• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা

'ক' দেশ
'খ' দেশ
শরণার্থীকে আশ্রয়
বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করা
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ
সহানুভূতিশীল হওয়া
মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রচারের প্রধান কেন্দ্র

মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২৬শে মার্চ তৎকালীন চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। এ কেন্দ্র থেকে যুদ্ধক্ষেত্রের সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা ইত্যাদি প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করা হতো। এ ছাড়া মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকা মুক্তিযুদ্ধের খবরাখবর প্রচারে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে। বিদেশি গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

#

উদ্দীপকে 'খ' দেশটিকে কোন দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

ছকচিত্রের 'খ' দেশটি হলো গ্রেট ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্য।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বিশ্ব বিবেককে হতবাক করে দেয়। বিভিন্ন দেশ পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এদেশীয় দোসরদের চালানো হত্যাযজ্ঞ, নারী নির্যাতন ও লুটতরাজ-অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। সেইসাথে তারা মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানায়। যুক্তরাজ্য ছিল এ দেশগুলোর অন্যতম।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের ন্যায্য দাবির প্রতি যুক্তরাজ্য সমর্থন জানিয়ে আসছিল। দেশটির প্রচার মাধ্যমে বিশেষত বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকায় ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ২৫শে মার্চের নির্মম গণহত্যার চিত্র উঠে আসে। সাহসী ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই গণহত্যার সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ সাংবাদিকরা বাঙালির প্রতিরোধ লড়াই, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের করুণ অবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ইত্যাদির চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। পাশ্চাত্যের আরো কিছু দেশের সংবাদকর্মীরাও এ কাজে যুক্ত ছিলেন। তবে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন ছিল পুরো বিশ্বের কাছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা লন্ডন থেকে এর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। ছকচিত্রের 'খ' 'দেশও বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করা, সহানুভূতি প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রচারের প্রধান কেন্দ্র হওয়া ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। এগুলো যুক্তরাজ্যের তখনকার ভূমিকার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, ছকচিত্রে 'খ' দেশ বলতে যুক্তরাজ্যকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

#

তুমি কি মনে কর, 'ক' দেশটি আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছিল? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

ছকচিত্রের 'ক' দেশটি হলো ভারত। হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এ দেশটি প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছিল।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসরদের নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত ছিল। ভারতীয় প্রচারণাধ্যম এ সংবাদ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে।

বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীকে রুখে দাঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে ত্রিপুরাসহ ভারতের মাটিতে বাঙালি তরুণ-যুবকদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়, যা নভেম্বর পর্যন্ত চালু ছিল। এ ছাড়া পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাযজ্ঞ ও নির্মম অত্যাচার থেকে বাঁচতে গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে লাখ-লাখ বাঙালি সীমান্ত পেরিয়ে' ভারতোন আশ্রয় নেয়। এসব বাঙালি শরণার্থীকে সাহায্যের জন্য ভারত সরকার, তাদের সীমান্ত খুলে দেয়। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে পশ্চিমবাংলা, বিহার, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় শরণার্থী শিবির খোলা। হ্যা। পাশাপাশি কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। ছকচিত্রে দেখা যায়, 'ক' দেশ শরণার্থীদের আশ্রয়দান, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করে। 'ক' দেশের এই কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সরকার ও জনগণের সহযোগিতাকেই মনে করিয়ে দেয়।

উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, ছকচিত্রের 'ক' দেশ অর্থাৎ ভারত ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে। ভারতের সার্বিক সহযোগিতা মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব করে তুলেছিল।