- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রফিক তার বাবার সাথে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখতে পেল। যে, একটি সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের কার্যক্রমের বর্ণনা শুনে রফিকের ইতিহাস জানার কৌতূহল বেড়ে গেল। সে প্রধান অতিথির বক্তব্য থেকে জানতে পারল- এই সরকারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্ম হয়। অন্য আরেকদিন তারামন বিবির স্মরণসভায় গিয়ে সে জানতে পারল যে, তার মতো। আরো অনেক সাহসী মা-বোনের ত্যাগের মাধ্যমে দেশমাতৃকার যুদ্ধে সফলতা অর্জিত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধকে গণযুদ্ধ বলা হয় কেন?
মুক্তিযুদ্ধে বাংলার সব শ্রেণির তথা গণমানুষের অংশগ্রহণ ছিল বলে একে গণযুদ্ধ বলা হয়।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র জনগণের উপর আক্রমণ চালায়। এরপর বক্তাবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, সেনা-পুলিশ, ইপিআর, পেশাজীবী, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী, নারী, নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ হানাদার সেনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তাই এ যুদ্ধকে 'গণযুদ্ধ' বা 'জনযুদ্ধ' বলা হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
অপারেশন সার্চলাইট কী?
পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকাসহ কয়েকটি স্থানে যে ভয়াবহ গণহত্যা চালায়, তারই সাংকেতিক নাম ছিল অপারেশন সার্চলাইট।
উদ্দীপকে যে সরকারের কথা বলা হয়েছে তার গঠন কাঠামো ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে মুজিবনগর সরকারের কথা বলা হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর কয়েকদিন পর ১০ই এপ্রিল মুক্তিযুন্ম্পকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং এর পক্ষে বিশ্বসম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের অন্য মেয়েরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় 'মুজিবনগর সরকার' গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ চারজন সহযোগী এ সরকারের শীর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে "বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র" পাঠ করা হয় এবং সরকারের সদস্যরা শপথ নেন।
উদ্দীপকেও এমন একটি সরকারের কথা বলা হয়েছে যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্মা হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারের সাথে মুজিবনগর সরকারের মিল রয়েছে। এ সরকারের গঠন কাঠামো ডিল রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক: বকাব্য শেখ মুজিবুর রহমান; উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈাদে নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি); প্রধানমন্ত্রী: অজউদ্দীন আজাদ; অর্থমন্ত্রী: এস, মনসুর আলী; স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী: এ.এইচ. এম কামারুজ্জামান; পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী; খন্দকার মোশতাক আহমেদ। বফাকন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সরকারের সৃষ্ট দিক নিদেশনার বদৌলতেই বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে।
উদ্দীপকে স্মরণ সভায় তারামন বিবি যে শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন, স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকের তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধে নারী শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাদের ভূমিকা অপরিসীম।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাছাড়া প্রত্যেকেই নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করে। পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও ছিল গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের প্রত্যেক অঞ্চলে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল। এতে অনেকের মতো ছাত্রীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। এছাড়া অন্যান্য পেশাজীবী নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তাদের কেউ কেউ খেতাবপ্রাপ্ত তারামন বিবির মতো রণাফাণে গিয়ে বিভিন্নভাবে যুদ্ধে অংশ নেন। এছাড়া সর্বস্তরের সাধারণ নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা; আশ্রয় ও খাদ্য দেওয়া, খবর আদান-প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে সহায়তা করে মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রফিক তারামন বিবির স্মরণসভায় গিয়ে জানতে পারে, তার মতো অনেক মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে সম্ভ্রম হারান প্রায় তিন লক্ষ নারী। নারীরা মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্নভাবে সহায়তা ছাড়াও এভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা প্রকৃতই ছিল অনস্বীকার্য।

