• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সদ্যপ্রয়াত কালজয়ী বন্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী ছিলেন। তার গানে-অনুপ্রাণিত হয়ে সকল পেশার লোক ও' সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়। তাদের এসকল কার্যক্রম পরিচালনাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ, প্রশিক্ষণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে একটি দেশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

উদ্দীপকের প্রথম ব্যক্তি যে মাধ্যমে কাজ করতেন, মুক্তিযুদ্ধে উক্ত মাধ্যমের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকের প্রথম ব্যক্তি স্বাধীন বাংলা বেতারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সুতরাং তার কাজের ক্ষেত্রটি হলো গণমাধ্যম।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যম বিশাল ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২৬শে মার্চ চট্টগ্রামের বেতার শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। পরে এটি মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এই বেতার কেন্দ্র সংবাদ, কথিকা, দেশাত্মবোধক গান ইত্যাদি প্রচারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল চাঙ্গা রাখত। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ বাংলার মানুষ রণাঙ্কানে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও সাফল্যের কথা শুনে ভরসা পেত। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো যুদ্ধের খবর প্রচার ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুক্তরাজ্যের বিবিসি ও ভারতের আকাশবাণী'র মতো সম্প্রচার মাধ্যম এবং বিদেশি সংবাদপত্রগুলোর অবদানও ছিল উল্লেখযোগ্য।

উদ্দীপকের কালজয়ী কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী ছিলেন। তিনি গান গেয়ে অগণিত মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। আব্দুল জব্বারের মতো অনেক বিশিষ্ট শিল্পী গণমাধ্যমের সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধের সময় এভাবে মানুষকে সাহস জুগিয়েছেন। তাদের দেশাত্মবোধক সঙ্গীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তাই বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় বেতার, টিভি ও সংবাদপত্রের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা গণমাধ্যম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কত তারিখে ছাত্রসমাজ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে?

২রা মার্চ ছাত্রসমাজ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে।

#

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে গণযুদ্ধ বলা হয় কেন?

মুক্তিযুদ্ধে বাংলার সব শ্রেণির তথা গণমানুষের অংশগ্রহণ ছিল বলে একে গণযুদ্ধ বলা হয়।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র জনগণের উপর আক্রমণ চালায়। এরপর বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, সেনা-পুলিশ, ইপিআর, পেশাজীবী, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী, নারী, নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ হানাদার সেনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তাই এ যুদ্ধকে 'গণযুদ্ধ' বা 'জনযুদ্ধ' বলা হয়।

#

স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের দেশটির ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

উদ্দীপকে নির্দেশিত দেশটি হলো বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী ভারত। এ দেশটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসরা বাংলাদেশ জুড়ে নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। ভারত মুক্তিযুদ্ধে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বহির্বিশ্বে এ বিষয়গুলো প্রচার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীকে রুখে দাঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এসময় ভারত সরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে ত্রিপুরা ও মেঘালয়সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের তরুণ-যুবকদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়।

পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রায় ১ কোটি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার যুদ্ধের সময়জুড়ে তাদের আশ্রয় ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে। এছাড়া কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলে যৌথ কমান্ড গঠন করে। এই যৌথবাহিনীর তীব্র আক্রমণের ফলেই কোণঠাসা হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ পায় স্বাধীনতা।

উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি দেশ বেতারকেন্দ্র পরিচালনায় সহায়তার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয় ও অস্ত্র সরবরাহ করে। দেশটির এই তৎপরতা মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সরকার ও জনগণের সহযোগিতার প্রতিই ইঙ্গিত করে। সুতরাং একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের দেশটির ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।