• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মেহের আলী একজন ধার্মিক ব্যক্তি। তিনি এলাকার কিছু শিক্ষিত লোকের সাথে আলোচনা করে কাশিমপুর গ্রামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে এলাকার ছোট ছেলে-মেয়েরা কুরআন তিলাওয়াত, বিভিন্ন দোয়া ও মাসায়ালা শিক্ষা লাভ করে। ঐ প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষক ইমদাদ সাহেব ইমামতি ছাড়াও প্রয়োজনে রোগীদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় জনগণকে সচেতন করেন।

উদ্দীপকে ইমদাদ সাহেবের কর্মকাণ্ডের সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

উদ্দীপকের ইমদাদ সাহেবের সেবামূলক কর্মকাণ্ড সমাজজীবনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

ইসলামি সমাজব্যবস্থায় ইমাম হলেন নেতা বা পথ প্রদর্শক। ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাজে নেতৃত্ব দেওয়া তার দায়িত্ব। একজন ইমাম যদি তার ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও সমান গুরুত্বের সাথে পালন করেন তাহলে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন— নিরক্ষরতা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদকাসক্তি, বাল্যবিবাহ, নারী-পুরুষের বৈষম্য ইত্যাদি দূর করা সহজ হয় ।

উদ্দীপকে দেখা যায়, ইমদাদ সাহেব মক্তবে পাঠদান ও ইমামতির পাশাপাশি রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যান এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করেন। তার এসব কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সমাজের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের চেয়েও একজন ইমামের কথা ও কাজকে বেশি গুরুত্ব দেন। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার সাথে পরামর্শ করেন এবং সে অনুযায়ী চলার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ইমামদের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ড মানবসম্পদ উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ইমামদের নেতৃত্বে সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হলে নিরক্ষরতা দূরীকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, পশুপালন, মৎস্য চাষস্হ প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নতির মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন— ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ইত্যাদি কীভাবে ধৈর্যসহকারে মোকাবিলা করা যায় সে বিষয়েও ইমাম সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দিতে পারেন। তাদের এ শিক্ষা সমাজের মানুষকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে; যা উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের কর্মকাণ্ডে ফুটে ওঠেছে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ইমদাদ সাহেব কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় জনসাধারণ অপরকে সাহায্য করার বিষয়ে আন্তরিক হবে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করবে। এর ফলে তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()