• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

একটি রাষ্ট্রের 'ক' এলাকা দীর্ঘদিন ধরে 'খ' এলাকাকে বিভিন্ন অজুহাতে নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আসছে। এতে 'খ' এলাকার একজন মহান নেতা তার দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সফলতাকে কাজে লাগান এবং এলাকার জনগণকে একত্রিত করে বঞ্চনার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার প্রেরণা হিসেবে একটি ভাষণ প্রদান করেন। তার প্রতি ক্ষুদ হয়ে 'ক' এলাকার শাসক তাকে আটক করে। পরবর্তীতে কিছু বিজ্ঞ সহকর্মী তাকে প্রধান রেখেই নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে তার ভাষণকে বাস্তবে রূপ দেন।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল এক দিক নির্দেশনামূলক যুগান্তকারী ভাষণ।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ পূর্ব পাকিস্তানের জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। এ ভাষণের মাধ্যমে বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। মুক্তিপাগল বাঙালি এ ভাষণের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিল স্বাধীনতার পূর্বাভাস। ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সুতরাং এ কথা অনস্বীকার্য যে, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বজাবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

যৌথ কমান্ড কী?

মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে যে কমান্ড গঠন করে তাকে 'যৌথ কমান্ড' বলে।

#

উদ্দীপকে উল্লেখিত 'খ' এলাকার মহান নেতার ভাষণটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন দিকটি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে উল্লেখিত 'খ' এলাকার মহান নেতার ভাষণটি আমার পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে নির্দেশ করে।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা না দেওয়ার জন্য নানা চক্রান্ত শুরু করে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় ৩রা মার্চ অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন মাত্র দুদিন আগে স্থগিত ঘোষণা করেন। পূর্ব বাংলার জনগণ এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। এমন প্রেক্ষাপটেই বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়াদী উদ্যান) বিশাল জনসভায় এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে যুদ্ধের জন্য তৈরি হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ নামে পরিচিত।

উদ্দীপকেও দেখা যায়, 'খ' এলাকার জনগণ 'ক' এলাকা কর্তৃক শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হয়। এই বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে 'খ' এলাকার একজন মহান নেতা তার দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সফলতাকে কাজে লাগান। তিনি জনগণকে একত্রিত করে শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে স্বাধীনতা অর্জনের প্রেরণা হিসেবে একটি ভাষণ দেন। এ থেকে স্পষ্ট 'খ' এলাকার উক্ত ভাষণটি উপরে বর্ণিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণের অনুরূপ।

#

তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকে বর্ণিত কার্যক্রম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সরকারকে ইঙ্গিত করে? মতামত দাও।

হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে বর্ণিত কার্যক্রম বাংলাদেশের স্বাধীনতা | যুদ্ধকালীন সরকারকে ইঙ্গিত করে।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরের দিন অর্থাৎ ২৭শে মার্চ তারিখে তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা প্রচারিত হলে সর্বস্তরের জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে ১৯৭০ সালের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক করা হয়। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পক্ষে, মানমত। গঠনে কার্যকর নেতৃত্ব দেয়। মুজিবনগর সরকারের সুদক্ষ নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বে আত্মপ্রকাশ করে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, 'খ' এলাকার মহান নেতা 'ক' এলাকার শাসকগোষ্ঠীর শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে তার জনগণকে প্রেরণাদায়ী ভাষণের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভে উদ্বুদ্ধ করেন। শাসকগোষ্ঠী ক্ষুদ্ধ হয়ে উক্ত নেতাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী সময়ে তার কিছু বিজ্ঞ সহকর্মী তাকে প্রধান রেখে নিজেরা বিভিন্ন দায়িত্ব নেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে 'খ' এলাকার স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন। উদ্দীপকে বর্ণিত এই 'খ' এলাকার নেতার সহকর্মীদের কার্যকলাপ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের উদ্যোগগুলোরই অনুরূপ। তাই বলা যায় উদ্দীপকে বর্ণিত কার্যক্রম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সরকারকেই ইঙ্গিত করে।