- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মুক্তিযুদ্ধের সময় ডা. আরমান একটি হাসপাতালে কর্মরঃ ছিলেন। তিনি প্রথমদিকে আহত মুক্তিযে স্ন্যাদের গোপনে চিকিৎস দিতেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর শিক্ষক ডাইসহ পার্শ্ববর্তী দেশে যান। সেখানে শিবিরে' বাংলাদেশের শরণার্থীদের ওই দেশের চিকিৎসক্সে সাথে চিকিৎসা দেন। তবে তাঁর ভাই ওখানে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এসে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
মুজিবনগর সরকারের কূটনোতও কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধে নতু মাত্রা যোগ করে- ব্যাখ্যা করো।
বহিবিশ্বে কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় মুজিবনগর সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে, যা মুক্তিযুদ্ধের গতিকে ত্বরান্বিত করে বংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায় ও জনমত সৃষ্টির উদ্দেশে মুজিবনগর সরকার কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন ও স্টকহোমস। বিভিন্ন দেশে মিশন স্থাপন করে। এই সরকার জাতিসংঘে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সমর্থনসূচক বিবৃতি আদায়ে সক্ষম হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
জল্লাদের দরবার কি?
জল্লাদের দরবার হলো মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্ থেকে প্রচারিত অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান।
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের কোন শ্রেণির মানুষের ভূমিকা ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পেশাজীবীদের ভূমিকা ফুটে উঠেছে।
সাধারণ অর্থে যারা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত তারাই হলেন পেশাজীবী পেশাজীবীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী শিল্পী, সাহিত্যিক, প্রযুক্তিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিজ্ঞানীসহ বিভি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এদের ভূমিক ছিল অনন্য ও গৌরবদীপ্ত পেশাজীবীদের বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। পেশাজীবীরা মুজিবনগর সরকারের অধীনে পরিকল্পন সেল গঠন করে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সরবরাহ সাহায্যের আবেদন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য প্রদান, শরণার্থীদের উৎসাহ প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পেশাজীবীদের মধে অনেকে মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হন, তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা ও স্বাধীনতা প্রতি ঐকান্তিক আকাঙ্ক্ষার ফলেই মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে বাংলাদেশের বিল অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উদ্দীপকে ড়া, আরমান মুক্তিযুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের গোপনে চিকিস প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতে বাংলাদেশের শরণার্থীদের চিকিৎস সেবা প্রদান করে এবং তাঁর ভাই গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি যুগে অংশগ্রহণ করেন। ডা. আরমান ও তার ভাইয়ের মতো সর্বস্তরে পেশাজীবীরাও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পার্শ্ববর্তী দেশটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনে কতটুকু ভূমিকা রেখেছিল? তা মূল্যায়ন করো।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পার্শ্ববর্তী দেশ তথা ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে। স্বাধীনতা অর্জনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভার সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশী দোসররা বাংলাদেশ জুড়ে নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। ভারত মুক্তিযুদ্ধে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বহির্বিশ্বে। বিষয়গুলো প্রচার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্ট চালায়। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীকে রুখে দাঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধ শশ্ম হয়। এসময় ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে ত্রিপুরা ও মেঘালয়সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের তরুণ-যুবকদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়।
পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রায় ১ কোটি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার যুদ্ধের সময়জুড়ে তাদের আশ্রয় ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে। এছাড়া কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলে যৌথ কমান্ড গঠন করে। এই যৌথবাহিনীর তীব্র আক্রমণের ফলেই কোণঠাসা হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ফলে অর্জিত হয় বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ ভারত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

