- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'ক' ও 'খ' দুটি প্রতিবেশী দেশ। 'ক' দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে 'খ' দেশটি অনেক সাহায্য করেছিল। 'গ' অন্য একটি দেশ যা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় ক্ষমতা ব্যবহার করে 'ক' দেশের পক্ষে অনেক অবদান রাখে।
তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে 'ক' দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে 'খ' দেশের অবদান মূল্যায়ন করো।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' দেশ তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে 'খ' দেশ তথা ভারতের অবদান অপরিসীম।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসরদের নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত হিল। ভারতীয় প্রচারমাধ্যম এ সংবাদ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে।
বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীকে রুখে দাঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে ত্রিপুরাসহ ভারতের মাটিতে বাঙালি তরুণ-যুবকদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়, যা নভেম্বর পর্যন্ত চালু ছিল। এ ছাড়া পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাযজ্ঞ ও নির্মম অত্যাচার থেকে বাঁচতে গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে লাখ লাখ বাঙালি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। এসব বাঙালি শরণার্থীকে সাহায্যের জন্য ভারত সরকার তাদের সীমান্ত খুলে দেয়। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় শরণার্থী শিবির খোলা হয়। পাশাপাশি কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'খ' দেশ 'ক' দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অনেক সাহায্য করেছিল। 'খ' দেশের এই কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সরকার ও জনগণের সহযোগিতাকেই মনে করিয়ে দেয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের 'খ' দেশ তথা ভারতের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের সার্বিক সহযোগিতায় মাত্র ৯ মাসে বাংলাদেশের বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছিল।

