- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব 'ক' এর. দল নির্বাচনে জয়লাভ করলেও কেন্দ্রীয় সরকার তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। এতে জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তারা কঠোরভাবে দমনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। ফলে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে যুদ্ধের রূপ ধারণ করে। জনাব 'ক' এর দল স্বাধীনতা ঘোষণা করলে আপামর জনগণ তাতে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। অবশেষে তার দেশ স্বাধীন হয়।
'মুক্তিকামী জনগণের সহযোগিতা ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন অসম্ভব'- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
মুক্তিকামী জনগণের সহযোগিতা ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন অসম্ভব- উক্তিটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
রাষ্ট্রের অন্যতম, গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে জনগণ। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা ও পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। সাধারণ জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা ও স্বাধীনতার প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছাড়া কোনো দেশ ও জাতিই স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে না। বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্র এর বাস্তব প্রমাণ।
বাঙালি জাতির ঐকান্তিক আকাঙ্ক্ষার ফলেই মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সম্পূর্ণ পর্যুদস্ত করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। দীর্ঘ চব্বিশ বছর পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে বাঙালি জনগোষ্ঠী। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অধিকার আদায়ে সোচ্চার হলেও তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে ১৯৭১ সালে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাস এ দেশের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী তথা আপামর জনসাধারণ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে।
মুষ্টিমেয় কুচক্রী এদেশীয় কিছু দোসর ছাড়া ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিল বলেই স্বাধীনতাকামী জনগণের ত্যাগের মাধ্যমেই মুক্তি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

