- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা
'ক' দেশ | 'খ' দেশ |
|---|---|
শরণার্থীকে আশ্রয় | বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করা |
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ | সহানুভূতিশীল হওয়া |
মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ | মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রচারের প্রধান কেন্দ্র |
উদ্দীপকে 'খ' দেশটিকে কোন দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ছকচিত্রের 'খ' দেশটি হলো গ্রেট ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্য।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বিশ্ব বিবেককে হতবাক করে দেয়। বিভিন্ন দেশ পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এদেশীয় দোসরদের চালানো হত্যাযজ্ঞ, নারী নির্যাতন ও লুটতরাজ-অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। সেইসাথে তারা মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানায়। যুক্তরাজ্য ছিল এ দেশগুলোর অন্যতম।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের ন্যায্য দাবির প্রতি যুক্তরাজ্য সমর্থন জানিয়ে আসছিল। দেশটির প্রচার মাধ্যমে বিশেষত বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকায় ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ২৫শে মার্চের নির্মম গণহত্যার চিত্র উঠে আসে। সাহসী ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই গণহত্যার সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ সাংবাদিকরা বাঙালির প্রতিরোধ লড়াই, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের করুণ অবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ইত্যাদির চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। পাশ্চাত্যের আরো কিছু দেশের সংবাদকর্মীরাও এ কাজে যুক্ত ছিলেন। তবে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন ছিল পুরো বিশ্বের কাছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা লন্ডন থেকে এর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। ছকচিত্রের 'খ' 'দেশও বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করা, সহানুভূতি প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রচারের প্রধান কেন্দ্র হওয়া ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। এগুলো যুক্তরাজ্যের তখনকার ভূমিকার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, ছকচিত্রে 'খ' দেশ বলতে যুক্তরাজ্যকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

