- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব 'ক' আফ্রিকার একটি দেশে খাস করেন। 'দেশটির স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই তিনি সেখানে বাস করতেন। দেশটিতে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তা পরিচালনার জন্য নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। এই 'সরকারের কাজ ছিলো মুক্তিযুদ্ধকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং এর পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করা। যুদ্ধ পরিচালনায় তারা পুরো দেশকে ১১টি অংশে ভাগ করে।
মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা বর্ণনা করো।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এদেশের ছাত্রসমাজ। এদেশের শিক্ষার্থীদের বিরাট অংগ জীবনের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে-অংশ নেয়। এমনকি মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে' তাদের সংখ্যাই ছিল সম্বচেয়ে বেশি। কার্যত মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রসমাজের আত্মত্যাগ ছাড়া বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তো।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
কত তারিখে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়?
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।
জনাব 'ক' এর দেশের সরকারের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সরকারের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
জনাব 'ক'-এর দেশের সরকারের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব 'ক'-এর দেশটিতে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তা পরিচালনার জন্য নির্বাচনে জরী প্রার্থীদের দিয়ে একটি অস্থায়ী' সরকার গঠিত হয়। এখানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম 'কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর কয়েকদিন পর ১০ই এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং এর পক্ষে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের জন্য মেহেরপুর জেলার (তখন কুষ্টিয়া জেলা) বৈদ্যনাথতলায় 'মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ চারজন সহযোগী এ সরকারের শীর্ষ দায়িত্বে ছিলেন। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।
উদ্দীপকের আলোকে মুক্তিযুদ্ধে অস্থায়ী সরকারের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকের আলোকে মুক্তিযুদ্ধকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং এর পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে মুজিবনগর সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বক্তাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এ সরকার পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী ইপিআর (পরে বিডিআর ও বর্তমানে বিজিবি) বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্য এবং দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে এ সরকার দেশকে ১১ টি সেক্টর ও কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোর্স বা বাহিনী গঠন করা হয়। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের আজানে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযো্যাদের প্রশিক্ষণ ও। অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে।
এছাড়া মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন- দিল্লি, 'লন্ডন, নিউইয়ার্ক, ওয়াশিংটন, ঊকযোয়) কূটনীতিকদের পাঠায়। বিদেশের মিশন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এজন্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে সরকারের বিশেষ দূত ছিলেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এসব রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে জনমত তৈরি হয়। মূলত মুজিবনগর সরকারের সুদক্ষ পরিচালনার মাধ্যমেই দীর্ঘ নয় মাস রস্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

