- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা
'ক' দেশ | 'খ' দেশ |
|---|---|
শরণার্থীকে আশ্রয় | বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করা |
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ | সহানুভূতিশীল হওয়া |
মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ | মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রচারের প্রধান কেন্দ্র |
তুমি কি মনে কর, 'ক' দেশটি আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছিল? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
ছকচিত্রের 'ক' দেশটি হলো ভারত। হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এ দেশটি প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছিল।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসরদের নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত ছিল। ভারতীয় প্রচারণাধ্যম এ সংবাদ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে।
বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীকে রুখে দাঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে ত্রিপুরাসহ ভারতের মাটিতে বাঙালি তরুণ-যুবকদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়, যা নভেম্বর পর্যন্ত চালু ছিল। এ ছাড়া পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাযজ্ঞ ও নির্মম অত্যাচার থেকে বাঁচতে গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে লাখ-লাখ বাঙালি সীমান্ত পেরিয়ে' ভারতোন আশ্রয় নেয়। এসব বাঙালি শরণার্থীকে সাহায্যের জন্য ভারত সরকার, তাদের সীমান্ত খুলে দেয়। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে পশ্চিমবাংলা, বিহার, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় শরণার্থী শিবির খোলা। হ্যা। পাশাপাশি কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। ছকচিত্রে দেখা যায়, 'ক' দেশ শরণার্থীদের আশ্রয়দান, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করে। 'ক' দেশের এই কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সরকার ও জনগণের সহযোগিতাকেই মনে করিয়ে দেয়।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, ছকচিত্রের 'ক' দেশ অর্থাৎ ভারত ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে। ভারতের সার্বিক সহযোগিতা মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব করে তুলেছিল।

