• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মুক্তিযোদ্ধা মালেক সাহেবের ছেলে রাফি ইউরোপের একটি দেশে বাস করে। দেশটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে মালেক সাহেব বলেন, তিনি একজন মহান নেতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সে আহ্বানটি এখন সারাবিশ্বে সমাদৃত।

মুজিবনগর সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন কীরূপ ছিল?

মুজিবনগর সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন ছিল সুপরিকল্পিত।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল দায়িত্বটি পালন করে মুজিবনগর সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন, সহযোগিতা ও জনমত সংগঠনের উদ্দেশ্যে অস্থায়ী সরকার বহির্বিশ্বে সফল কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়। মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমেই সামরিক ও বেসামরিকসহ যাবতীয় প্রশাসন পরিচালিত হয়। ফলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্বল্প সময়ের মধ্যে সফল পরিণতি লাভ করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মওলানা ভাসানীকে কোন শহরে গৃহবন্দী করে রাখা হয়?

মওলানা ভাসানীকে কলকাতায় গৃহবন্দী করে রাখা হয়।

#

মালেক সাহেবের বক্তব্যের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

মালেক সাহেবের বক্তব্যের সাথে পাঠ্যবইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মিল রয়েছে।

রাজনৈতিকভাবে চরম দুর্যোগময় এক পরিস্থিতিতে বজাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়াদী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসন ও শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরেন। এ ভাষণে তিনি জাতিকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেন। এ ভাষণের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালি জাতি পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এ ভাষণ এক স্মরণীয় দলিল। ইউনেস্কো ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ ভাষণকে 'বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

উদ্দীপকের মালেক সাহেব স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বলেন যে, তিনি একজন মহান নেতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। উক্ত আহ্বানটি এখন সারাবিশ্বে সমাদৃত। মালেক সাহেব তার বক্তব্যে যে আহ্বানটির কথা বলেছেন তা উপরে বর্ণিত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

#

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাফির বসবাসকৃত দেশটির ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে, রাফির বসবাসকৃত দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা বর্তমান রাশিয়া ইউরোপের একটি শক্তিশালী দেশ। দেশটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। এই দেশটি ১৯৭১. সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগসহ নানাভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছিল। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, রাফি ইউরোপের একটি দেশে বাস করে। দেশটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল। এতে বোঝা যায়, রাফির বসবাসকৃত দেশটি হলো তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা বর্তমান রাশিয়া।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন
সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে সমর্থন করে। পাকবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান। যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এ প্রস্তাবে 'ভেটো' দেয়। দেশটি জাতিসংঘে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো বিল নিরাপত্তা পরিষদে পাস হতে দেয়নি। এছাড়া ভারতের সক্রিয় সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক ফোরামে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণা চালায়। এভাবে দেশটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছিল।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের রাফির বসবাসকৃত দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের কার্যক্রম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।