• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

আরিফার বাবা স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী ছিলেন। তার গান শুনে সাধারণ মানুষ অনুপ্রাণিত হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়। অন্যদিকে তার মা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে খাবার সরবরাহ করতেন। মাঝে মাঝে সেখানে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করতেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুজিবনগর সরকার কেন গঠন করা হয়েছিল?

মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং এর পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।

মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনা করে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন, মুক্তিযুদ্ধকে সুসংহত করা এবং সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে এ সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে সহজ করে তোলে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কী নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে?

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে 'গণযুদ্ধ' বা 'জনযুদ্ধ' নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

#

আরিফার বাবা যে মাধ্যমে কাজ করতেন, মুক্তিযুদ্ধে উত্ত মাধ্যমের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

আরিফার বাবা গণমাধ্যমে কাজ করতেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এ' মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। দেশি-বিদেশি সংবাদপত্র ও সম্প্রচার মাধ্যম এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মতো গণমাধ্যমগুলো মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উদ্দীপকে উল্লেখিত আরিফার বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ছিলেন। অর্থাৎ তিনি গণমাধ্যম কর্মী ছিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, কথিকা, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্রীরত্বগাঁথা, রণাঙ্গনের নানা ঘটনা ইত্যাদি প্রচারিত হতো। এসব অনুষ্ঠান দেশের সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী করে তোলে। মুক্তিযোদ্ধারাও যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের খবর ও উদ্দীপনামূলক অনুষ্ঠান শুনে অনুপ্রাণিত হতো। মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত 'জয় বাংলা' পত্রিকাও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি বিদেশি গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজনমত গড়তে সহায়তা করে। তাই বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

#

স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে আরিফার মায়ের মতো অনেক নারীর ভূমিকাই ছিল তাৎপর্যপূর্ণ- তোমার পঠিত বিষয়বস্তুর আলোকে যুক্তি উপস্থাপন করো।

স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে আরিফার মায়ের মতো অনেক নারীই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকে সারা দেশে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় তাতে বহু ছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারী অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। তাদের কেউ কেউ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।

অপরদিকে, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রুষা, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান, খাবার সরবরাহ ও শত্রুপক্ষের তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এদেশের অগণিত নারী মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া পাক সেনাবাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হয় প্রায় তিন লক্ষ নারী। তারাও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী। উদ্দীপকে উল্লেখিত আরিফার মা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে খাবার সরবরাহ করতেন এবং মাঝে মাঝে সেখানে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করতেন।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলা যায় যে, স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে আরিফার মায়ের মতো নারীদের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।