• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

রিফাতের বাবা 'P' দেশের নাগরিক। 'P' দেশের যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি আমেরিকায় বসবাস করতেন। নিজ দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে ওই দেশে বসবাসরত অন্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নিজ দেশকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। তাদের পাঠানো এই অর্থ 'P' দেশের তৎকালীন সরকার যুদ্ধ পরিচালনার কাজে ব্যয় করেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উদ্দীপকের প্রথমাংশে, উল্লেখিত শ্রেণির ব্যাখ্যা দাও।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উদ্দীপকের প্রথমাংশে উল্লেখিত শ্রেণিটি প্রবাসী বাঙালি।

প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাঙালিরা নিরলস কাজ করেছেন। বিভিন্ন দেশ মুক্তিযুদ্ধে অর্থ সংগ্রহ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ে বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট সদস, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সংস্কৃতিকর্মীদের কাছে ছুটে গিয়েছেন। বিতির আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধি দল' প্রেরণ করে পাকিস্তানকে অস্ত্র গোলা-বারুদ সরবরাহ না করতে প্রবাসী বাঙালিরা অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রবাসী বাঙালি, রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র-ছাত্রী, পেশাজীবীরা কখনো পৃথকভাবে আবার কখনো সংঘবদ্ধভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ের অব্যাহত তৎপরতা চালিয়ে গেছেন।

উদ্দীপকে রিফাতের বাবা আমেরিকায় বসবাস করেও কয়েকজন বন্ধুবান্ধব মিলে দেশে যুদ্ধকালীন অর্থ সংগ্রহ করে নিজ দেশকে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এ শ্রেণিটি মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকেই নির্দেশ করে, যারা বিদেশের মাটিতে থেকেও দেশের ক্রান্তিকালে নিরলস কাজ করে গেছেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

পেশাজীবী কারা?

সাধারণ অর্থে যারা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত তারাই হলেন পেশাজীবী।

#

মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছে বলে মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়।

দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণ, অত্যাচার-নির্যাতন থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সংঘটিত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাদের নানা ত্যাগ তিতীক্ষা আর রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তাদের এ আত্মত্যাগের ঋণ অতুলনীয়। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়।

#

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকারের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকার অর্থাৎ মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং বিশ্বজনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বঙ্গাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এ সরকার পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী ইপিআর (পরে বিডিআর ও বর্তমানে বিজিবি) বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্য এবং দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে এ সরকার দেশকে ১১ টি সেক্টর ও কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করে। এছাড়া বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোর্স বা বাহিনী গঠন করা হয়। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের আহ্বানে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বাত্মক সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে।

এছাড়া মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন- দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, স্টকহোম) কূটনীতিকদের পাঠায়। বিদেশের মিশন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এজন্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার -পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এসব রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে জনমত তৈরি হয়। মূলত মুজিবনগর সরকারের সুদক্ষ পরিচালনার মাধ্যমেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, 'মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।