- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রায়খান ও ফারহখান দুই ভাই। রায়হান তার এলাকার মসজিদ সংলগ্ন একটি স্থানে শিশু ও বয়স্কদের শিক্ষা দেন। শিক্ষা দেন ইসলামের মৌলিক জ্ঞান, রীতিনীতি, আচার-আচরণ, আদব-আখলাক ইত্যাদি। আর ফারহান নিয়মিত সকালে কুরআন পড়েন, সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলেন, শালীন পোশাক পরিধান করেন। তিনি কারো সাথে দেখা হলে সালাম দেন, যে কোনো ভালো কাজ আল্লাহর নামে শুরু করেন।
ফারহানের কর্মকাণ্ড মূলত কী? তার ফলাফল বিশ্লেষণ করো।
ফারহানের কর্মকান্ডে ইসলামি সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যার ফলাফল অত্যন্ত শুভ।
ইসলাম অনুমোদিত ও কুরআন-হাদিসে নির্দেশিত মুসলমানদের জীবন পদ্ধতিই হলো ইসলামি সংস্কৃতি। ইসলামের মূলনীতি ও আদর্শের আলোকে এ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। পারস্পরিক সাক্ষাতে সালাম বিনিময় করা, ভালো কাজের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া, কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও চলাফেরায় শালীন ও মার্জিত হওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, মার্জিত ও শালীন পোশাক পরিধান করা, বড়দের শ্রদ্ধা ও ছোটদের স্নেহ করা ইত্যাদি ইসলামি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দিক। ফারহানের কর্মকাণ্ডে এর চিত্র ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায় ফারহান নিয়মিত সকালে কুরআন পড়েন, সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলেন, শালীন পোশাক পরিধান করেন। তিনি কারো সাথে দেখা হলে সালাম দেন, যে কোনো ভাল কাজ আল্লাহর নামে শুরু করেন। তার এরূপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামি সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যার ফলাফল অত্যন্ত শুভ। কারণ ইসলামি সংস্কৃতি একই সাথে আখিরাতমুখী এবং দুনিয়াভিত্তিক। এতে দুনিয়াকে উপেক্ষা বা অবজ্ঞা করা হয়নি বরং যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আখিরাতকে বলা হয়েছে মূলবিবেচ্য বিষয়। এভাবে ইসলামি সংস্কৃতি দু' পর্যায়েই প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে ব্যক্তির পার্থিব সাফল্য লাভ যেমন নিশ্চিত করেছে তেমনি নিশ্চিত করেছে পরকালীন মুক্তি। আবার ইসলামি সংস্কৃতি রাসুলুল্লাহ (স)-এর জীবনাদর্শভিত্তিক। যে জন্য এ সংস্কৃতির অনুশীলন মানে আল্লাহ তায়ালার প্রিয় হাবিবের জীবনাদর্শেরই অনুশীলন। এ অনুশীলন ব্যক্তির রাসুলপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। এর মাধ্যমে সে আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা পায়। ভালোবাসা পায় রাসুল্লাহ (স)- এর। কুরআনে এসেছে-
قُلْ إِنْ كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي
অর্থ: মুহাম্মদ (স) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহর ভালোবাসা চাও তাহলে আমাকে অনুসরণ করো (সূরা আলে ইমরান: ৩১)।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, ফারহানের কর্মকান্ড ইসলামি সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়-এর ফলস্বরূপ সে আল্লাহ ও রাসুল (স)-এর ভালোবাসা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য লাভ করতে পারবে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
ইবনে সিনা কে ছিলেন?
ইবনে সিনা একজন মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানী ছিলেন।
ইসলামি শিক্ষা 'ইহ-পরকালীন কল্যাণময় শিক্ষা'-ব্যাখ্যা করো।
ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করা
ইসলামি শিক্ষা দুনিয়া ও আখিরাতের সমন্বিত শিক্ষা। এ শিক্ষায় পার্থিব জগতের কল্যাণকে গুরুত্বহীন মনে করা হয় না। সাথে সাথে আখিরাতের জীবনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের দোয়া শিক্ষা, দিয়েছেন- হে অমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ দাও, পরকালেও দাও আর রক্ষা কর জাহান্নামের আজাব থেকে। (সুরা বাকারা: ২০১)
উদ্দীপকে মসজিদ সংলগ্ন স্থানটি কী? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের মকবুল আহমেদের গড়ে তোলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হলো 'মন্তব'।
আরবি 'মক্তব' শব্দের বাংলা অর্থ হলো লেখার স্থান, বিদ্যালয় বা শিক্ষাকেন্দ্র। এটি ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান ও মৌলিক বিষয়গুলো শেখার একটি আদর্শ স্থান। মক্তব বলতে সাধারণত সে প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেখানে ছোট ছোট মুসলিম ছেলেমেয়েদেরকে কুরআন তেলাওয়াত, হাদিস ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়। সাধারণত মসজিদের বারান্দায়, মাদরাসার সাথে, বৈঠকখানায় বা বাড়ির আঙিনায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। ইসলামের মূলগ্রন্থ আল কুরআন ও হাদিস ছাড়াও ওযু, গোসল, নামাজ, রোজা প্রভৃতির সঠিক নিয়মকানুন ও বিভিন্ন দোয়া শিক্ষা দেওয়া হয়। মক্তবের মাধ্যমে শিশুরা নিজেদের যোগ্য ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করে। এ মত্তবের শিক্ষা শিশুকে শৈশবেই নীতিবান করে তোলে। জনাব মকবুল এ ধরনের প্রতিষ্ঠানই গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মকবুল আহমেদ এলাকার মুরব্বি লোকদের সাথে আলোচনা করে সাপাহার গ্রামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কুরআন তেলাওয়াত, বিভিন্ন দোয়া ও মাসয়ালা শিক্ষা লাভ করে। এ ধরনের শিক্ষা মূলত মক্তবেই দেওয়া হয় । তাই বলা যায়, মকবুল আহমেদের গড়ে তোলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হলো মক্তব ।

