- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
চার বছর বয়সের মণি বারবার তার মায়ের কাছে বাবার খোঁজ নেয়। মা বলে, বাবা জানোয়ারদের সাথে যুদ করতে গিয়েছে। মণির মা নয় মাস সন্তানকে নিয়ে অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটালেন। অবশেষে ডিসেম্বর মাসের এক সকালে লাল-সবুজ পতাকা যাতে তার বাবাকে ফিরে পেল মণি।
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন।
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা বর্ণনা করো।
মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল।
১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে গঠিত হওয়া সংগ্রাম পরিষদে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্রচালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। অপরদিকে, সহযোদ্ধা হিসেবে নারীরা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রুষা; তাদের আশ্রয়দান ও শত্রুপক্ষের তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে ময়িার বাবা যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন সে যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে বর্ণিত মণির বাবা ১৯৭১ সালে সংঘটিত আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর নানারকম অন্যায়, অবিচার, নিপীড়ন চালাতে থাকে। এ সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, প্রশাসনিক প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক আচরণ ও বঞ্চনা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে মুক্তি দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ৬-দফা দাবি উত্থাপন করেন। পাকিস্তানি শাসকেরা তার, এই দাবিকেও প্রত্যাখ্যান করে এবং বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা মামলা দায়ের করে। এর প্রতিবাদে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনের মুখে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী মামলা প্রত্যাহার করে এবং স্বৈরাচারী আইয়ুব খান পদত্যাগে বাধ্য হন।
১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রেীয়, ও প্রাদেশিক পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। ফলে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ৭ই মার্চের ভাষণে তিনি সকলকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি হানাদাররা রাতের অন্ধকারে বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এদেশের নিরীহ বাঙালির ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মৈজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে' স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বক্তাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এদেশের মুক্তিপাগল জনগোষ্ঠী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মণির বাবা তাদেরই একজন। সুদীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযোদ্ধাদের কঠিন সংগ্রাম আর আত্মত্যাগে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
"মণির বাবার মতো অন্যরাও উক্ত যুদ্ধের ফলাফলের নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে"- বিশ্লেষণ করো।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ যুদ্ধজয়ের নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল, যাঁদের মধ্যে মণির বাবা ছিলেন একজন।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকু হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর - অতর্কিত আক্রমণ চালায়। বাঙালি ছাত্র, জনতা, পুলিশ তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। তা সত্ত্বেও ওই রাতে পাকিস্তানি হানাদাররা এদেশের অসংখ্য নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে। এ প্রেক্ষিতে দেশপ্রেমে বলীয়ান, অসীম সাহসী এবং আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ এদেশের জনগণ মৃত্যুকে তুচ্ছ করে যুদ্ধে যোগদান করে। উদ্দীপকের মণির বাবাও সে রকমই একজন সাহসী যোদ্ধা। দেশের স্বাধীনতার জন্য চার বছরের শিশু সন্তান ও স্ত্রীর মায়া কাটিয়ে তিনি অসীম সাহসে যুদ্ধে যোগদান করেন। তবে মণির বাবার মতো মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ জনগণও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের বাঙালি অংশগ্রহণ করে। ফলে এ যুদ্ধ গণযুদ্ধ বা জনযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক ছিল জনগণ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র, পেশাজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ স্বকীয় অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দান; শত্রুর অবস্থান ও চলাচলের তথ্য, খাবার, ওষুধ প্রভৃতি সরবরাহ করে নানাভাবে সহায়তা করেছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে এদেশের আপামর জনসাধারণও মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সমান ভূমিকা রেখেছে।

