• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে। ১৯৭১ সালের' ১০ এপ্রিল উষ্ণ নির্বাচনি বিজয়ী রাঙালি সদস্যগণ অস্থায়ী সরকার গঠন করে। উক্ত সরকার ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের নানাবিধ কার্যক্রম ও দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ তার গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

কখন অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়?

১৯৭১ সালের ২রা মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল।

১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ 'করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সন্ত্রাসরি মুক্তিযুদ্ধের অংশ নেন। অপরদিকে সহযোদ্ধা হিসেবে আহত মুষ্টিযোদ্ধাদের, সেবা- সুশৃঙ্খা, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এদেশের অগণিত নারী মুক্তিসেন।

#

উদ্দীপকে যে সরকারের আলোকপাত করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে মুজিরনগর সরকারের কথা বলা হয়েছে।'

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু ষয়। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে মুজিবনগর সরকার 'গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল এ সরকারের সদস্যরা মেহেরপুরের মুজিবনগরে (তৎকালীন বৈদ্যনাথতলা) শপথ গ্রহণ করেন। এ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দীন আহমদ। অর্থমন্ত্রী এম., মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ। এই সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদও গঠিত হয়। এই সরকারের ক্রমান্ড ও দিকনির্দেশনাতেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

উদ্দীপকের বলা হয়েছে, ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালে ১০ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে।এ সরকারের কার্যক্রম ও দিকনির্দেশনাতেই বাংলাদেশ চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জন করে। উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকারের গঠন, শপথ গ্রহণ ও কার্যকর্মের সাথে মুজিবনগর সরকারের সামঞ্জস্য রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মুজিবনগর সরকারের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

#

উক্ত সরকারের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকের আলোকে মুক্তিযুদ্ধকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এরঃ এর পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে মুজিবনগর সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এ সরকার পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী ইপিআর (পরে বিডিআর ও বর্তমানে বিজিবি) বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্য এবং দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে এ সরকার দেশকে ১১ টি সেক্টর ও কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোর্স বা বাহিনী গঠন করা হয়। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের আহ্বানে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে।

এছাড়া মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন- দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, স্টকহোম) কূটনীতিকদের পাঠায়। বিদেশের মিশন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এজন্য। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে, বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এসব রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিকানি তৎপরতার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে জনমত তৈরি হয়। মূলত মুজিবনগর সরকারের সুদক্ষ পরিচালনার মাধ্যমেই, দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।