• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মুক্তিযোদ্ধা কবির সাহেবের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে তার ভাই তাহের কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, "আমার কলেজ পড়ুয়া বড় ভাই মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। তিনি কুমিল্লার বি-পাড়ার একটি স্থানে সম্মুখ যুদ্ধে শহিদ হন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দৃশ্যকল্পে উল্লেখিত দেশটির অবদান বিশ্লেষণ করো।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দৃশ্যকল্পে উল্লেখিত দেশ তথা ভারতের অবদান অনস্বীকার্য।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান দিল তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা ভারত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয় এবং তৎকালীন গণহত্যার বিবরণ বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরে। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্পে জনাব কবির সেই দেশ থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে গিয়ে যুদ্ধ করেন এবং শহিদ হন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা বাংলাদেশ জুড়ে নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।

ভারত মুক্তিযুদ্ধে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বহিবিশ্বে এ বিষয়গুলো প্রচার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে' ত্রিপুরা ও. মেঘালয়সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের তরুণ-যুবকদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। পাকিস্তানি হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রায় ১ কোটি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার যুদ্ধের সময়জুড়ে তাদের আশ্রয় ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে। এছাড়া কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল।

যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলে যৌথ কমান্ড -গঠন করে। যৌথবাহিনীর তীব্র আক্রমণের ফলেই কোণঠাসা হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয়।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে নিঃসন্দেহে বলা যায়, স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করতে ভারতের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মুজিবনগর সরকারের কয়টি মন্ত্রণালয় ছিল?

মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ছিল।

#

ব্রিগেড ফোর্স কী? ব্যাখ্যা করো।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়, যেটি ব্রিগেড ফোর্স নামে পরিচিত।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১টি সেক্টর ও বেশকিছু সাব সেক্টর ছাড়াও সারা বাংলাদেশকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে বিভক্ত করা হয়। মেজর জিয়াউর রহমান 'জেড ফোর্সের', মেজর কে এম শফিউল্লাহ 'এস ফোর্সের' এবং মেজর খালেদ মোশাররফ 'কে ফোর্সের' দায়িত্ব পালন করেন।

#

মুক্তিযুদ্ধে জনাব কবির কোন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে মুক্তিযোদ্ধা জনাব কবির মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন।

পাকিস্তানের চব্বিশ বছরে বাঙালি জাতির স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সকল আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে এদেশের ছাত্রসমাজ। ১৯৪৮-১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ ও ১৯৬৪ সালের শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬ সাে সালে ১১ দফার আন্দোলন, উনসত্তরের ১১ ও ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিরাট অংশ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। অনেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে। প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করে। মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। মুক্তিবাহিনীর অনিয়মিত শাখার এক বিরাট অংশ ছিল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মুক্তিযুদ্ধের একপর্যায়ে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজের আত্মত্যাগ ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হতো।

উদ্দীপকে জনাব কবির সাহেব ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কলেজপড়ুয়া ছাত্র ছিলেন। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে তিনি কুমিল্লার বি-পাড়ার একটি স্থানে সম্মুখ যুদ্ধে শহিদ হন। সুতরাং বলা যায়, জনাব কবির সাহেবের মতো ছাত্রদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়। উদ্দীপকে সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।