- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
নিয়াজ বিদ্যালয়ে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে একটি দেশের অস্থায়ী সরকারের ইতিহাস জানতে পারে। উক্ত সরকারের ছয়জন উপদেষ্টার ছবি এবং তাদের কার্যক্রমের বর্ণনা দেখে তার ইতিহাস জানার কৌতূহল আরও বেড়ে যায়।
"উদ্দীপকের অনুরূপ সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাণস্বরূপ" বিশ্লেষণ করো।
'উদ্দীপকের অনুরূপ সরকার অর্থাৎ মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রাণস্বরূপ'- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমর্থন আদায়ে এ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে দেশকে ১১ টি সেক্টরে ও' সাব-সেক্টরে ভাগ করে। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোর্স বা বাহিনী গঠন করা হয়। মুজিবনগর সরকারের আহ্বানে প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে। মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন- দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, স্টকহোম) বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে। এসব মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি ইউরোপ ও আমেরিকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এসব কর্মকান্ডের ফলে একদিকে দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিসেনারা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে, অপরদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে জনমত তৈরি হয়। সর্বোপরি এ সরকারের সুদক্ষ পরিচালনার মাধ্যমেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, মুজিবনগর সরকার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাণস্বরূপ।

