• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

বাবা-মেয়ে টিভির সামনে বসে একটি গান শুনছিলেন।

তাদের দুজনের কথোপকথন:

মেয়ে: বাবা, লোকটি তো বিদেশি, তাহলে উনি 'বাংলাদেশ, বাংলাদেশ' বলে গাইছেন কেন?

বাবা: সে অনেক কথা। উনি একজন বিখ্যাত গায়ক। তিনি ১৯৭১ সালে কনসার্টে গান. গেয়ে বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিলেন।

মেয়ে: তিনি কি বাংলাদেশে এসেছিলেন?

বাবা: না, তিনি যে দেশের নাগরিক সে দেশের মতো বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছিল।

উদ্দীপকে যে গায়কের কথা বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে যে গায়কের কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন ব্রিটেন অর্থাৎ যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন। ১৯৭১ সালে সংঘটিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় তাণ্ডব বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়। পাকবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের চালানো হত্যাযজ্ঞ, লুটতরাজ, 'অগ্নিসংযোগ ও নারী ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ ও বিশিষ্ট ব্যক্তি সোচ্চার হয়ে ওঠেন। অনেকে বাংলাদেশের শরণার্থীসহ । আর্তপীড়িত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী 'জর্জ হ্যারিসনও তাদেরই একজন। তিনি ভারতের বিশ্বখ্যাত বাঙালি সেতারবাদক রবিশংকরসহ কয়েকজনকে নিয়ে শরণার্থীদের । সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে সঙ্গীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

'নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' নামে ওই অনুষ্ঠানে জর্জ হ্যারিসন যুদ্ধকবলিত মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে গান পরিবেশন করেন। এ অনুষ্ঠান থেকে ওঠা অর্থ মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থীদের দেওয়া হয়। উদ্দীপকের বাবা ও মেয়ের কথোপকথনে গায়ক জর্জ হ্যারিসনের কথাই উঠে এসেছে। তার 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' তহবিল গঠন ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। তাই বলা যায়, পাশ্চাত্যের সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

গণযুদ্ধ কাকে বলে?

যে যুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করে তাকে গণযুদ্ধ বলে।

#

২৫শে মার্চের রাতকে 'কালরাত্রি' বলা হয় কেন?

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালিদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল বলে এ রাতকে 'কালরাত্রি' বলা হয়।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা এ রাতে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানায় ইপিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, পুরনো ঢাকায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা করে নৃশংস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এজন্য বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫শে মার্চ 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।

#

বাবার শেষোক্ত উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপকে উল্লেখিত বাবার শেষ উক্তিটি যথার্থ।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়। ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক দেশ ও যুক্তরাজ্যসহ অনেক বিদেশি রাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের প্রতি 'সমর্থন জানায়। উদ্দীপকের বাবার বক্তব্যে একথাটিই ফুটে উঠেছে। - 'তিনি বলেছেন, সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের দেশ যুক্তরাজ্যের মতো বিশ্বের অনেক দেশ মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছিল।

ব্রিটেনের প্রচার মাধ্যম, বিশেষ করে বিবিসি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার নৃশংস চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে। এটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্রিটিশ সরকারও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। ব্রিটেনের' রাজধানী লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। ব্রিটেন ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও কানাডার প্রচার মাধ্যমগুলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সাহায্য করে।

প্রতিবেশি দেশ ভারত মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় এবং "মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র-সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করে। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণেই পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে রাধ্য হয়। আবার সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) 'জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তোলা যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব 'ভেটো' দিয়ে আটকে দেয়। কিউবা, তৎকালীন যুগোস্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, পূর্ব জার্মানি প্রভৃতি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রও বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে' সমর্থন জানায়।

এ আলোচনা থেকে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি রাষ্ট্রের সহায়তা বিষয়ে উদ্দীপকের বাবার শেষোস্ত উক্তিটি অত্যন্ত যৌক্তিক।