- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ঘটনা-১: বিদিতা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বিদিতাকে তার ডাক্তার পিতা ও শিক্ষক মাতার গল্প শোনান। তারা দুজনেই ১৯৭১ সালে চাকরির মায়া ত্যাগ করে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। যুদ্ধে আহত অনেককেই তারা দুজন মিলে সেবা-শুশ্রুষা করেন।
ঘটনা-২: 'A' নামক প্রতিবেশী দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেন এবং তৎকালীন গণহত্যার বিবরণ বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরেন। 'B' নামক ভেটো প্রদানকারী দেশ উক্ত সময় বিভিন্নভাবে সহায়তা কার্যক্রমকে এগিয়ে দেয়।
বিদিতার দাদা-দাদির মতো ব্যক্তিদের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
মুক্তিযুদ্ধে বিদিতার দাদা-দাদির মতো ব্যক্তিদের অর্থাৎ পেশাজীবীদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
ঘটনা-১ এ বর্ণিত বিদিতার বাবা বিদিতাকে তার ডাক্তার পিতা ও শিক্ষক মাতার গল্প শোনান যারা দুজনেই ১৯৭১ সালে চাকরির মায়া ত্যাগ করে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এমনকি তারা যুদ্ধে আহত অনেককেই সেবা-শুশ্রুষা করেন। মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান পেশাজীবীদের অবদানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সাধারণ অর্থে যারা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত তারাই হলেন পেশাজীবী। পেশাজীবীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিল্পী, সাহিত্যিক, প্রযুক্তিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এদের ভূমিকা ছিল অনন্য ও গৌরবদীপ্ত। পেশাজীবীদের বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। পেশাজীবীরা মুজিবনগর সরকারের অধীনে পরিকল্পনা সেল গঠন করে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সরবরাহ, সাহায্যের আবেদন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য প্রদান, শরণার্থীদের উৎসাহ প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পেশাজীবীদের মধ্যে অনেকে মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হন। তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা ও স্বাধীনতার প্রতি ঐকান্তিক আকাঙ্ক্ষার ফলেই মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, বিদিতার দাদা-দাদিরা মূলত পেশাজীবী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। 'আর মুক্তিযুদ্ধে পেশাজীবীদের ভূমিক্য অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল।"
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মুক্তিফৌজ কাকে বলে?
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঙালি সামরিক অফিসার ও সৈন্যদের নিয়ে গঠিত নিয়মিত বাহিনীকে মুক্তিফৌজ বলে।
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের গঠন বর্ণনা করো।
স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে উপদেশ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য মোট ৬ সদস্য নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়।
মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রমে কার্যকর পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। এই উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (ভাসানী ন্যাপ), অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ (মোজাফফর ন্যাপ), কমরেড মণি সিং (কমিউনিস্ট পার্টি), শ্রী মনোরঞ্জন ধর (জাতীয় কংগ্রেস), তাজউদ্দীন আহমদ (প্রধানমন্ত্রী) ও খন্দকার মোশতাক আহমেদ (পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী)। তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতাসম্পন্ন পরামর্শ মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তুমি 'A' না 'B' দেশের ভূমিকাকে অগ্রগণ্য মনে কর? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দেখাও।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে 'B' তথা রাশিয়ার ভূমিকার চেয়ে 'A'' তথা ভারতের ভূমিকা অগ্রগণ্য বলে মনে করি।
ঘটনা-২ এ বর্ণিত 'A' নামক প্রতিবেশী দেশটি ভারত। কেননা ভারত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয় এবং তৎকালীন গণহত্যার বিব্রণ বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরে। অপরদিকে 'B' দেশটি হলো অধুনা বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন যা বর্তমান রাশিয়া। কেননা দেশটি মুক্তিযুদ্ধের 'পক্ষে জাতিসংঘে তিনবার ভেটো প্রদান করে বিভিন্নভাবে সহায়তা কার্যক্রমকে এগিয়ে দেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভারতের ভূমিকা ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা বাংলাদেশ জুড়ে নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। ভারত মুক্তিযুদ্ধে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বহির্বিশ্বে এ বিষয়গুলো প্রচার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে ত্রিপুরা ও মেঘাল৯-১২ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের তরুণ-যুবকদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। পাকিস্তানি হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রায় ১ কোটি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার যুদ্ধের সময়জুড়ে তাদের আশ্রয় ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে। এছাড়া 'কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলে যৌথ কমান্ড গঠন করে। এই যৌথবাহিনীর তীব্র আক্রমণের ফলেই কোণঠাসা হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয়।
উপরের আলোচনা থেকে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, স্বাধীনজ অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে 'B' নির্দেশিত সোভিয়েত ইউনিয়ন তল্ল রাশিয়ার চেয়ে 'A' নির্দেশিত ভারতের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

