• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ঘটনা-১: মুক্তিযুদ্ধ শুরুর ১৫ দিন পরে একটি সরকার গঠন করা হয়। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়।

ঘটনা-২: রবি তার মাকে বাবার কথা জিজ্ঞাসা করলে, মা বলেন, "তোর বাবা যুদ্ধ করতে গিয়েছেন। কয়েক মাস যুদ্ধ করে বছরের. শেষের দিকে তোর বাবা লাল-সবুজ পতাকা হাতে ফিরে আসেন।"

তুমি কি মনে কর, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে শুধুমাত্র রবির বাবার মতো লোকেরাই অংশগ্রহণ করেছিল? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

না, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে শুধুমাত্র রবির বাবার মত লোকেরাই অংশগ্রহণ করেনি।

উদ্দীপকে উল্লেখিত রবির বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন একজন ছাত্র বা সাধারণ পুরুষ মানুষের 'প্রতিনিধি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রবির বাবার মতো লোক ছাড়াও সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ কেরেছিল।

শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মীসহ সব শ্রেণির মানুষ অস্ত্রহাতে প্রত্যক্ষভাবে অথবা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। পাশাপাশি নারী সমাজ, গণমাধ্যম, প্রবাসী বাঙালি, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং আপামর জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী ভারতের অনেক সেনাও যুদ্ধে অংশ নেন। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীও অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রুষা ও তথ্য সরবরাহের কাজ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের ঘটনা, রণাজানের খবর দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়াতে অবদান রাখে। এছাড়া প্রবাসী বাঙালিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানি হানাদারদের গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন করেন। শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা অনুপ্রেরণামূলক গান, কবিতা, নাটক, কথিকা, চিত্রকর্ম ইত্যাদির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা তথা দেশবাসীকে উজ্জীবিত করতেন।

উপরের আলোচনার ভিত্তিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা সমাজের অর্জন নয়; বরং সব শ্রেণির মানুষের অবদান ও তাদের অনেকের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অজিত হয়েছে এ স্বাধীনতা।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ঘটনা-১ এর সরকারটি বর্ণনা করো।

ঘটনা-১ এ মুজিবনগর সরকারের কথা বলা হয়েছে।

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর কয়েকদিন পর ১০ই এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং এর পক্ষে বিশ্বসম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের জন্য মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় 'মুজিবনগর সরকার' গঠন করা হয়। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ'।

উদ্দীপকেও এমন একটি সরকারের কথা বলা হয়েছে যা মুক্তিযুদ্ধ শুরুর ১৫ দিন পর অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয়। উদ্দীপকের সরকারের সাথে মুজিবনগর সরকারের মিল আছে। এ 'সরকারের 'কাঠামো ছিল' এরকম

১. 'রাষ্ট্রপতি ঔসিশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক: বক্তাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

২. উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)।

৩. প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ।

৪. অর্থমন্ত্রী: এম. মনসুর আলী।

৫. স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী: এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান।

৬. পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

এ সরকারের সুষ্ঠু দিক নির্দেশনার মাধ্যমেই বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।

#

গণযুদ্ধ কাকে বলে?

যে যুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করে তাকে গণযুদ্ধ বলে।

#

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতিসংঘ নীরব ভূমিকা নিয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

বিশ্ব শাস্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলেও ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এ বিশ্ব সংস্থা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি বরং শেষ দিকে যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়। প্রকৃতপক্ষে 'ভেটো' ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি দেশের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন) সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জাতিসংঘের নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহশের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। এজন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতিসংঘ নীরব ছিল।