• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

১ম অংশ: লুনা তার মায়ের সাথে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যায়। সেই বাসার দেয়ালে একটি ছবি লাগানো ছিল। ছবিতে একজন লোক কিছু বলছেন এবং তার সামনে অসংখ্য লোক বসে আছে। লুনা তার মায়ের কাছে ছবিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এই ছবির ঘটনার সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জড়িত।"

২য় অংশ: দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নিলে জেনারেণ ডি গ্যালে লন্ডনে ফ্রান্সের একটি প্রবাসী সরকার গঠন করেছিলেন। সেই সরকারের দৃঢ় পরিচালনার মাধ্যমে জার্মানিদের পরাজিত করে ফ্রান্স নিজেদের সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছিল।

উদ্দীপকের ১ম অংশে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে কোন ঐতিহাসিক চিত্র ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকের ১ম অংশে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের চিত্র ফুটে উঠেছে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা না দেওয়ার জন্য নানা চক্রান্ত শুরু করে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় ৩রা মার্চ অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন মাত্র দু'দিন আগে স্থগিত ঘোষণা করেন। পূর্ব বাংলার জনগণ এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। এমন প্রেক্ষাপটেই বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়াদী উদ্যান) বিশাল জনসভায় এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে যুদ্ধের জন্য তৈরি হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ নামে পরিচিত।

উদ্দীপকের ১ম অংশে লুনার আত্মীয়ের বাসায় দেখা ছবিতে একজন লোক বক্তব্য দিচ্ছিলেন এবং তার সামনে অসংখ্য লোক বসে ভাষণ শুনছিলেন। লুনার দেখা এ ছবিটি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে নির্দেশ করে। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির জন্য মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং এর ভিত্তিতে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লুনার মায়ের বক্তব্যেও এটি প্রকাশ পেয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম কী?

রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

সহায়ক তথ্য

বালাদেশের ইতিহাসে রেসকোর্স ময়দান একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটি মোঘল আমলে বাগ-ই-বাদশাহী নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসনামলে ঘোড়দৌড়ের স্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এখান থেকেই দেওয়া হয়েছিল।

#

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পেশাজীবীদের ভূমিকা কেমন ছিল? ব্যাখ্যা করো।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পেশাজীবীদের ভূমিকা ছিল অনন্য ও গৌরবদীপ্ত।

বাংলাদেশের পেশাজীবীদের বড়ো অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন, তারা মুজিবনগর সরকারের অধীনে পরিকল্পনা সেল গঠন করেন এর মাধ্যমে তারা বিশ্ববাসীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সরবরাহ, সাহায্যের আবেদন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য প্রদান, শরণার্থীদের উৎসাহ প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

#

দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত বিষয়টির মতো একটি বিষয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছিল-বিশ্লেষণ করো।

দ্বিতীয় অংশে উল্লেখিত প্রবাসী সরকারের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে মুজিবনগর সরকার যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছিল।

১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এ সরকার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী ইপিআর (পরে বিডিআর ও বর্তমানে বিজিবি) বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্য এবং দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে এ সরকার দেশকে ১১টি সেক্টর ও কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করে। এছাড়া বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোর্স বা বাহিনী গঠন করা হয়। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের আহ্বানে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযোদ্যাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে।

এছাড়া মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন- দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, স্টকহোম) কূটনীতিকদের পাঠায়। বিদেশের মিশন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এজন্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এসব রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে জনমত তৈরি হয়। মূলত মুজিবনগর সরকারের সুদক্ষ পরিচালনার মাধ্যমেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।