- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মুক্তিযুদ্ধ শুরুর ১৫ দিন পরে একটি সরকার গঠন করা হয়। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়। ওই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, "বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।"
উক্ত সরকারের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করো।
মুক্তিযুগ্মকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং এর পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে মুজিবনগর সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এ সরকার পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী ইপিআর (পরে বিডিআর ও বর্তমানে বিজিবি) বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্য এবং দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে এ সরকার দেশকে ১১ টি সেক্টর ও কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোস বা বাহিনী গঠন করা হয়। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের আহ্বানে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযোত্থাদের প্রশিক্ষণ। ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে।
এছাড়া মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন- দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, স্টকহোম) কূটনীতিকদের পাঠায়। বিদেশের মিশন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এজন্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এসব রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে জনমত তৈরি হয়। মূলত মুজিবনগর সরকারের সুদক্ষ পরিচালনার মাধ্যমেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ, চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

