- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জনাব আশিক মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সুমেয় তাঁর বোন স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ছিলেন।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জনাব আশিক এর মতো শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জনাব আশিক এর মতো শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অপরিসীম।
পাকিস্তানের চব্বিশ বছরে বাঙালি জাতির স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সকল আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে এদেশের ছাত্রসমাজ। ১৯৪৮-১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ ও ১৯৬৪ সালের শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের। বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ছয় দফার আন্দোলন, ১৯৬৮ সালে ১১ দফার আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচন ও ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিরাট অংশ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। অনেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করে। মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। মুক্তিবাহিনীর অনিয়মিত শাখার এক বিরাট অংশ ছিল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মুক্তিযুদ্ধের একপর্যায়ে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন -কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত হয় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজের আত্মত্যাগ ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হতো।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জনাব আশিক-মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তার মতো অসংখ্য ছাত্রের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মুজিবনগর সরকারের কয়টি মন্ত্রণালয় ছিল?
মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ছিল।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহ্লাসিক ভাষণ ছিল এক দিক নির্দেশনামূলক যুগান্তকারী ভাষণ।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ পূর্ব পাকিস্তানের জনমরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। এ ভাষণের মাধ্যমে বাঙালির আশা সারাজফা ব্যড় হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। মুক্তিপাগল বাঙালি এ ভাষণের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিল স্বাধীনতার পূর্বাভাস। ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সুতরাং এ কথা অনস্বীকার্য যে, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বক্তারপুর ৭ই মার্চেরী ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জনাব আশিক এর বোন যে মাধ্যমে কাজ করতো তার ভূমিকা অপরিসীম- বিশ্লেষণ করো।
জনাব আশিকের বোন গণমাধ্যমে কাজ করতেন। আর আমাদের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যম বিরাট ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। ২৬শে মার্চ চট্টগ্রামের বেতার শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। পরে এটি মুজিবনগর সরকারের কড়ার রেশ পরিচালিত হয়। এই বেতার কেন্দ্র সংবাদ, কথিকা, দেশাত্মবোধক গান ইত্যাদি প্রচারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল চাঙ্গা রাখত। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ বাংলার মানুষ রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও সাফল্যের কথা শুনে ভরসা পেত। বেতারে প্রচারিত বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যোগাত, তেমনিভাবে সাধারণ মানুষকেও মুক্তিযুদ্ধে 'অংশগ্রহণে অনুপ্রেরণা যোগাত।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব আশিকের বোন মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ছিলেন। উপরের আলোচনা থেকে জানা যায়, উত্ত বেতারটি ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন অন্যতম জনপ্রিয় ও সহজলভ্য গণমাধ্যম। অর্থাৎ বলা যায়, আশিকের বোন একটি গণমাধ্যমে কাজ করতেন।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ অন্যান্য গণমাধ্যম যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল।

