- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'X' দেশের মুক্তিযুদ্ধ গণযুদ্ধে রূপ লাভ করেছিল। কারণ এই যুদ্ধে নারী, সংস্কৃতি কর্মী, গণমাধ্যম, প্রবাসী বাঙালি, বুদ্ধিজীবী সকলে যার যার অবস্থান থেকে অবদান রাখে। তারা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।
উদ্দীপক অনুসারে 'তারা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে' বিশ্লেষণ করো।
'তারা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে'- উক্তিটি যথার্থ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র-ছাত্রী পেশাজীবী, নারী, সংস্কৃতি কর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। সাধারণ জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছে, শত্রুর অবস্থান ও চলাচলের তথ্য দিয়েছে, খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করেছে, সেবা দিয়েছে। যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্পী-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মীর অবদান ছিল প্রশংসনীয়। সেক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল ধরে রাখতে তারা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এদেশীয় দোসররা ছাড়া সবাই কোনো না কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

