কোনো লক্ষণ নেই। বার্ধক্যের জড়তা এদের শরীরকে গ্রাস করেছে। আত্মাকে করেছে পঙ্গু। তাই এরা বয়সে তরুণ হলেও মনে তরুণ নয়; কঙ্কালসার বৃদ্ধ।

উত্তরের সারবস্তু: 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের বক্তব্য অনুযায়ী উদ্দীপকের হিমেলের নেতৃত্বে ছাত্রদের যে দল অসহায় মানুষদের সহায়তার জন্য এগিয়ে যায়, তাদের মধ্যে যৌবনের প্রকৃত স্বরূপ ফুটে উঠেছে। পক্ষান্তরে মজিদসহ অন্য যারা বাড়ি চলে যায় তাদের মধ্যে বার্ধক্যের জড়তা প্রকাশিত হয়েছে।