• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

চোখের সামনে রাজাকার, আলবদররা সখিনার স্বামী আর সন্তানকে হত্যা করে এবং তাকে ক্যাম্প নিয়ে গিয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। প্রতিশোধের আগুনে প্রজ্জ্বলিত হয় সখিনা। একদিন সে বুকে পিঠে বোমা বেধে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাক ক্যাম্পটি ধ্বংস করে দেয়। এভাবে সখিনার মতো নারীর আত্মত্যাগে রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধের আরো একটি সাফল্য গাথা। এমনিভাবে সর্বস্তরের বাঙালির অংশগ্রহণে গণযুদ্ধের মাধ্যমেই আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ- তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ।

বাংলার সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মুক্তিযুদ্ধকে এক অনন্য মাত্রা দান করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ, তাই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র, পেশাজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রমণ চালায় বাঙালি ছাত্র-জনতা, পুলিশ, ইপিআর সাহসিকতার সাথে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বিনা প্রতিরোধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বাঙালিরা ছাড় দেয়নি। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে বহু মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে শহিদ হন। আবার অনেকে গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হন।

এদেশের লাখো মুক্তিযোদ্ধা দেশকে শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্যে মৃত্যুকে তুচ্ছ করে যুদ্ধে যোগদান করেছিল। তারা ছিল দেশপ্রেমিক, অসীম সাহসী এবং আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক, পুলিশ, আনসার, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল স্তরের মানুষ সর্বাত্মকভাবে অংশগ্রহণ করেছিল বলেই মাত্র নয় মাসে স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()