• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • যৌবনের গান [গদ্য]
যৌবনের গান [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

রফিক সাহেবের বয়স এখন ষাটের উর্ধ্বে। তিনি প্রতিনিয়ত সমাজের কল্যাণমুখী কাজে ব্যস্ত থাকেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, অসহায়ের পক্ষে কথা বলেন। তিনি কখনো নিজের স্বার্থের কথা ভাবেন না। সমাজের সবাই তাঁকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করে। অপরদিকে একই এলাকার জামান সাহেবের বয়স মাত্র ত্রিশ বছর। তিনি সর্বদা অর্থের পিছনে ছোটেন। ন্যায়-অন্যায়, ভালোমন্দ বিবেচনা করেন না। নিজের স্বার্থের জন্য তিনি সর্বদাই ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তাই সমাজের মানুষের কোনো কাজেই তিনি আসেন না।

উদ্দীপকের আলোকে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের যৌবন ও বার্ধক্যের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।

'যৌবনের গান' প্রবন্ধে ও উদ্দীপকে তারুণ্য ও বার্ধক্যের দ্বন্দ্বময় স্বরূপ বিশ্লেষিত হয়েছে।

'যৌবনের গান' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক যৌবনকে বলেছেন তিমিরবিদারী। যে সমাজ অন্ধ, আদর্শ ও সংস্কারে আবদ্ধ, সে সমাজকে যৌবনের শক্তি দিয়েই পরিবর্তন করা সম্ভব। যৌবন হলো বহমান স্রোতের মতো। তাকে বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। যৌবনের শক্তি ও বার্ধক্যের জড়তা থাকে মানুষের মনে।

উদ্দীপকের রফিক সাহেবের বয়স ষাটের ঊর্ধ্বে। কিন্তু তিনি যৌবনের প্রাণশক্তিতে ভরপুর। অসহায়ের পক্ষে তিনি কথা বলেন। নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে তিনি এগিয়ে যান সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে। তাঁর এ কাজের জন্য তিনি সমাজের সব মানুষের কাছে অনুকরণীয় আদর্শ। অপরদিকে, জামান সাহেব ত্রিশ বছর বয়সি হলেও নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কিছু বোঝে না। তাই সমাজের কোনো মানুষের কাজেই তিনি আসেন না। তার ভিতরে আমরা বার্ধক্যের জড়তা লক্ষ করি।
আলোচ্য প্রবন্ধ ও উদ্দীপক অনুসারে একজন বৃদ্ধ মানুষ যদি যৌবনের শক্তিতে ভরপুর হয়ে তরুণের দলে মিশে যান তাহলে তিনিই হয়ে ওঠেন তারুণ্যের প্রতীক। অন্যদিকে বৃদ্ধ সেই, যার হৃদয়ে প্রাণশক্তির অভাব রয়েছে। যার ভিতরে কোনো কর্মস্পৃহা নেই, যার প্রাণে অসহায়ের জন্য কোনো আকুতি নেই, সমাজের উন্নয়নমূলক কোনো চিন্তা নেই, সে-ই বৃদ্ধ। বয়স যত কমই হোক না কেন, এ রকম মানুষকে সমাজ কখন্যে তরুণের দলে ফেলবে না। উদ্দীপকের জামাল সাহেবের মতো সেও বৃদ্ধ বলে পরিগণিত হবে।

উত্তরের সারবস্তু: 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের বক্তব্য অনুযায়ী যারা সকল অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ও অসহায়ের পক্ষে কথা বলে তারা যৌবনশক্তির অধিকারী। উদ্দীপকের রফিক সাহেব তাদেরই প্রতিনিধি।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

যৌবনের গান' প্রবন্ধে কাকে আলোর দেবতা বলা হয়েছে?

'যৌবনের গান' প্রবন্ধে সূর্যকে আলোর দেবতা বলা হয়েছে।

#

'ইহাই হউক তরুণের সাধনা।'- এই সাধনার স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।

তরুণের সাধনা হলো জড়বুদ্ধি ও ভীরুতার মূলে কুঠারাঘাত করে জীবনকে সমৃদ্ধি ও আলোর পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

পশ্চাৎগামী চিত্তা, কুসংস্কার, সন্দেহপ্রবণতা ও সংশয়- এসবই হলো বার্ধক্যের বৈশিষ্ট্য। তরুণেরা এর বিপরীত পথে যেতে বদ্ধপরিকর, কারণ তারা পুরাতন পৃথিবীকে ভেঙে নতুন করে সাজাতে চায়। নতুন জীবনের সাধনাই তরুণের সাধনা।

উত্তরের সারবস্তু: তরুণের সাধনা হলো জড়বুদ্ধি ও ভীরুতার মূলে কুঠারাঘাত করে জীবনকে সমৃদ্ধি ও আলোর পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

#

উদ্দীপকের জামান সাহেবের সাথে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের কোন চেতনার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়?

তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য না থাকায় উদ্দীপকের জামান সাহেবের সাথে আলোচ্য প্রবন্ধের বার্ধক্য চেতনার সাদৃশ্য লক্ষণীয়।

'যৌবনের গান' প্রবন্ধ অনুসারে বলতে পারি, আমরা সাধারণত ব্যয়সের মাপকাঠিতে তারুণ্য ও বাধকাকে নিরূপণ করে থাকি। যার দেহের চামড়ায় তাঁজ পড়ে গেছে, চক্ষুম্বয় কোটরাগত, দৈহিক শক্তি-সামর্থ্য কমে এসেছে, তাকেই আমরা বৃদ্ধ বলে থাকি। কিন্তু সত্যিকার যৌবন ও । যথার্থ বার্ধক্য বয়সের উপর নির্ভর করে না। বয়সে নবীন অথচ রুচি ও মানসিকতায় যারা বার্ধক্যের গণ্ডিতে আবদ্ধ, তারাই বৃদ্ধ বলে চিহ্নিত। যা মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকে, যা পুরাতনকে ত্যাগ করতে চায় না, যা কুসংস্কার-অন্যায়-অশিক্ষার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে না- তাই বার্ধক্য। অশীতিপর বৃদ্ধও যদি অন্যায় ও মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, লেখক তাকে নবীনের দলে স্থান দিতে চান। কারণ বার্ধক্যের মানদণ্ড হলো মন ও কর্ম; বয়স নয়।

উদ্দীপকের জামান সাহেব যুবক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর আচরণে বার্ধক্যের ছাপ পড়েছে। কারণ তার বুচি-মন-মানসিকতায় যৌবনের ছাপ পড়েনি। তিনি ভালোমন্দ, ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা না করে সবসময় অর্থের পিছনে ছোটে। জগতের কল্যাণমুখী কাজ থেকে তিনি নিজেকে আড়াল করে রাখেন। তাই তাকে আলোচ্য প্রবন্ধ অনুসারে বার্ধক্যের প্রতীক বলা হয়েছে।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের জামান সাহেবের বয়স যৌবনের কোঠায় হলেও তিনি ন্যায়-অন্যায়, ভালোমন্দ কিছু বিবেচনা করে না, নিজের স্বার্থের জন্য সর্বদাই ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধ অনুযায়ী তাই তিনি বার্ধক্যের প্রতীক।